ঢাকা , শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
গ্যাস ও বিদ্যুতের বর্তমান সংকটের জন্য বিগত সরকার দায়ী: ডিএসসিসি প্রশাসক নো গ্যাস নো বিল, নো সার্ভিস নো ট্যাক্স: রুমিন ফারহানা ছয় দফা না মানলে সরকার পতনে এক দফা: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কানাডায় ২ শিশুকে ৯ মাস যৌন নিপীড়ন, প্রবাসী আর্ট শিক্ষক গ্রেপ্তার জাতিসংঘে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে বিএনপি নায়ক হতে পারতো, কিন্তু ভিলেনে পরিণত হয়েছে: তাজুল ইসলাম জাতিসংঘে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ফিলিস্তিনে ধ্বংসস্তূপ থেকে একই পরিবারের ৫৫ লাশ উদ্ধার ‘আমি চলে গেলে কেউ আমার নাম দেবে না’, তাই সবকিছুতে নিজের নাম দিচ্ছেন ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে আকস্মিক হামলা চালাতে পারে ইরান

পাকিস্তানের সঙ্গে হওয়া পানিবণ্টন চুক্তি ভারতকে মানার নির্দেশ আন্তর্জাতিক আদালতের

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:০৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫৯ বার পড়া হয়েছে

সোমবার (৩১ আগস্ট) ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক সালিসি আদালতের অন্তর্বর্তী নির্দেশও তারা মানবে না। এর আগে স্থায়ী সালিসি আদালত বলেছিলেন, ১৯৬০ সাল থেকে কার্যকরসিন্ধু পানি চুক্তিএখনও পুরোপুরি বহাল রয়েছে। চুক্তি স্থগিত বা বাতিল করার ক্ষেত্রে ভারতের কোনো বৈধ কারণ নেই বলেও আদালত মন্তব্য করেন। পাকিস্তানের প্রায় ৮০ শতাংশ কৃষিজমি এই চুক্তির আওতাধীন পানির ওপর নির্ভরশীল।

গত বছর কাশ্মীরের একটি পর্যটনকেন্দ্রে হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ভারত চুক্তিটি স্থগিত করে। নয়াদিল্লির দাবি, হামলায় জড়িত তিন হামলাকারীর দুজন পাকিস্তানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। তবে ইসলামাবাদ এই অভিযোগ অস্বীকার করে। এরপর কাশ্মীরে দুটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের জলাধারের ধারণক্ষমতা বাড়ানোর কাজ শুরু করলে পাকিস্তান বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেয়।

বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানি চুক্তির মাধ্যমে সিন্ধু অববাহিকার ছয়টি নদীর পানি দুই দেশের মধ্যে ভাগ করা হয়। পশ্চিমাঞ্চলের সিন্ধু, ঝিলম ও চেনাব নদীর পানি মূলত পাকিস্তানের জন্য এবং পূর্বাঞ্চলের রবি, বিয়াস ও শতদ্রু নদীর পানি ভারতের জন্য নির্ধারিত হয়। তবে পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলো থেকে ভারত সীমিতভাবে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে। তবে ভারত এমনভাবে পানির প্রবাহ পরিবর্তন করতে পারে না, যাতে পাকিস্তানের পানির প্রাপ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আদালত জানিয়েছেন, বিশ্বব্যাংক নিযুক্ত একজন নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ ২০২৭ সালের জুলাইয়ের মধ্যে কাশ্মীর অঞ্চলের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নির্ধারণ করবেন। ততদিন রাটলে প্রকল্পের বাঁধের দেয়াল ও পানি প্রবেশ কাঠামো নির্দিষ্ট মাত্রার ওপরে নির্মাণ না করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ভারতের সার্বভৌম সিদ্ধান্তের ওপর তথাকথিত এই সালিসি আদালতের কোনো এখতিয়ার নেই এবং এর কোনো সিদ্ধান্তই প্রকল্পগুলো নিয়ে ভারতের কর্মকাণ্ডে প্রভাব ফেলবে না। অন্যদিকে পাকিস্তান আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, ভারত সিন্ধু পানি চুক্তির অধীনে আবশ্যিকভাবে তার দায়িত্ব পালনেবাধ্যএবং তা মেনে চলতে হবে। এছাড়া দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ভারতকে অবশ্যই চুক্তির অধীনে বাধ্যতামূলক সিদ্ধান্তগুলো সম্পূর্ণরূপে মেনে চলতে হবে। সূত্র: সিএনবিসি, আল জাজিরা

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

গ্যাস ও বিদ্যুতের বর্তমান সংকটের জন্য বিগত সরকার দায়ী: ডিএসসিসি প্রশাসক

পাকিস্তানের সঙ্গে হওয়া পানিবণ্টন চুক্তি ভারতকে মানার নির্দেশ আন্তর্জাতিক আদালতের

আপডেট সময় ১০:০৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোমবার (৩১ আগস্ট) ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক সালিসি আদালতের অন্তর্বর্তী নির্দেশও তারা মানবে না। এর আগে স্থায়ী সালিসি আদালত বলেছিলেন, ১৯৬০ সাল থেকে কার্যকরসিন্ধু পানি চুক্তিএখনও পুরোপুরি বহাল রয়েছে। চুক্তি স্থগিত বা বাতিল করার ক্ষেত্রে ভারতের কোনো বৈধ কারণ নেই বলেও আদালত মন্তব্য করেন। পাকিস্তানের প্রায় ৮০ শতাংশ কৃষিজমি এই চুক্তির আওতাধীন পানির ওপর নির্ভরশীল।

গত বছর কাশ্মীরের একটি পর্যটনকেন্দ্রে হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ভারত চুক্তিটি স্থগিত করে। নয়াদিল্লির দাবি, হামলায় জড়িত তিন হামলাকারীর দুজন পাকিস্তানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। তবে ইসলামাবাদ এই অভিযোগ অস্বীকার করে। এরপর কাশ্মীরে দুটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের জলাধারের ধারণক্ষমতা বাড়ানোর কাজ শুরু করলে পাকিস্তান বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেয়।

বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানি চুক্তির মাধ্যমে সিন্ধু অববাহিকার ছয়টি নদীর পানি দুই দেশের মধ্যে ভাগ করা হয়। পশ্চিমাঞ্চলের সিন্ধু, ঝিলম ও চেনাব নদীর পানি মূলত পাকিস্তানের জন্য এবং পূর্বাঞ্চলের রবি, বিয়াস ও শতদ্রু নদীর পানি ভারতের জন্য নির্ধারিত হয়। তবে পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলো থেকে ভারত সীমিতভাবে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে। তবে ভারত এমনভাবে পানির প্রবাহ পরিবর্তন করতে পারে না, যাতে পাকিস্তানের পানির প্রাপ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আদালত জানিয়েছেন, বিশ্বব্যাংক নিযুক্ত একজন নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ ২০২৭ সালের জুলাইয়ের মধ্যে কাশ্মীর অঞ্চলের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নির্ধারণ করবেন। ততদিন রাটলে প্রকল্পের বাঁধের দেয়াল ও পানি প্রবেশ কাঠামো নির্দিষ্ট মাত্রার ওপরে নির্মাণ না করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ভারতের সার্বভৌম সিদ্ধান্তের ওপর তথাকথিত এই সালিসি আদালতের কোনো এখতিয়ার নেই এবং এর কোনো সিদ্ধান্তই প্রকল্পগুলো নিয়ে ভারতের কর্মকাণ্ডে প্রভাব ফেলবে না। অন্যদিকে পাকিস্তান আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, ভারত সিন্ধু পানি চুক্তির অধীনে আবশ্যিকভাবে তার দায়িত্ব পালনেবাধ্যএবং তা মেনে চলতে হবে। এছাড়া দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ভারতকে অবশ্যই চুক্তির অধীনে বাধ্যতামূলক সিদ্ধান্তগুলো সম্পূর্ণরূপে মেনে চলতে হবে। সূত্র: সিএনবিসি, আল জাজিরা