ঢাকা , সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
জ্বালানির দাম বাড়ায় যাত্রীপ্রতি বাস ভাড়া ৫০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত মালিকদের ইয়েমেনে তীব্র লড়াই, ৮০ হুথি যোদ্ধা নিহত জ্বালানির দাম বাড়ানো গণমানুষের ওপর জুলুম: সাদিক কায়েম জামায়াত আ.লীগের পথ ধরে হাঁটছে: রাশেদ খাঁন বিশ্বের অন্য দেশের চেয়ে এখনো জ্বালানি তেলের দাম বাংলাদেশে কম: রিজভী ৭১ বছর বয়সে শুনে শুনে পবিত্র কোরআনের হাফেজা হলেন মিশরীয় নারী মারা গেলেন মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামের মুয়াজ্জিন শায়খ ইবরাহিম বিন আদেল আল-মাদানি জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইসলামী আন্দোলনের বিক্ষোভ মিছিল আজ নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা, এমপিসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা কুমিল্লায় এবার মা-ভাবি ও আট মাসের ভাতিজীকে জবাই করে হত্যা!

ইয়েমেনে তীব্র লড়াই, ৮০ হুথি যোদ্ধা নিহত

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:৪৯:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

এবার ইয়েমেনের কৌশলগত ও জ্বালানিসমৃদ্ধ মারিব শহর ঘিরে আবারও তীব্র লড়াই শুরু হয়েছে। টানা প্রায় ২৪ ঘণ্টার সংঘর্ষে ইরানসমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর ৮০ জনের বেশি যোদ্ধা নিহত এবং তাদের ৯টি সামরিক যান ধ্বংসের দাবি করেছে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর সামরিক গণমাধ্যম বিভাগের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া আলহাতেমি সৌদি আরবভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরব নিউজকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, শনিবার রাত থেকে রোববার রাত পর্যন্ত মারিবের দক্ষিণের হেরেব, মালা ও উম রাইশ এলাকায় সরকারি বাহিনীর সঙ্গে হুথিদের তীব্র সংঘর্ষ হয়।

আলহাতেমির ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি বাহিনী বিমান ও ড্রোনের সহায়তায় হুথিদের হামলা প্রতিহত করে। এতে ৮০ জনের বেশি হুথি যোদ্ধা নিহত হন এবং বাকিরা বিভিন্ন অবস্থান থেকে পালিয়ে যায়। সংঘর্ষে হুথিদের ৯টি সামরিক যানও ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ইয়েমেনি সেনাবাহিনী জানায়, মারিব প্রদেশের বিভিন্ন সম্মুখসারিতে হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় যোদ্ধাদের সমাবেশস্থল, সামরিক রসদ ও শক্তিবর্ধক এবং সুরক্ষিত অবস্থানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। তীব্র হামলার মুখে মারিব শহরের বাইরের বিভিন্ন অবস্থান থেকে হুথি যোদ্ধারা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে বলেও দাবি করেছে সরকারি বাহিনী।

এদিকে শনিবার সানা, আমরান, হোদেইদা ও হুথিদের নিয়ন্ত্রণাধীন অন্যান্য এলাকায় অন্তত ৫০ যোদ্ধার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন বলে আরব নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তারা যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।তবে হুথিদের হতাহতের যে সংখ্যা প্রকাশ্যে স্বীকার করা হয়, তা প্রকৃত সংখ্যার তুলনায় অনেক কম বলে দাবি করেছেন আলহাতেমি। তার দাবি, হুথিরা প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৫০০ যোদ্ধা হারাচ্ছে এবং মনোবল ভেঙে পড়া ঠেকাতে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা গোপন করছে। তবে এই হিসাব ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তার দাবি; স্বাধীনভাবে এর সত্যতা যাচাই করা যায়নি। মারিব ইয়েমেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অঞ্চল। শহরটিতে তেল ও গ্যাসক্ষেত্রের পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। একই সঙ্গে গত এক দশকের সংঘাত ও হুথিদের দমনপীড়ন থেকে পালিয়ে আসা অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের বড় একটি অংশও এখানে আশ্রয় নিয়েছে। আরব নিউজের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে ২০ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ মারিবে আশ্রয় নিয়েছেন।

মারিব দখলের জন্য হুথিরা এর আগে একাধিকবার বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে। এসব অভিযানে হাজারো বেসামরিক নাগরিক ও যোদ্ধা নিহত বা আহত হলেও শহরটি দখল করতে পারেনি তারা। ২০২২ সালের এপ্রিলে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর হুথিদের বড় ধরনের অভিযান কিছুটা থেমে যায়। এর মধ্যেই ইয়েমেনি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সংঘর্ষের পর মারিব শহরের পশ্চিমে অবস্থিত নোমান পাহাড়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে তারা। পাশাপাশি দেশের পশ্চিমাঞ্চল ও বাব আলমান্দাব প্রণালী ঘিরেও সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত বাড়ছে। নোমান পাহাড়ের নিয়ন্ত্রণ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্র: আরব নিউজ

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জ্বালানির দাম বাড়ায় যাত্রীপ্রতি বাস ভাড়া ৫০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত মালিকদের

ইয়েমেনে তীব্র লড়াই, ৮০ হুথি যোদ্ধা নিহত

আপডেট সময় ০১:৪৯:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এবার ইয়েমেনের কৌশলগত ও জ্বালানিসমৃদ্ধ মারিব শহর ঘিরে আবারও তীব্র লড়াই শুরু হয়েছে। টানা প্রায় ২৪ ঘণ্টার সংঘর্ষে ইরানসমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর ৮০ জনের বেশি যোদ্ধা নিহত এবং তাদের ৯টি সামরিক যান ধ্বংসের দাবি করেছে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর সামরিক গণমাধ্যম বিভাগের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া আলহাতেমি সৌদি আরবভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরব নিউজকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, শনিবার রাত থেকে রোববার রাত পর্যন্ত মারিবের দক্ষিণের হেরেব, মালা ও উম রাইশ এলাকায় সরকারি বাহিনীর সঙ্গে হুথিদের তীব্র সংঘর্ষ হয়।

আলহাতেমির ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি বাহিনী বিমান ও ড্রোনের সহায়তায় হুথিদের হামলা প্রতিহত করে। এতে ৮০ জনের বেশি হুথি যোদ্ধা নিহত হন এবং বাকিরা বিভিন্ন অবস্থান থেকে পালিয়ে যায়। সংঘর্ষে হুথিদের ৯টি সামরিক যানও ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ইয়েমেনি সেনাবাহিনী জানায়, মারিব প্রদেশের বিভিন্ন সম্মুখসারিতে হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় যোদ্ধাদের সমাবেশস্থল, সামরিক রসদ ও শক্তিবর্ধক এবং সুরক্ষিত অবস্থানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। তীব্র হামলার মুখে মারিব শহরের বাইরের বিভিন্ন অবস্থান থেকে হুথি যোদ্ধারা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে বলেও দাবি করেছে সরকারি বাহিনী।

এদিকে শনিবার সানা, আমরান, হোদেইদা ও হুথিদের নিয়ন্ত্রণাধীন অন্যান্য এলাকায় অন্তত ৫০ যোদ্ধার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন বলে আরব নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তারা যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।তবে হুথিদের হতাহতের যে সংখ্যা প্রকাশ্যে স্বীকার করা হয়, তা প্রকৃত সংখ্যার তুলনায় অনেক কম বলে দাবি করেছেন আলহাতেমি। তার দাবি, হুথিরা প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৫০০ যোদ্ধা হারাচ্ছে এবং মনোবল ভেঙে পড়া ঠেকাতে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা গোপন করছে। তবে এই হিসাব ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তার দাবি; স্বাধীনভাবে এর সত্যতা যাচাই করা যায়নি। মারিব ইয়েমেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অঞ্চল। শহরটিতে তেল ও গ্যাসক্ষেত্রের পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। একই সঙ্গে গত এক দশকের সংঘাত ও হুথিদের দমনপীড়ন থেকে পালিয়ে আসা অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের বড় একটি অংশও এখানে আশ্রয় নিয়েছে। আরব নিউজের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে ২০ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ মারিবে আশ্রয় নিয়েছেন।

মারিব দখলের জন্য হুথিরা এর আগে একাধিকবার বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে। এসব অভিযানে হাজারো বেসামরিক নাগরিক ও যোদ্ধা নিহত বা আহত হলেও শহরটি দখল করতে পারেনি তারা। ২০২২ সালের এপ্রিলে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর হুথিদের বড় ধরনের অভিযান কিছুটা থেমে যায়। এর মধ্যেই ইয়েমেনি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সংঘর্ষের পর মারিব শহরের পশ্চিমে অবস্থিত নোমান পাহাড়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে তারা। পাশাপাশি দেশের পশ্চিমাঞ্চল ও বাব আলমান্দাব প্রণালী ঘিরেও সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত বাড়ছে। নোমান পাহাড়ের নিয়ন্ত্রণ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্র: আরব নিউজ