ঢাকা , বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
রাত পোহালে ঐতিহাসিক রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, আগেরদিন যা বললেন সিইসি অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে চীনা নাগরিকসহ আটক ২ শেখ হাসিনাকে ফেরত না দিলে ভারতের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক হবে না: ছাত্রদল নেতা আপনার লাশ ওই দীঘলি বিলে ভাসাব, ভূমি কর্মকর্তাকে আ.লীগ কর্মী ৩ মেয়েকে নিয়ে রিকশার হ্যান্ডেলে হেলেনার জীবনযুদ্ধ, সহায়তা ইউএনও’র যুদ্ধের মধ্যেও তেল বিক্রি করে ৭৫০ কোটি ডলার আয় ইরানের প্রবাসীর স্ত্রীর ওপর হামলা-ভাঙচুর: সেই কৃষক দল নেতা গ্রেপ্তার, দল থেকে বহিষ্কার প্রধানমন্ত্রীর কাজে সন্তুষ্ট ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ: ডপলার রিসার্চের জরিপ ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় দুই বিএনপি নেতাকে হত্যা করেন সাবেক এমপি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ’ শাইখ সিরাজকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠালেন বাউফলের সাংবাদিক মিলন

৩ মেয়েকে নিয়ে রিকশার হ্যান্ডেলে হেলেনার জীবনযুদ্ধ, সহায়তা ইউএনও’র

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:০২:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

বরিশাল নগরীর বাসিন্দা ও তিন কন্যার জননী অসহায় নারী রিকশাচালক হেলেনা বেগমের জীবনযুদ্ধটা অন্যদের থেকে ব্যাতিক্রম। তবে তাঁর এমন অবস্থায় পাশে দাঁড়িয়েছেন বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. ফরিদা সুলতানা। বেঁচে থাকার তাগিদে রিকশার হ্যান্ডেল ধরে যাত্রী নিয়ে নগরীতে ছুটে চলা হেলেনার জীবনসংগ্রামের কথা জানতে পেরে তাকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন ইউএনও।

 

আজ বুধবার হেলেনা বেগমকে নিজের কার্যালয়ে ডেকে তার হাতে একটি রেইনকোট, একটি মোবাইল ফোন ও কিছু শুকনো খাবার তুলে দেন ইউএনও। এ সময় তিনি ওই নারী রিকশাচালককে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

 

বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. ফরিদা সুলতানা আমার দেশকে বলেন, গত প্রায় ২ মাস আগে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের একটি গ্রুপ রিচার্জের জন্য সদর উপজেলায় এসেছিলেন। এসময় তাদের মাধ্যমে জানতে পারেন বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় এক নারী রিকশা চালক রয়েছেন। তার স্বামী বহু বছর আগে তাকে ডিভোর্স দিয়ে চলে গেছেন।

এখন তার সংসারে মাত্র তিন কন্যা সন্তানে রয়েছে। এক সন্তান লেখা পড়া করছে এবং বাকী দুই সন্তান কর্মহীন। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আশ-পাশ এলাকায় রিকশা চালান তিনি। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন রুপাতলী হাউজিং এলাকায় ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করছেন। বিষয়টি জানার ওই নারী রিকশা চালককে পেলে তার কাছে নিয়ে আসার অনুরোধ জানান ওই গ্রুপের সদস্যদের।

 

আজ দুপুরে হেলেনা বেগম নামের নারী ওই রিকশা চালকের দেখা মেলায় এক শিক্ষার্থী তাকে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। এ সময় তার সাথে আলাপ কালে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে তিন কন্যা সন্তানকে নিয়ে কোন ভাবে জীবন সংগ্রামে টিকে আছেন বলে জানতে পারেন। তিন কন্যা সন্তানকে রেখে ডিভোর্স দিয়ে স্বামীর চলে যাওয়ার পর ছোট ছোট তিন কন্যার এক মাত্র অবলম্বন হয়ে আছেন হেলেনা বেগম।

 

ইউএনও বলেন, এক নারীর এমন বাস্তবতায় একটি রেইনকোট তাঁর জন্য শুধু একটি উপহার নয়, বরং প্রতিকূল আবহাওয়ায় জীবিকা চালিয়ে যাওয়ার কিছুটা নিরাপত্তা। একইভাবে একটি মোবাইল ফোন ও শুকনো খাবারও তাঁর দৈনন্দিন জীবনে সামান্য হলেও স্বস্তি এনে দেবে বলে মনে করছেন তিনি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রাত পোহালে ঐতিহাসিক রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, আগেরদিন যা বললেন সিইসি

৩ মেয়েকে নিয়ে রিকশার হ্যান্ডেলে হেলেনার জীবনযুদ্ধ, সহায়তা ইউএনও’র

আপডেট সময় ১১:০২:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

বরিশাল নগরীর বাসিন্দা ও তিন কন্যার জননী অসহায় নারী রিকশাচালক হেলেনা বেগমের জীবনযুদ্ধটা অন্যদের থেকে ব্যাতিক্রম। তবে তাঁর এমন অবস্থায় পাশে দাঁড়িয়েছেন বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. ফরিদা সুলতানা। বেঁচে থাকার তাগিদে রিকশার হ্যান্ডেল ধরে যাত্রী নিয়ে নগরীতে ছুটে চলা হেলেনার জীবনসংগ্রামের কথা জানতে পেরে তাকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন ইউএনও।

 

আজ বুধবার হেলেনা বেগমকে নিজের কার্যালয়ে ডেকে তার হাতে একটি রেইনকোট, একটি মোবাইল ফোন ও কিছু শুকনো খাবার তুলে দেন ইউএনও। এ সময় তিনি ওই নারী রিকশাচালককে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

 

বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. ফরিদা সুলতানা আমার দেশকে বলেন, গত প্রায় ২ মাস আগে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের একটি গ্রুপ রিচার্জের জন্য সদর উপজেলায় এসেছিলেন। এসময় তাদের মাধ্যমে জানতে পারেন বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় এক নারী রিকশা চালক রয়েছেন। তার স্বামী বহু বছর আগে তাকে ডিভোর্স দিয়ে চলে গেছেন।

এখন তার সংসারে মাত্র তিন কন্যা সন্তানে রয়েছে। এক সন্তান লেখা পড়া করছে এবং বাকী দুই সন্তান কর্মহীন। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আশ-পাশ এলাকায় রিকশা চালান তিনি। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন রুপাতলী হাউজিং এলাকায় ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করছেন। বিষয়টি জানার ওই নারী রিকশা চালককে পেলে তার কাছে নিয়ে আসার অনুরোধ জানান ওই গ্রুপের সদস্যদের।

 

আজ দুপুরে হেলেনা বেগম নামের নারী ওই রিকশা চালকের দেখা মেলায় এক শিক্ষার্থী তাকে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। এ সময় তার সাথে আলাপ কালে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে তিন কন্যা সন্তানকে নিয়ে কোন ভাবে জীবন সংগ্রামে টিকে আছেন বলে জানতে পারেন। তিন কন্যা সন্তানকে রেখে ডিভোর্স দিয়ে স্বামীর চলে যাওয়ার পর ছোট ছোট তিন কন্যার এক মাত্র অবলম্বন হয়ে আছেন হেলেনা বেগম।

 

ইউএনও বলেন, এক নারীর এমন বাস্তবতায় একটি রেইনকোট তাঁর জন্য শুধু একটি উপহার নয়, বরং প্রতিকূল আবহাওয়ায় জীবিকা চালিয়ে যাওয়ার কিছুটা নিরাপত্তা। একইভাবে একটি মোবাইল ফোন ও শুকনো খাবারও তাঁর দৈনন্দিন জীবনে সামান্য হলেও স্বস্তি এনে দেবে বলে মনে করছেন তিনি।