রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক এবং বাহক। উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই উচ্চশিক্ষার বিস্তার, জ্ঞান–বিজ্ঞান চর্চা এবং উদ্ভাবনে অনন্য ভূমিকা পালন করে চলেছে। বুধবার (১ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার (৩০ জুন) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।
ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যাপীঠের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক সব শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা–কর্মচারীসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে জাতির রাজনৈতিক, সামাজিক ও জাতীয় জাগরণ ঘটেছে এবং এরই ক্রমধারায় অভ্যুদয় ঘটেছে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের।
তিনি বলেন, ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন, দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রাম, ৯ মাসের সশস্ত্র রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানসহ দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন–সংগ্রামে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবদান অসামান্য ও গৌরবোজ্জ্বল। একইসঙ্গে দেশের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, মানবিকতা, মুক্তবুদ্ধি চর্চা, শিক্ষা–সাহিত্য–সংস্কৃতির বিকাশেও এই বাতিঘরের কীর্তি অবিস্মরণীয়। দক্ষ মানবসম্পদ ও পেশাজীবী তৈরি, চিন্তক ও দূরদর্শী নেতৃত্ব গড়ে তোলাসহ জনজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এই জ্ঞানপীঠের অবদান অনন্য সাধারণ।
এই প্রেক্ষাপটে জাতির আশা–আকাঙ্ক্ষার প্রতীক এই বিশ্ববিদ্যালয়ের এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রতিপাদ্য ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ যথার্থ ও প্রাসঙ্গিক হয়েছে বলে মনে করেন মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। দেশের উচ্চশিক্ষার পথিকৃৎ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেও বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। শিক্ষা ও গবেষণা পাঠ্যসূচিকে যুগোপযোগী ও আধুনিক করতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আগামীতেও গৌরবময় ঐতিহ্য ও একাডেমিক শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখবে, জাতীয় জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে জনগণের পাশে থাকবে এবং দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় ইতিবাচক অবদান অব্যাহত রাখবে এটাই সবার প্রত্যাশা। সূত্র: বাসস

ডেস্ক রিপোর্ট 













