ঢাকা , শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
‘বেডরুমে গোপন ক্যামেরা রেখেছিলেন স্ত্রী, ফুটেজ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা দাবি’ হত্যা করে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর বিএসএফের হাতে ধরা ২ ভাই ‘আমার পুলাডারে তারা মাইরা ফেলাইছে, পুলাডারে মাটির ঘরে রাইখা আইলাম’ বিরোধীদলকে দমন করতে চাইলে অবস্থা বেনজীরের চেয়েও খারাপ হবে: হুঁশিয়ারি সারজিসের সুখী দেশের তালিকায় ফিলিস্তিনের চেয়েও পিছিয়ে বাংলাদেশ উচ্চ শব্দে গান বাজিয়ে দাঁত ভেঙে ছ্যাঁকা দেওয়া হয় গৃহবধূকে জামায়াত কোনো রাজনৈতিক দল না: নূর পুলিশের মূল কাজই জনগণের সুরক্ষা ও সেবা দেয়া, থানা হতে হবে ভরসাস্থল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিলেটে ট্যাংকলরি-অটোরিকশা সংঘর্ষে নিহত ৪ বাঁওড়ে শাপলা তুলতে গিয়ে প্রাণ গেলো দুই শিশুর!

জামায়াত কোনো রাজনৈতিক দল না: নূর

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:৪২:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কোনো রাজনৈতিক দল না, এটা একটা হঠকারী-উগ্রবাদী গোষ্ঠী বলে মন্তব্য করেছেন গণ-অধিকার পরিষদের সাবেক সভাপতি এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।

 

প্রশ্ন রেখে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জামায়াতের মতো দলের উত্থান, এটা কি মনে করেন আমাদের জন্য ভালো কিছু হবে? জামায়াতে ইসলাম এই দেশ চালাতে পারবে? রাষ্ট্র চালাতে পারবে? জামায়াত যদি রাজনৈতিকভাবে ওপরে যাওয়ার সুযোগ পায়, তাহলে এই দেশকে তো ফিলিস্তিন বানিয়ে ছাড়বে।

 

সরকারকে সতর্ক করে নুরুল হক বলেন, সরকারকে বেশি উদার হলে বিপদে পড়তে হবে। বিরোধী দল হিসেবে যেভাবে অ্যাকসেস (সুবিধা) পাচ্ছে এনাফ (যথেষ্ট)। কিন্তু এর চেয়ে বেশি দিলে লিমিট ক্রস (সীমা অতিক্রম) করে ফেলবে। তখন সরকারের জন্য নিয়ন্ত্রণ করা বেশি মুশকিল হয়ে পড়বে। কারণ বুঝতে হবে এই জামায়াতে ইসলামী কোনো রাজনৈতিক দল না। এটা একটা হঠকারী-উগ্রবাদী গোষ্ঠী।

 

তিনি আরও বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আগে কখনো দেখেছেন কি কোনো এম্বাসেডর (রাষ্ট্রদূত) এদের ডেকে একটা মিটিং করেছে? এখন হঠাৎ করে তারা জামায়াতের আমিরের বাসায় যাচ্ছে। কেন? কারণ তাদের মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছে যে তাদের স্পেস তৈরি করে দিয়ে তাদের কাজে উৎসাহিত করছে। তখন এই এম্বাসেডররাই আবার সরকারকে চাপ দেওয়ার জন্য নতুন এজেন্ডা তৈরি করবে। তখন তারা বলবে যে বাংলাদেশে উগ্রবাদের উত্থান হচ্ছে। জামায়াতে ইসলামী আজ বিরোধী দল। তারা এভাবে সারা দেশে চেয়ে গেছে।

 

সরকারকে পরামর্শ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক বলেন, কাজেই জামায়াতে ইসলামীর প্রশ্নে সরকারকে শক্ত অবস্থানে থাকতে হবে। তাহলে সরকার অনেক দূর এগিয়ে যাবে। রাজনৈতিক দলগুলোকেও শক্ত থাকতে হবে।

 

ভারত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারতের বিষয় প্রতিনিয়তই আমাদের আলোচনায় থাকে। ভারতকে আমরা কখনো ছাড়তে পারব? আমাদের প্রতিবেশী দেশ হিসেবে এড়াতে পারব না। ভারতের সঙ্গে সরকার শীর্ষ জায়গা থেকে ডিল করবে। কোন ইস্যুতে ভারত যাবে, সেখানে সরকার কতটুকু ছাড় দেবে। তবে ভারত বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের নীতি পরিষ্কারভাবে বুঝতে পেরেছে। এখন তারাই কিন্তু সরকারের মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও মন্ত্রীদের পেছনে ঘুরঘুর করছে প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরে নেওয়ার জন্য। কারণ আপনি যখন ব্যক্তিত্ব নিয়ে দাঁড়িয়ে যাবেন, অন্যরা আপনাকে সেভাবে সম্মান দেবে।

 

নুরুল হক নুর বলেন, এত দিন প্রতিষ্ঠা (মিথ) করা হয়েছিল যে ভারত ছাড়া বাংলাদেশ অ চল। এই মিথ বাংলাদেশের মানুষ ভেঙে দিয়েছে। সেখানেই সরকার শক্তি পেয়েছে।

 

দেশের মধ্যে যতটুক জাতীয় ঐক্য ও সংহতি থাকবে, সরকার এই দেশকে তত শক্তিশালীভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। সে জায়গা থেকে আমি অনুরোধ করব আমাদের বিরোধী দলসহ বিভিন্ন নেতারা আছেন, সরকারকে সহযোগিতা করেন। আন্দোলন-সংগ্রাম চার বছর পরে করেন। কারণ নির্বাচন তো আর পাঁচ বছর আগে কোনোভাবেই সম্ভব না। কেয়ামত হয়ে গেলেও নির্বাচন সম্ভব না কারণ জনগণ পাঁচ বছরের জন্য ম্যান্ডেট দিয়েছে এই সরকারকে। সুতরাং আপনারা যদি রাজনৈতিক দল হিসেবে সরকারকে চাপে রাখবেন, সেটা ভালো কিন্তু সেটা চার বছর পরে করেন। তবে পলিসিগত দিক থেকে না।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

‘বেডরুমে গোপন ক্যামেরা রেখেছিলেন স্ত্রী, ফুটেজ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা দাবি’

জামায়াত কোনো রাজনৈতিক দল না: নূর

আপডেট সময় ০৯:৪২:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কোনো রাজনৈতিক দল না, এটা একটা হঠকারী-উগ্রবাদী গোষ্ঠী বলে মন্তব্য করেছেন গণ-অধিকার পরিষদের সাবেক সভাপতি এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।

 

প্রশ্ন রেখে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জামায়াতের মতো দলের উত্থান, এটা কি মনে করেন আমাদের জন্য ভালো কিছু হবে? জামায়াতে ইসলাম এই দেশ চালাতে পারবে? রাষ্ট্র চালাতে পারবে? জামায়াত যদি রাজনৈতিকভাবে ওপরে যাওয়ার সুযোগ পায়, তাহলে এই দেশকে তো ফিলিস্তিন বানিয়ে ছাড়বে।

 

সরকারকে সতর্ক করে নুরুল হক বলেন, সরকারকে বেশি উদার হলে বিপদে পড়তে হবে। বিরোধী দল হিসেবে যেভাবে অ্যাকসেস (সুবিধা) পাচ্ছে এনাফ (যথেষ্ট)। কিন্তু এর চেয়ে বেশি দিলে লিমিট ক্রস (সীমা অতিক্রম) করে ফেলবে। তখন সরকারের জন্য নিয়ন্ত্রণ করা বেশি মুশকিল হয়ে পড়বে। কারণ বুঝতে হবে এই জামায়াতে ইসলামী কোনো রাজনৈতিক দল না। এটা একটা হঠকারী-উগ্রবাদী গোষ্ঠী।

 

তিনি আরও বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আগে কখনো দেখেছেন কি কোনো এম্বাসেডর (রাষ্ট্রদূত) এদের ডেকে একটা মিটিং করেছে? এখন হঠাৎ করে তারা জামায়াতের আমিরের বাসায় যাচ্ছে। কেন? কারণ তাদের মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছে যে তাদের স্পেস তৈরি করে দিয়ে তাদের কাজে উৎসাহিত করছে। তখন এই এম্বাসেডররাই আবার সরকারকে চাপ দেওয়ার জন্য নতুন এজেন্ডা তৈরি করবে। তখন তারা বলবে যে বাংলাদেশে উগ্রবাদের উত্থান হচ্ছে। জামায়াতে ইসলামী আজ বিরোধী দল। তারা এভাবে সারা দেশে চেয়ে গেছে।

 

সরকারকে পরামর্শ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক বলেন, কাজেই জামায়াতে ইসলামীর প্রশ্নে সরকারকে শক্ত অবস্থানে থাকতে হবে। তাহলে সরকার অনেক দূর এগিয়ে যাবে। রাজনৈতিক দলগুলোকেও শক্ত থাকতে হবে।

 

ভারত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারতের বিষয় প্রতিনিয়তই আমাদের আলোচনায় থাকে। ভারতকে আমরা কখনো ছাড়তে পারব? আমাদের প্রতিবেশী দেশ হিসেবে এড়াতে পারব না। ভারতের সঙ্গে সরকার শীর্ষ জায়গা থেকে ডিল করবে। কোন ইস্যুতে ভারত যাবে, সেখানে সরকার কতটুকু ছাড় দেবে। তবে ভারত বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের নীতি পরিষ্কারভাবে বুঝতে পেরেছে। এখন তারাই কিন্তু সরকারের মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও মন্ত্রীদের পেছনে ঘুরঘুর করছে প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরে নেওয়ার জন্য। কারণ আপনি যখন ব্যক্তিত্ব নিয়ে দাঁড়িয়ে যাবেন, অন্যরা আপনাকে সেভাবে সম্মান দেবে।

 

নুরুল হক নুর বলেন, এত দিন প্রতিষ্ঠা (মিথ) করা হয়েছিল যে ভারত ছাড়া বাংলাদেশ অ চল। এই মিথ বাংলাদেশের মানুষ ভেঙে দিয়েছে। সেখানেই সরকার শক্তি পেয়েছে।

 

দেশের মধ্যে যতটুক জাতীয় ঐক্য ও সংহতি থাকবে, সরকার এই দেশকে তত শক্তিশালীভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। সে জায়গা থেকে আমি অনুরোধ করব আমাদের বিরোধী দলসহ বিভিন্ন নেতারা আছেন, সরকারকে সহযোগিতা করেন। আন্দোলন-সংগ্রাম চার বছর পরে করেন। কারণ নির্বাচন তো আর পাঁচ বছর আগে কোনোভাবেই সম্ভব না। কেয়ামত হয়ে গেলেও নির্বাচন সম্ভব না কারণ জনগণ পাঁচ বছরের জন্য ম্যান্ডেট দিয়েছে এই সরকারকে। সুতরাং আপনারা যদি রাজনৈতিক দল হিসেবে সরকারকে চাপে রাখবেন, সেটা ভালো কিন্তু সেটা চার বছর পরে করেন। তবে পলিসিগত দিক থেকে না।