ঢাকা , সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::

দেশের ইতিহাসে বড় আকারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:১০:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

গভীর রাতে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে রোববার রাতে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আকারে জ্বালানির মূল্য লিটারে ২০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত দীর্ঘ ১৭ বছর তারা ক্ষমতায় ছিলেন না, তাই নেতাকর্মীদের পকেট ভারী করার জন্য এই ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।

 

সোমবার বিকালে রাজধানীর মহাখালীতে জ্বালানি তেলের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তর আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মহাখালী কলেরা হাসপাতালের সামনে রেলগেট এলাকায় এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

 

জুবায়ের বলেন, এই সরকার ৬ মাসের মধ্যে তিনবার জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি করেছে। প্রথমবার আমাদের পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লম্বা লাইন ছিল। এই সংকট দীর্ঘদিন চলার পর বিরোধী দল যখন জাতীয় সংসদে এই সংকট নিয়ে কথা বলতে চেয়েছে, তার তিন দিনের মধ্যেই সকল সংকট শেষ হয়ে গেছে। পাম্পগুলোতে তখন সংকট শেষ। এর মাধ্যমেই বোঝা গেল, একদল লোককে সরকার সুবিধা দেওয়ার জন্য এই কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছিল।’

 

তিনি বলেন, ‘এই জ্বালানি সংকটের কারণে দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধি, কৃষিখাতে মহাদুর্যোগ, গার্মেন্টসসহ সকল কলকারখানা বন্ধের দিকে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘এই অবস্থায় বিরোধী দলের পক্ষ থেকে গত সংসদেও বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, আমাদের এই বিশেষজ্ঞ কমিটি আপনাদেরকে জ্বালানি সংকট নিরসনে পূর্ণ সহযোগিতা করবে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া দেওয়া হয়নি।’

 

সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, ‘৬ মাসের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, গোটা দেশব্যাপী দুর্নীতি, লুণ্ঠন ও অরাজকতার মাধ্যমে আমরা দেখতে পারছি বিএনপি সরকার অধিষ্ঠিত নয়, মনে হচ্ছে বিগত ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের একটি এক্সটিম সরকার।’

 

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গত ৬ মাসে শিশু আছিয়া, রামিসা ও অপ্রতিম খুন হওয়ার মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার পদে থাকার নৈতিক সেই অধিকার হারিয়েছেন।’

 

তিনি বলেন, ‘আমাদের দাবি পরিষ্কার। খুনি হাসিনাসহ তার সঙ্গীদের দেশে ফেরত এনে ডিসেম্বরের মধ্যে বিচারের রায় কার্যকর করতে হবে।’

 

ড. রেজাউল করিম আরও বলেন, ‘অবিলম্বে তেল, গ্যাস, সারসহ দ্রব্যমূল্যের যে অবস্থা, তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। নয়তো সরকারকে গদি ছাড়তে হবে। কেননা জনগণের স্লোগান—“তেল দে, গ্যাস দে, নয়তো গদি ছেড়ে দে।”’

 

কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিকের উপস্থাপনায় এতে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি নাজিম উদ্দীন মোল্লা ও ইয়াসিন আরাফাত।

 

উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য আতাউর রহমান সরকার, জামাল উদ্দিন, মুহিবুল্লাহ ও নাসির উদ্দীন প্রমুখ।

 

বিক্ষোভ মিছিলে বক্তারা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়ে তা প্রত্যাহার, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের দাবি জানান।

 

মিছিল কলেরা হাসপাতালের সামনে থেকে শুরু হয়ে নাবিস্কোতে গিয়ে শেষ হয়।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

পড়তে-লিখতে জানেন না, শুনে শুনে ৭১ বছরে পুরো কোরআন হিফজ!

দেশের ইতিহাসে বড় আকারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে

আপডেট সময় ১০:১০:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গভীর রাতে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে রোববার রাতে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আকারে জ্বালানির মূল্য লিটারে ২০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত দীর্ঘ ১৭ বছর তারা ক্ষমতায় ছিলেন না, তাই নেতাকর্মীদের পকেট ভারী করার জন্য এই ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।

 

সোমবার বিকালে রাজধানীর মহাখালীতে জ্বালানি তেলের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তর আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মহাখালী কলেরা হাসপাতালের সামনে রেলগেট এলাকায় এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

 

জুবায়ের বলেন, এই সরকার ৬ মাসের মধ্যে তিনবার জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি করেছে। প্রথমবার আমাদের পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লম্বা লাইন ছিল। এই সংকট দীর্ঘদিন চলার পর বিরোধী দল যখন জাতীয় সংসদে এই সংকট নিয়ে কথা বলতে চেয়েছে, তার তিন দিনের মধ্যেই সকল সংকট শেষ হয়ে গেছে। পাম্পগুলোতে তখন সংকট শেষ। এর মাধ্যমেই বোঝা গেল, একদল লোককে সরকার সুবিধা দেওয়ার জন্য এই কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছিল।’

 

তিনি বলেন, ‘এই জ্বালানি সংকটের কারণে দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধি, কৃষিখাতে মহাদুর্যোগ, গার্মেন্টসসহ সকল কলকারখানা বন্ধের দিকে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘এই অবস্থায় বিরোধী দলের পক্ষ থেকে গত সংসদেও বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, আমাদের এই বিশেষজ্ঞ কমিটি আপনাদেরকে জ্বালানি সংকট নিরসনে পূর্ণ সহযোগিতা করবে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া দেওয়া হয়নি।’

 

সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, ‘৬ মাসের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, গোটা দেশব্যাপী দুর্নীতি, লুণ্ঠন ও অরাজকতার মাধ্যমে আমরা দেখতে পারছি বিএনপি সরকার অধিষ্ঠিত নয়, মনে হচ্ছে বিগত ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের একটি এক্সটিম সরকার।’

 

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গত ৬ মাসে শিশু আছিয়া, রামিসা ও অপ্রতিম খুন হওয়ার মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার পদে থাকার নৈতিক সেই অধিকার হারিয়েছেন।’

 

তিনি বলেন, ‘আমাদের দাবি পরিষ্কার। খুনি হাসিনাসহ তার সঙ্গীদের দেশে ফেরত এনে ডিসেম্বরের মধ্যে বিচারের রায় কার্যকর করতে হবে।’

 

ড. রেজাউল করিম আরও বলেন, ‘অবিলম্বে তেল, গ্যাস, সারসহ দ্রব্যমূল্যের যে অবস্থা, তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। নয়তো সরকারকে গদি ছাড়তে হবে। কেননা জনগণের স্লোগান—“তেল দে, গ্যাস দে, নয়তো গদি ছেড়ে দে।”’

 

কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিকের উপস্থাপনায় এতে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি নাজিম উদ্দীন মোল্লা ও ইয়াসিন আরাফাত।

 

উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য আতাউর রহমান সরকার, জামাল উদ্দিন, মুহিবুল্লাহ ও নাসির উদ্দীন প্রমুখ।

 

বিক্ষোভ মিছিলে বক্তারা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়ে তা প্রত্যাহার, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের দাবি জানান।

 

মিছিল কলেরা হাসপাতালের সামনে থেকে শুরু হয়ে নাবিস্কোতে গিয়ে শেষ হয়।