ঢাকা , সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::

মোহনপুরে বিধবা নারীকে মারধরের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৩৩:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহীর মোহনপুরে ৬৫ বছর বয়সী এক বিধবা নারীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ঘাসিগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনসার আলী মীরের বিরুদ্ধে। আহত নুরজাহান বর্তমানে মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার ঘাসিগ্রাম ইউনিয়নের আতানারায়নপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত নুরজাহান ওই গ্রামের মৃত আতাউর রহমানের স্ত্রী।

 

আহতের পরিবারের অভিযোগ, বাড়ির পাশের জমিতে গর্ত করে মাটি নেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী আনসার আলী মীর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নুরজাহানের বিরোধ হয়। একপর্যায়ে তাঁকে মারধর করা হয়। এ সময় মাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাঁর মেয়ে আফসানা জাহান রিনাকেও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।

আফসানা জাহান রিনা বলেন, তাঁদের জমিতে গর্ত করে মাটি নেওয়া হচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে তাঁর মা নুরজাহান নিষেধ করলে আনসার আলী মীর, তাঁর ভাই সিরাজুল ইসলাম ও স্ত্রী মোছা. লাবনী খাতুনের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাঁর মাকে মারধর করা হয়।

 

তিনি অভিযোগ করেন, প্রথমে তাঁর মাকে স্যান্ডেল দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে বাঁশ দিয়ে মারধর করা হয়। মাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলে তাঁকেও বাঁশ দিয়ে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় তিনি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা আনসার আলী মীর। তিনি বলেন, ‘এটা মেয়েদের মধ্যে ঝগড়ার ঘটনা। আমি একজন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। আমি কি মেয়েমানুষের গায়ে হাত দিতে পারি?’

 

ঘাসিগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল মালেক বলেন, একজন নারী তাঁকে ফোন করে ঘটনাটি জানিয়েছেন। তবে ঘটনা যা-ই ঘটুক, ভুল বোঝাবুঝি হয়ে থাকতে পারে। সভাপতি হিসেবে তিনি উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করবেন। দলীয় বিষয়ে উপজেলা বিএনপি সিদ্ধান্ত নেবে বলেও জানান তিনি।

রাজশাহীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) হেলেনা আকতার বলেন, ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধী যে-ই হোক, অপরাধের বিষয়ে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

পড়তে-লিখতে জানেন না, শুনে শুনে ৭১ বছরে পুরো কোরআন হিফজ!

মোহনপুরে বিধবা নারীকে মারধরের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

আপডেট সময় ১০:৩৩:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজশাহীর মোহনপুরে ৬৫ বছর বয়সী এক বিধবা নারীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ঘাসিগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনসার আলী মীরের বিরুদ্ধে। আহত নুরজাহান বর্তমানে মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার ঘাসিগ্রাম ইউনিয়নের আতানারায়নপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত নুরজাহান ওই গ্রামের মৃত আতাউর রহমানের স্ত্রী।

 

আহতের পরিবারের অভিযোগ, বাড়ির পাশের জমিতে গর্ত করে মাটি নেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী আনসার আলী মীর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নুরজাহানের বিরোধ হয়। একপর্যায়ে তাঁকে মারধর করা হয়। এ সময় মাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাঁর মেয়ে আফসানা জাহান রিনাকেও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।

আফসানা জাহান রিনা বলেন, তাঁদের জমিতে গর্ত করে মাটি নেওয়া হচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে তাঁর মা নুরজাহান নিষেধ করলে আনসার আলী মীর, তাঁর ভাই সিরাজুল ইসলাম ও স্ত্রী মোছা. লাবনী খাতুনের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাঁর মাকে মারধর করা হয়।

 

তিনি অভিযোগ করেন, প্রথমে তাঁর মাকে স্যান্ডেল দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে বাঁশ দিয়ে মারধর করা হয়। মাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলে তাঁকেও বাঁশ দিয়ে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় তিনি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা আনসার আলী মীর। তিনি বলেন, ‘এটা মেয়েদের মধ্যে ঝগড়ার ঘটনা। আমি একজন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। আমি কি মেয়েমানুষের গায়ে হাত দিতে পারি?’

 

ঘাসিগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল মালেক বলেন, একজন নারী তাঁকে ফোন করে ঘটনাটি জানিয়েছেন। তবে ঘটনা যা-ই ঘটুক, ভুল বোঝাবুঝি হয়ে থাকতে পারে। সভাপতি হিসেবে তিনি উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করবেন। দলীয় বিষয়ে উপজেলা বিএনপি সিদ্ধান্ত নেবে বলেও জানান তিনি।

রাজশাহীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) হেলেনা আকতার বলেন, ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধী যে-ই হোক, অপরাধের বিষয়ে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।