ঢাকা , বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বিশ্বজুড়ে অভিবাসন ভিসার আবেদন স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র খালেদা জিয়াকে চক্রান্ত করে হত্যা করা হয়েছে, তিনিও শহীদ: রুহুল কবির রিজভী এই ছাত্রদল-যুবদল কেউ থাকবে না, আমরা ছাত্রলীগ-যুবলীগও দেখছি: আসিফ হাসিনার সেই ঘর এখন ‘মুনসুন থিয়েটার’, যা বললেন ফারুকী লন্ডনে মদের বার কিনে মসজিদ বানালেন বাংলাদেশি যুবক জামায়াতে ইসলামীর ৮৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ নবীর আদর্শ অনুসরণ করলে ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হবে: রিজভী যুক্তরাষ্ট্রের ৭০০ পণ্যে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ কানাডার বিরোধীদলের ছায়া সরকার থেকে এনসিপি আউট: রাশেদ খান সরকার ভুল করলে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিন: আইনমন্ত্রী

‘হিজাব ইসলামের অপরিহার্য অংশ নয়’, ভারতীয় আদালতের রায়

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:৩৩:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ২৪ বার পড়া হয়েছে

স্কুলের নির্ধারিত ইউনিফর্মের সঙ্গে হিজাব পরার অনুমতি চেয়ে করা এক ছাত্রীর আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্ট।

আদালত বলেছেন, হিজাব পরা ইসলামের এমন কোনো অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলন নয়, যা পালন না করলে ধর্মীয় বিশ্বাস ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত পোশাকবিধি ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী পরিবর্তনের অধিকারও কোনো শিক্ষার্থীর নেই বলে জানিয়েছেন আদালত।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর প্রদেশের একটি বেসরকারি স্কুলের ওই শিক্ষার্থী মাধ্যমিক পাস করার পর একই প্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হতে চেয়েছিলেন। এ জন্য মায়ের মাধ্যমে আদালতে আবেদন করেন তিনি।

আবেদনে স্কুলের নির্ধারিত ইউনিফর্মের সঙ্গে হিজাব পরার অনুমতি দিতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়ার দাবি জানানো হয়। ওই শিক্ষার্থীর দাবি ছিল, ইসলামে হিজাব পরা একটি অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলন এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই তিনি হিজাব পরে স্কুলে আসছেন।

তবে বিচারপতি জে জে মুনির ও বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ শুক্লার সমন্বয়ে গঠিত দুই সদস্যের বেঞ্চ আবেদনটি খারিজ করে দেন।

আদালত জানায়, বিভিন্ন শ্রেণিতে ওই ছাত্রীর তোলা ছবি পর্যালোচনা করা হয়েছে। সেখানে তাকে ছাড়া অন্য কোনো ছাত্রীকে হিজাব পরতে দেখা যায়নি। এমনকি একই ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অন্য ছাত্রীরাও হিজাব পরতেন না বলে উল্লেখ করেন আদালত।

বেঞ্চ আরও বলে, হিজাবকে ইসলামের অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলন হিসেবে দাবি করার পক্ষে আবেদনে সুনির্দিষ্ট কোনো ভিত্তি দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে বিভিন্ন হাইকোর্টের আগের রায়ের কথাও উল্লেখ করা হয়।

পোশাকবিধির বিষয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইউনিফর্ম যদি বৈষম্যহীনভাবে সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর করা হয় এবং এর উদ্দেশ্য যদি শৃঙ্খলা ও সমতা বজায় রাখা হয়, তাহলে প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব পোশাকবিধি বাস্তবায়নের অধিকার রাখে।

আদালত আরও বলেছে, নির্ধারিত ইউনিফর্মের সঙ্গে ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী হিজাব যুক্ত করার আলাদা আইনি অধিকার শিক্ষার্থীর নেই।

স্কুল কর্তৃপক্ষ আদালতকে জানায়, প্রতিষ্ঠানটি বেসরকারি ও নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত। সেখানে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে এবং সবার জন্য একই পোশাকবিধি রয়েছে। একজন শিক্ষার্থীকে বিশেষ ছাড় দেওয়া হলে প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও ইউনিফর্মের অভিন্নতা নষ্ট হতে পারে বলেও দাবি করে তারা।

উত্তর প্রদেশ সরকার ও সিবিএসইও ওই ছাত্রীর আবেদনের বিরোধিতা করে।

সব পক্ষের বক্তব্য ও নথি পর্যালোচনা করে গত ২১ আগস্ট আবেদনটি খারিজ করে দেন এলাহাবাদ হাইকোর্ট। ফলে স্কুলের নির্ধারিত ইউনিফর্মের সঙ্গে হিজাব পরার অনুমতি পেলেন না ওই শিক্ষার্থী।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বজুড়ে অভিবাসন ভিসার আবেদন স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র

‘হিজাব ইসলামের অপরিহার্য অংশ নয়’, ভারতীয় আদালতের রায়

আপডেট সময় ১২:৩৩:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

স্কুলের নির্ধারিত ইউনিফর্মের সঙ্গে হিজাব পরার অনুমতি চেয়ে করা এক ছাত্রীর আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্ট।

আদালত বলেছেন, হিজাব পরা ইসলামের এমন কোনো অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলন নয়, যা পালন না করলে ধর্মীয় বিশ্বাস ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত পোশাকবিধি ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী পরিবর্তনের অধিকারও কোনো শিক্ষার্থীর নেই বলে জানিয়েছেন আদালত।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর প্রদেশের একটি বেসরকারি স্কুলের ওই শিক্ষার্থী মাধ্যমিক পাস করার পর একই প্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হতে চেয়েছিলেন। এ জন্য মায়ের মাধ্যমে আদালতে আবেদন করেন তিনি।

আবেদনে স্কুলের নির্ধারিত ইউনিফর্মের সঙ্গে হিজাব পরার অনুমতি দিতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়ার দাবি জানানো হয়। ওই শিক্ষার্থীর দাবি ছিল, ইসলামে হিজাব পরা একটি অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলন এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই তিনি হিজাব পরে স্কুলে আসছেন।

তবে বিচারপতি জে জে মুনির ও বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ শুক্লার সমন্বয়ে গঠিত দুই সদস্যের বেঞ্চ আবেদনটি খারিজ করে দেন।

আদালত জানায়, বিভিন্ন শ্রেণিতে ওই ছাত্রীর তোলা ছবি পর্যালোচনা করা হয়েছে। সেখানে তাকে ছাড়া অন্য কোনো ছাত্রীকে হিজাব পরতে দেখা যায়নি। এমনকি একই ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অন্য ছাত্রীরাও হিজাব পরতেন না বলে উল্লেখ করেন আদালত।

বেঞ্চ আরও বলে, হিজাবকে ইসলামের অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলন হিসেবে দাবি করার পক্ষে আবেদনে সুনির্দিষ্ট কোনো ভিত্তি দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে বিভিন্ন হাইকোর্টের আগের রায়ের কথাও উল্লেখ করা হয়।

পোশাকবিধির বিষয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইউনিফর্ম যদি বৈষম্যহীনভাবে সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর করা হয় এবং এর উদ্দেশ্য যদি শৃঙ্খলা ও সমতা বজায় রাখা হয়, তাহলে প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব পোশাকবিধি বাস্তবায়নের অধিকার রাখে।

আদালত আরও বলেছে, নির্ধারিত ইউনিফর্মের সঙ্গে ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী হিজাব যুক্ত করার আলাদা আইনি অধিকার শিক্ষার্থীর নেই।

স্কুল কর্তৃপক্ষ আদালতকে জানায়, প্রতিষ্ঠানটি বেসরকারি ও নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত। সেখানে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে এবং সবার জন্য একই পোশাকবিধি রয়েছে। একজন শিক্ষার্থীকে বিশেষ ছাড় দেওয়া হলে প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও ইউনিফর্মের অভিন্নতা নষ্ট হতে পারে বলেও দাবি করে তারা।

উত্তর প্রদেশ সরকার ও সিবিএসইও ওই ছাত্রীর আবেদনের বিরোধিতা করে।

সব পক্ষের বক্তব্য ও নথি পর্যালোচনা করে গত ২১ আগস্ট আবেদনটি খারিজ করে দেন এলাহাবাদ হাইকোর্ট। ফলে স্কুলের নির্ধারিত ইউনিফর্মের সঙ্গে হিজাব পরার অনুমতি পেলেন না ওই শিক্ষার্থী।