ঢাকা , সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
প্রধানমন্ত্রীর ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ কমিটমেন্টের সফল বাস্তবায়ন হবে: প্রেস সচিব ওসমান হাদির কবরে প্রতিদিন ক্ষমা চাইতে যান এক শহীদের বাবা নাতিকে টাকা ধার না দিতে দাদার মাইকিং গোয়ালন্দে তিন হাজার টাকায় ভাড়াটে খুনি দিয়ে বড় ভাইকে হত্যা: পুলিশ হালান্ডের নতুন লুকে প্রেমিকার আক্ষেপ, বললেন ‘কান্না পাচ্ছে’ ট্রাম্পের অর্থনৈতিক যুদ্ধের ঘোষণাই সামরিকভাবে পরাজয়ের স্বীকারোক্তি: আইআরজিসি বিএনপি সরকারও ফ্যাসিবাদের পথেই হাঁটছে: ডা. শফিকুর রহমান চেম্বারে ঢুকে চিকিৎসককে মারধরের ঘটনায় সেই তরুণী গ্রেফতার ভালো ফলাফলের পাশাপাশি নৈতিকতার শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে: এটিএম আজহারুল ২০ বছর পর যে দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

অভিযুক্ত শেখ হাসিনাসহ ৫০, সত্যতা মেলেনি ৪৯ জনের বিরুদ্ধে

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:৪২:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৩৭৯ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর মিরপুর-১০ গোলচত্বরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় রাকিব হোসেন (২৯) নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় মামলার ৪৯ আসামির অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই পরিদর্শক মো. মমিনুল ইসলাম গত ১৩ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ৫০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনযোগ্য বলে মত দেয় পিবিআই। অন্যদিকে, কয়েকজন ঘটনার সময় মিরপুর এলাকায় উপস্থিত ছিলেন না এবং কারও নাম অসৎ উদ্দেশ্যে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে তদন্তে উঠে আসায় তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে শেখ হাসিনা ছাড়াও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার বিপ্লব কুমার, সাবেক সংসদ সদস্য মাইনুল হোসেন খান নিখিল, কামাল আহমেদ মজুমদার, ইলিয়াস মোল্লাসহ আরও কয়েকজনের নাম রয়েছে।

অন্যদিকে অব্যাহতির সুপারিশ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন খান, কামরুল আরেফিন, গালিবুর রহমান শরিফ, আলোক হেলথকেয়ার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. লোকমান হোসেন এবং ব্যবসায়ী ইলিয়াস আহমেদ তালুকদার।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে তৎকালীন সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তদন্তে অভিযোগ করা হয়েছে, আন্দোলন প্রতিহত করতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উসকানিমূলক বক্তব্য দেন এবং আন্দোলন দমনে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই রাতে মিরপুর-১০ গোলচত্বরে আন্দোলন চলাকালে গুলিবিদ্ধ হন রাকিব হোসেন। পরে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে ২০ সেপ্টেম্বর নিহতের বাবা আবু বক্কর সিদ্দিক মিরপুর মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

এদিকে, নিহত রাকিবের বাবা আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়ে তিনি আগে জানতেন না। তবে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি জানান তিনি।

সূত্র: ইত্তেফাক

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ কমিটমেন্টের সফল বাস্তবায়ন হবে: প্রেস সচিব

অভিযুক্ত শেখ হাসিনাসহ ৫০, সত্যতা মেলেনি ৪৯ জনের বিরুদ্ধে

আপডেট সময় ০৪:৪২:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানীর মিরপুর-১০ গোলচত্বরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় রাকিব হোসেন (২৯) নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় মামলার ৪৯ আসামির অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই পরিদর্শক মো. মমিনুল ইসলাম গত ১৩ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ৫০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনযোগ্য বলে মত দেয় পিবিআই। অন্যদিকে, কয়েকজন ঘটনার সময় মিরপুর এলাকায় উপস্থিত ছিলেন না এবং কারও নাম অসৎ উদ্দেশ্যে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে তদন্তে উঠে আসায় তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে শেখ হাসিনা ছাড়াও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার বিপ্লব কুমার, সাবেক সংসদ সদস্য মাইনুল হোসেন খান নিখিল, কামাল আহমেদ মজুমদার, ইলিয়াস মোল্লাসহ আরও কয়েকজনের নাম রয়েছে।

অন্যদিকে অব্যাহতির সুপারিশ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন খান, কামরুল আরেফিন, গালিবুর রহমান শরিফ, আলোক হেলথকেয়ার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. লোকমান হোসেন এবং ব্যবসায়ী ইলিয়াস আহমেদ তালুকদার।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে তৎকালীন সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তদন্তে অভিযোগ করা হয়েছে, আন্দোলন প্রতিহত করতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উসকানিমূলক বক্তব্য দেন এবং আন্দোলন দমনে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই রাতে মিরপুর-১০ গোলচত্বরে আন্দোলন চলাকালে গুলিবিদ্ধ হন রাকিব হোসেন। পরে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে ২০ সেপ্টেম্বর নিহতের বাবা আবু বক্কর সিদ্দিক মিরপুর মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

এদিকে, নিহত রাকিবের বাবা আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়ে তিনি আগে জানতেন না। তবে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি জানান তিনি।

সূত্র: ইত্তেফাক