মেলানোমা বা ত্বকের এক ধরনের ক্যানসারের চিকিৎসায় নতুন আশার আলো দেখিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার গবেষকেরা। বড় পরিসরের পরীক্ষায় সফল হয়েছে রোগীভিত্তিক ক্যানসারের একটি টিকা। গবেষকদের দাবি, এই টিকা ক্যানসার ফিরে আসা এবং শরীরের অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমাতে সক্ষম।
অস্ট্রেলীয় গবেষক অধ্যাপক জর্জিনা লংয়ের নেতৃত্বে এই গবেষণা পরিচালিত হয়েছে। ক্যানসার গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য প্রয়াত রিচার্ড স্কোলিয়ার ও অধ্যাপক জর্জিনা লংকে অস্ট্রেলিয়ার বর্ষসেরা নাগরিকও নির্বাচিত করা হয়েছিল।
গবেষকেরা জানান, প্রথমে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে রোগীর শরীর থেকে মেলানোমা আক্রান্ত অংশ অপসারণ করা হয়। এরপর রোগীর ক্যানসার কোষ ও রক্তের নমুনা বিশ্লেষণ করে ক্যানসার কোষের বিশেষ বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করা হয়। এসব তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয় ওই নির্দিষ্ট রোগীর জন্য আলাদা টিকা।
টিকাটি মূলত রোগীর রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে প্রশিক্ষিত করে। ভবিষ্যতে একই ক্যানসার শরীরে ফিরে এলে রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা যেন দ্রুত ক্যানসার কোষ শনাক্ত করে ধ্বংস করতে পারে, সেটিই এই টিকার লক্ষ্য।
গবেষণায় টিকাটির সঙ্গে প্রচলিত রোগ প্রতিরোধভিত্তিক ক্যানসারের ওষুধও ব্যবহার করা হয়েছে। গবেষকদের আশা, এই পদ্ধতিতে মেলানোমা ফিরে আসার ঝুঁকি কমিয়ে রোগীদের দীর্ঘ সময় ক্যানসারমুক্ত রাখা সম্ভব হবে।
এই টিকার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এটি সবার জন্য একই নয়। রোগীর ক্যানসারের ধরন ও বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে প্রত্যেকের জন্য আলাদাভাবে টিকা তৈরি করা হয়।
গবেষণায় ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি বার্তাবাহী আরএনএ বা এমআরএনএ-ভিত্তিক। করোনাভাইরাসের টিকার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে পরিচিত হয়ে ওঠা এই প্রযুক্তি এবার ক্যানসারের চিকিৎসাতেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।
গবেষকদের দাবি, মেলানোমার চিকিৎসায় এটিই প্রথম এমআরএনএ-ভিত্তিক পদ্ধতি, যা তৃতীয় ধাপের বড় পরিসরের পরীক্ষায় সফল হয়েছে। গবেষণার পূর্ণাঙ্গ ফলাফল আগামী অক্টোবর মাসে স্পেনের মাদ্রিদে একটি সম্মেলনে প্রকাশ করার কথা রয়েছে অধ্যাপক জর্জিনা লংয়ের।
ইতোমধ্যে মেলানোমার পাশাপাশি অন্যান্য ধরনের ক্যানসারের চিকিৎসাতেও একই প্রযুক্তি ব্যবহার করা যায় কি না, তা নিয়ে গবেষণা শুরু করেছেন বিজ্ঞানীরা।
অস্ট্রেলিয়ার মেলানোমা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অধ্যাপক অ্যালেক্স মেনজিস এই সাফল্যকে ক্যানসার চিকিৎসায় বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন। তার মতে, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি পুরো ক্যানসার চিকিৎসা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
গবেষণায় অংশ নেওয়া রোগীদের একজন গ্যারি কেবলিশ। ২০১৯ সালে তিনি এই টিকা নেন। সে সময় চিকিৎসকেরা ধারণা করেছিলেন, পাঁচ বছরের মধ্যে তার মেলানোমা ফিরে আসার আশঙ্কা ছিল ৭৫ শতাংশ। বর্তমানে তিনি ক্যানসারমুক্ত ও সুস্থ আছেন।
তবে এই গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল দেখে যেতে পারেননি মেলানোমা গবেষক রিচার্ড স্কোলিয়ার। দীর্ঘদিন ক্যানসার গবেষণায় কাজ করা এই অস্ট্রেলীয় বিজ্ঞানী মারা যাওয়ার আগেই গবেষণাটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
সব মিলিয়ে, মেলানোমার চিকিৎসায় ব্যক্তিভিত্তিক এমআরএনএ টিকার এই সাফল্য ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। এখন বড় প্রশ্ন—এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে কত ধরনের ক্যানসারের চিকিৎসায় কার্যকর প্রমাণিত হয়।
সূত্র: সেভেন নিউজ

ডেস্ক রিপোর্ট 





















