ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হলেও দেশটিতে থেকে যেতে পারে যুক্তরাষ্ট্র এবং একইসঙ্গে ওয়াশিংটন সেখানকার তেল নিজেদের দখলে রাখতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) আয়ারল্যান্ডে সফরকালে তিনি একথা বলেন। একই সঙ্গে ইরান যুদ্ধ এ বছরই শেষ হতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। বার্তাসংস্থা রয়টার্স বলছে, ইরান থেকে যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি সরে না গিয়ে সেখানে অবস্থান করে দেশটির তেল নিজেদের দখলে রাখতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ ক্ষেত্রে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক চুক্তির উদাহরণ টেনেছেন তিনি। ভেনেজুয়েলার বিপুল তেল মজুতের এক–পঞ্চমাংশের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
রোববার আয়ারল্যান্ড সফরে গিয়ে একদিকে যেমন বিভিন্ন বৈঠকে অংশ নেন ট্রাম্প, অন্যদিকে গলফ খেলাও দেখেন। এ সময় তিনি আবারও বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ এ বছরই শেষ হবে বলে তিনি আশা করছেন। যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচন হওয়ার পরপরই যুদ্ধ শেষ হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। আইরিশ ওপেন গলফ চ্যাম্পিয়নশিপে কথা বলার সময় ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের যুদ্ধ শেষ হলেই যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম ‘খুব দ্রুত’ কমে যাবে।
মূলত মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় বিশ্ববাজারে তেলের দামও ব্যাপকভাবে ওঠানামা করছে। সৌদি আরবের একটি তেল পাইপলাইনে হামলার পর সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তেলের দাম আবারও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন ব্যবসায়ীরা। ট্রাম্প বলেন, তিনি শুধু ‘সঠিক চুক্তি’ করতে চান। ‘ভালো নয়’ এমন কোনো চুক্তিতে তিনি যাবেন না। ইরান বারবার শান্তি আলোচনার জন্য যোগাযোগ করছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এর আগে তেহরান এমন দাবি নাকচ করেছে।
আর এর মধ্যেই ইরান নিয়ে আরেকটি সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন ট্রাম্প। আর তা হলো—(যুদ্ধ শেষ হলেও) দেশটির সঙ্গে যুক্ত থেকে সেখানে অবস্থান করা। এ ক্ষেত্রে তিনি আগস্টে ঘোষিত ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তির উদাহরণ টানেন। ট্রাম্প বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত আমরা ইরান থেকে চলে আসব। তবে ভেনেজুয়েলার মতো সেখানে অবস্থান করে তেল নিজেদের দখলে রাখার সিদ্ধান্ত নিলে বিষয়টি আলাদা।’ তিনি আরও বলেন, ভেনেজুয়েলা থেকে যুক্তরাষ্ট্র যে রাজস্ব পাচ্ছে, তা দিয়ে ‘যুদ্ধের খরচ বহুগুণে উঠে এসেছে’।

ডেস্ক রিপোর্ট 

























