ঢাকা , বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ইরানে ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্রের সরঞ্জাম ও বিস্ফোরক পাঠাল রাশিয়া আমরা চিন্তাও করিনি, ইরান আমাদের ঘাঁটিগুলো ধ্বংস করে দেবে: মার্কিন জেনারেল মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী সতীশ চন্দ্র মারা গেছেন অস্ত্র হাতে মহড়া দেওয়া সেই ছাত্রদল নেতাকে ছেড়ে দিলো পুলিশ, থানা ঘেরাও জালিয়াতির অভিযোগে হান্নান মাসউদের এমপি পদ শূন্য ঘোষণা চেয়ে রিট প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিএনপির একটি গ্রুপের ‘ষড়যন্ত্রের’ বিচার চাইলেন এমপি বাবুল ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন্সে উচ্চস্বরে গান, মাদ্রাসাছাত্র-পুলিশের সংঘর্ষে আহত ৩০ তারেক রহমানের ভারত সফরের জন্য হাতে সময় খুবই কম: বীণা সিক্রি হান্নান মাসুদের সংসদ সদস্য পদ বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট দাবানলে কানাডার একটি প্রদেশের সমান বনভূমি পুড়ে ছাই

অস্ত্র হাতে মহড়া দেওয়া সেই ছাত্রদল নেতাকে ছেড়ে দিলো পুলিশ, থানা ঘেরাও

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৫৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

পাবনার ঈশ্বরদীতে কাফনের কাপড় জড়িয়ে লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র হাতে প্রকাশ্যে মহড়া দেওয়া সাবেক ছাত্রদল নেতা জুবায়ের হোসেন বাপ্পিকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। এর প্রতিবাদে থানা ঘেরাও ও সড়ক অবরোধ করেছেন বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের একাংশের নেতাকর্মীরা।

সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে বাপ্পিকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার পর মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় ঈশ্বরদী থানার সামনে অবস্থান নেন বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। পরে তারা সড়ক অবরোধ করলে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়।

অবরোধ থেকে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, শরিফুল ইসলাম তুহিন ও ইমরুল কায়েস সুমনসহ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বাপ্পিকে মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় ঈশ্বরদী থানার ওসি আশাদুর রহমানের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

রাত ৮টার দিকে বিএনপির কয়েকজন নেতা থানায় গিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার ও ওসি আশাদুর রহমানের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে অবরোধ স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়।

তবে থানা ফটকের সামনে আয়োজিত পথসভায় নেতারা জানান, প্রশাসনের ভূমিকায় তারা হতাশ হলেও আন্দোলন থেকে সরে যাবেন না।

ঈশ্বরদী থানার ওসি আশাদুর রহমান আসাদ জানান, জুবায়ের বাপ্পির বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। তাকে পাবনা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। পরে সোমবার রাতেই ডিবি তাকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়।

ওসি আরও জানান, বাপ্পির হাতে থাকা শটগানটি তার নিজের নামে লাইসেন্স করা। তবে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে মহড়া দেওয়ার ঘটনায় এর লাইসেন্স বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে।

এর আগে সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঈশ্বরদী শহরের কলেজ রোডে নিজের বাড়ি থেকে লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র হাতে বের হন বাপ্পি। মাথায় কাফনের কাপড় বাঁধা অবস্থায় তিনি প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক হেঁটে মহড়া দেন। এ সময় দাশুড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক সুলভ মালিথাকে তার পাশে হাঁটতে দেখা যায়।

পরে রেলগেটের জিরো পয়েন্টে গিয়ে বাপ্পি দাবি করেন, তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। হুমকিদাতাদের উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বক্তব্যও দেন তিনি। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি থানায় গেলে খবর পেয়ে ছাত্রদল, যুবদল ও জামায়াতে ইসলামীর একদল নেতাকর্মী থানায় গিয়ে তাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

একপর্যায়ে পুলিশ বাপ্পিকে হেফাজতে নেয়। পরে তাকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হলেও মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

কোনো সাংগঠনিক পদে না থাকলেও জুবায়ের হোসেন বাপ্পি নিজেকে ছাত্রদলের সাবেক নেতা হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্রের সরঞ্জাম ও বিস্ফোরক পাঠাল রাশিয়া

অস্ত্র হাতে মহড়া দেওয়া সেই ছাত্রদল নেতাকে ছেড়ে দিলো পুলিশ, থানা ঘেরাও

আপডেট সময় ১১:৫৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

পাবনার ঈশ্বরদীতে কাফনের কাপড় জড়িয়ে লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র হাতে প্রকাশ্যে মহড়া দেওয়া সাবেক ছাত্রদল নেতা জুবায়ের হোসেন বাপ্পিকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। এর প্রতিবাদে থানা ঘেরাও ও সড়ক অবরোধ করেছেন বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের একাংশের নেতাকর্মীরা।

সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে বাপ্পিকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার পর মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় ঈশ্বরদী থানার সামনে অবস্থান নেন বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। পরে তারা সড়ক অবরোধ করলে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়।

অবরোধ থেকে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, শরিফুল ইসলাম তুহিন ও ইমরুল কায়েস সুমনসহ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বাপ্পিকে মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় ঈশ্বরদী থানার ওসি আশাদুর রহমানের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

রাত ৮টার দিকে বিএনপির কয়েকজন নেতা থানায় গিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার ও ওসি আশাদুর রহমানের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে অবরোধ স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়।

তবে থানা ফটকের সামনে আয়োজিত পথসভায় নেতারা জানান, প্রশাসনের ভূমিকায় তারা হতাশ হলেও আন্দোলন থেকে সরে যাবেন না।

ঈশ্বরদী থানার ওসি আশাদুর রহমান আসাদ জানান, জুবায়ের বাপ্পির বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। তাকে পাবনা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। পরে সোমবার রাতেই ডিবি তাকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়।

ওসি আরও জানান, বাপ্পির হাতে থাকা শটগানটি তার নিজের নামে লাইসেন্স করা। তবে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে মহড়া দেওয়ার ঘটনায় এর লাইসেন্স বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে।

এর আগে সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঈশ্বরদী শহরের কলেজ রোডে নিজের বাড়ি থেকে লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র হাতে বের হন বাপ্পি। মাথায় কাফনের কাপড় বাঁধা অবস্থায় তিনি প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক হেঁটে মহড়া দেন। এ সময় দাশুড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক সুলভ মালিথাকে তার পাশে হাঁটতে দেখা যায়।

পরে রেলগেটের জিরো পয়েন্টে গিয়ে বাপ্পি দাবি করেন, তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। হুমকিদাতাদের উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বক্তব্যও দেন তিনি। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি থানায় গেলে খবর পেয়ে ছাত্রদল, যুবদল ও জামায়াতে ইসলামীর একদল নেতাকর্মী থানায় গিয়ে তাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

একপর্যায়ে পুলিশ বাপ্পিকে হেফাজতে নেয়। পরে তাকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হলেও মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

কোনো সাংগঠনিক পদে না থাকলেও জুবায়ের হোসেন বাপ্পি নিজেকে ছাত্রদলের সাবেক নেতা হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।