ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদি পাঠ্যবই থেকে ‘মুসলিমরা জেরুজালেম কখনো ছেড়ে দেবে না’ বাক্য বাদ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:২০:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

সৌদি আরবের স্কুল পাঠ্যবই থেকে ‘মুসলিমরা কখনো জেরুজালেম ছেড়ে দেবে না’, এমন একটি বাক্য বাদ দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইমপ্যাক্ট-সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এ বরাতে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সংবাদ প্রকাশ করেছে মিডল ইস্ট আই।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাইয়ের শেষ দিকে প্রকাশিত সৌদি শিক্ষাক্রমের পর্যালোচনায় ইমপ্যাক্ট-সি জানায়, আগের পাঠ্যবইয়ে থাকা ওই বক্তব্যটি মুসলিমদের নিয়ন্ত্রণ বা জেরুজালেমে তাদের উপস্থিতি হুমকির মুখে রয়েছে, এমন ধারণা তৈরি করতে পারত। একই সঙ্গে এটি জেরুজালেমকে মুসলিম ও অন্যান্য গোষ্ঠী, বিশেষ করে ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতের কেন্দ্র হিসেবে উপস্থাপন করতে পারত বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।

 

ইমপ্যাক্ট-সি সৌদি পাঠ্যক্রমে ইহুদিবিদ্বেষ হিসেবে তারা যেসব বিষয় চিহ্নিত করেছিল, সেগুলোর সবকটিও বাদ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে।

মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সৌদি আরবের ২০২৫ সালের পাঠ্যবইয়ে কোরআন ও হাদিসের কিছু অংশ বাদ দেওয়াকেও ‘ইতিবাচক পরিবর্তন’ হিসেবে উল্লেখ করেছে ইমপ্যাক্ট-সি।

এর মধ্যে নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর এক অসুস্থ ইহুদি বালককে দেখতে যাওয়ার বহুল পরিচিত একটি হাদিসও রয়েছে। সংস্থাটির দাবি, এই উদাহরণ বাদ দেওয়ায় ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি শিক্ষার্থীদের দৃষ্টিভঙ্গিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এ ছাড়া অবিশ্বাস ও পাপসংক্রান্ত কোরআনের কিছু আয়াত সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে ইসলামকে মানবজাতির স্বাভাবিক ধর্ম হিসেবে শিক্ষার্থীদের শেখানোর বিষয়টি নিয়ে সংস্থাটি সমালোচনা করেছে।

ইমপ্যাক্ট-সির দাবি, আগের কিছু মানচিত্রে ইসরায়েলকে দেখানো হতো না এবং পুরো ভূখণ্ডকে ‘ফিলিস্তিন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হতো। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে পুরো ভূখণ্ডের ওপর ‘ফিলিস্তিন’ লেখা সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এসব মানচিত্রে এখনো ইসরায়েলের নাম উল্লেখ করা হয়নি।

একাদশ শ্রেণির ইতিহাসের একটি বইয়ে ‘জায়নিস্ট শত্রু’ শব্দবন্ধের পরিবর্তে ‘ইসরায়েলি দখলদারত্ব’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। ইমপ্যাক্ট-সি এটিকে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখলেও যথেষ্ট নয় বলে মনে করেছে।

সংস্থাটির মতে, নতুন শব্দবন্ধ ইসরায়েলবিরোধী বক্তব্যের তীব্রতা কিছুটা কমালেও ‘ইসরায়েলি দখলদারত্ব’ শব্দটি নির্দিষ্ট ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের পরিবর্তে পুরো ইসরায়েলকে বোঝাতে ব্যবহৃত হওয়ায় দেশটির প্রতি সৌদি আরবের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির অভাবের অবস্থান প্রতিফলিত হচ্ছে।

সৌদি পাঠ্যবইয়ে এসব পরিবর্তনের বিষয়টি এমন সময়ে সামনে এলো, যখন জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদকে ঘিরে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের ইহুদি প্রার্থনার অনুমতি দিয়েছে। ফিলিস্তিনিরা এটিকে দীর্ঘদিনের বিদ্যমান ব্যবস্থার লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে।

একই সময়ে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করে আসছেন। তার সরকারের মন্ত্রীরাও নিরীহ ফিলিস্তিনিদের ওপর দমন-পীড়ন উসকে দিচ্ছেন। পরিস্থিতি নাজুক হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বার বার ইসরায়েলকে সতর্ক করলেও কোনো পাত্তা দিচ্ছে না নেতানিয়াহুর প্রশাসন।

 

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌদি পাঠ্যবই থেকে ‘মুসলিমরা জেরুজালেম কখনো ছেড়ে দেবে না’ বাক্য বাদ

আপডেট সময় ০৯:২০:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

সৌদি আরবের স্কুল পাঠ্যবই থেকে ‘মুসলিমরা কখনো জেরুজালেম ছেড়ে দেবে না’, এমন একটি বাক্য বাদ দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইমপ্যাক্ট-সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এ বরাতে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সংবাদ প্রকাশ করেছে মিডল ইস্ট আই।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাইয়ের শেষ দিকে প্রকাশিত সৌদি শিক্ষাক্রমের পর্যালোচনায় ইমপ্যাক্ট-সি জানায়, আগের পাঠ্যবইয়ে থাকা ওই বক্তব্যটি মুসলিমদের নিয়ন্ত্রণ বা জেরুজালেমে তাদের উপস্থিতি হুমকির মুখে রয়েছে, এমন ধারণা তৈরি করতে পারত। একই সঙ্গে এটি জেরুজালেমকে মুসলিম ও অন্যান্য গোষ্ঠী, বিশেষ করে ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতের কেন্দ্র হিসেবে উপস্থাপন করতে পারত বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।

 

ইমপ্যাক্ট-সি সৌদি পাঠ্যক্রমে ইহুদিবিদ্বেষ হিসেবে তারা যেসব বিষয় চিহ্নিত করেছিল, সেগুলোর সবকটিও বাদ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে।

মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সৌদি আরবের ২০২৫ সালের পাঠ্যবইয়ে কোরআন ও হাদিসের কিছু অংশ বাদ দেওয়াকেও ‘ইতিবাচক পরিবর্তন’ হিসেবে উল্লেখ করেছে ইমপ্যাক্ট-সি।

এর মধ্যে নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর এক অসুস্থ ইহুদি বালককে দেখতে যাওয়ার বহুল পরিচিত একটি হাদিসও রয়েছে। সংস্থাটির দাবি, এই উদাহরণ বাদ দেওয়ায় ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি শিক্ষার্থীদের দৃষ্টিভঙ্গিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এ ছাড়া অবিশ্বাস ও পাপসংক্রান্ত কোরআনের কিছু আয়াত সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে ইসলামকে মানবজাতির স্বাভাবিক ধর্ম হিসেবে শিক্ষার্থীদের শেখানোর বিষয়টি নিয়ে সংস্থাটি সমালোচনা করেছে।

ইমপ্যাক্ট-সির দাবি, আগের কিছু মানচিত্রে ইসরায়েলকে দেখানো হতো না এবং পুরো ভূখণ্ডকে ‘ফিলিস্তিন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হতো। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে পুরো ভূখণ্ডের ওপর ‘ফিলিস্তিন’ লেখা সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এসব মানচিত্রে এখনো ইসরায়েলের নাম উল্লেখ করা হয়নি।

একাদশ শ্রেণির ইতিহাসের একটি বইয়ে ‘জায়নিস্ট শত্রু’ শব্দবন্ধের পরিবর্তে ‘ইসরায়েলি দখলদারত্ব’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। ইমপ্যাক্ট-সি এটিকে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখলেও যথেষ্ট নয় বলে মনে করেছে।

সংস্থাটির মতে, নতুন শব্দবন্ধ ইসরায়েলবিরোধী বক্তব্যের তীব্রতা কিছুটা কমালেও ‘ইসরায়েলি দখলদারত্ব’ শব্দটি নির্দিষ্ট ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের পরিবর্তে পুরো ইসরায়েলকে বোঝাতে ব্যবহৃত হওয়ায় দেশটির প্রতি সৌদি আরবের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির অভাবের অবস্থান প্রতিফলিত হচ্ছে।

সৌদি পাঠ্যবইয়ে এসব পরিবর্তনের বিষয়টি এমন সময়ে সামনে এলো, যখন জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদকে ঘিরে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের ইহুদি প্রার্থনার অনুমতি দিয়েছে। ফিলিস্তিনিরা এটিকে দীর্ঘদিনের বিদ্যমান ব্যবস্থার লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে।

একই সময়ে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করে আসছেন। তার সরকারের মন্ত্রীরাও নিরীহ ফিলিস্তিনিদের ওপর দমন-পীড়ন উসকে দিচ্ছেন। পরিস্থিতি নাজুক হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বার বার ইসরায়েলকে সতর্ক করলেও কোনো পাত্তা দিচ্ছে না নেতানিয়াহুর প্রশাসন।

 

সূত্র: মিডল ইস্ট আই