ঢাকা , মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
লোডশেডিং খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে বেশ খানিকটা কমবে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’ ট্রেনে যাত্রীকে ধর্ষণ, ক্যানটিন বয় গ্রেপ্তার দস্যু বাহিনীকে চাঁদা দিয়েই বনে যাচ্ছেন জেলেরা, জিম্মি সুন্দরবন ২০০টিরও বেশি বিমান ভূপা’তিত করেছে ইরান: প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান কমান্ডার দেশের ইন্টারনেট নিয়ে বড় বিপদের শ’ঙ্কা ‘পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না’ বাসের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত পদ্মা সেতুর রেলিং মেরামতে খরচ হবে ২ লাখ টাকা সীমান্ত নিরাপত্তা বাড়াতে সিলেটে উদ্বোধন হলো ‘ড্রোন ওয়ারফেয়ার’ স্কুল ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগকে ফেরাতে লংমার্চের ঘোষণা দিয়েছে জামায়াত-এনসিপি: রাশেদ খাঁন ভারতের কাছে আরও পাঁচটি এস-৪০০ বেচতে চায় রাশিয়া

দস্যু বাহিনীকে চাঁদা দিয়েই বনে যাচ্ছেন জেলেরা, জিম্মি সুন্দরবন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৫:৪৩:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

টানা তিন মাসের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ থেকে আবারও উন্মুক্ত হলো বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন। প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গত ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে সব ধরনের প্রবেশ ও মাছ-কাঁকড়া আহরণ বন্ধ ছিল।

মঙ্গলবার নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর সুন্দরবনের নদী-খালে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে নৌকা নিয়ে বনে ফিরতে শুরু করেছেন উপকূলের হাজারো জেলে। পাশাপাশি পর্যটকদের জন্যও খুলে দেওয়া হয়েছে সুন্দরবনের দ্বার।

তবে দীর্ঘ অপেক্ষার পর বনে ফেরার আনন্দের সঙ্গে জেলেদের মধ্যে দেখা দিয়েছে জলদস্যু আতঙ্ক। বন বিভাগের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে বনে প্রবেশের আগেই দস্যুদের দাবিকৃত চাঁদা দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ বনজীবীদের।

সাতক্ষীরা রেঞ্জসংলগ্ন গাবুরা এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, নৌকা ও জাল প্রস্তুত করে বনমুখী হওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন জেলেরা। তবে দস্যুদের তৎপরতায় তাদের মধ্যে বিরাজ করছে উদ্বেগ।

স্থানীয় বনজীবীদের দাবি, সাতক্ষীরা অঞ্চলকেন্দ্রিক অন্তত তিনটি জলদস্যু বাহিনী সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। এগুলো হলো—‘বড় জাহাঙ্গীর’, ‘দয়াল-নানা ভাই ওরফে ডন আনারুল’ এবং ‘মঞ্জু ও দুলাভাই বাহিনী’। তাদের অভিযোগ, এসব বাহিনীতে রয়েছে শতাধিক সশস্ত্র সদস্য।

বনজীবীদের দাবি, বনে প্রবেশের আগে নৌকাপ্রতি প্রতিটি বাহিনীকে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। তিন বাহিনীকে মিলিয়ে একটি নৌকাকে দিতে হচ্ছে প্রায় ৭৫ থেকে ৯০ হাজার টাকা। চাঁদা না দিলে জিম্মি করে দ্বিগুণ মুক্তিপণ আদায়েরও অভিযোগ রয়েছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরা রেঞ্জে মাছ ও কাঁকড়া আহরণের জন্য নিবন্ধিত বিএলসি রয়েছে প্রায় ২ হাজার ৯০০টি। প্রতি নৌকায় দুই থেকে তিনজন জেলে হিসেবে প্রায় ৯ হাজার মানুষের জীবিকা এই বনের ওপর নির্ভরশীল।

জেলেদের নিরাপত্তায় কোস্টগার্ড, বন বিভাগের ‘স্মার্ট পেট্রোলিং’ টিম ও বনকর্মীদের টহল জোরদার করা হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবে ট্যুরিস্ট পুলিশ।

বন বিভাগ জানিয়েছে, সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে অনুমতিপত্র নিয়েই জেলেদের বনে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিষ দিয়ে মাছ শিকার, হরিণ শিকারসহ যেকোনো অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

লোডশেডিং খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে বেশ খানিকটা কমবে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

দস্যু বাহিনীকে চাঁদা দিয়েই বনে যাচ্ছেন জেলেরা, জিম্মি সুন্দরবন

আপডেট সময় ০৫:৪৩:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টানা তিন মাসের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ থেকে আবারও উন্মুক্ত হলো বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন। প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গত ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে সব ধরনের প্রবেশ ও মাছ-কাঁকড়া আহরণ বন্ধ ছিল।

মঙ্গলবার নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর সুন্দরবনের নদী-খালে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে নৌকা নিয়ে বনে ফিরতে শুরু করেছেন উপকূলের হাজারো জেলে। পাশাপাশি পর্যটকদের জন্যও খুলে দেওয়া হয়েছে সুন্দরবনের দ্বার।

তবে দীর্ঘ অপেক্ষার পর বনে ফেরার আনন্দের সঙ্গে জেলেদের মধ্যে দেখা দিয়েছে জলদস্যু আতঙ্ক। বন বিভাগের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে বনে প্রবেশের আগেই দস্যুদের দাবিকৃত চাঁদা দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ বনজীবীদের।

সাতক্ষীরা রেঞ্জসংলগ্ন গাবুরা এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, নৌকা ও জাল প্রস্তুত করে বনমুখী হওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন জেলেরা। তবে দস্যুদের তৎপরতায় তাদের মধ্যে বিরাজ করছে উদ্বেগ।

স্থানীয় বনজীবীদের দাবি, সাতক্ষীরা অঞ্চলকেন্দ্রিক অন্তত তিনটি জলদস্যু বাহিনী সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। এগুলো হলো—‘বড় জাহাঙ্গীর’, ‘দয়াল-নানা ভাই ওরফে ডন আনারুল’ এবং ‘মঞ্জু ও দুলাভাই বাহিনী’। তাদের অভিযোগ, এসব বাহিনীতে রয়েছে শতাধিক সশস্ত্র সদস্য।

বনজীবীদের দাবি, বনে প্রবেশের আগে নৌকাপ্রতি প্রতিটি বাহিনীকে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। তিন বাহিনীকে মিলিয়ে একটি নৌকাকে দিতে হচ্ছে প্রায় ৭৫ থেকে ৯০ হাজার টাকা। চাঁদা না দিলে জিম্মি করে দ্বিগুণ মুক্তিপণ আদায়েরও অভিযোগ রয়েছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরা রেঞ্জে মাছ ও কাঁকড়া আহরণের জন্য নিবন্ধিত বিএলসি রয়েছে প্রায় ২ হাজার ৯০০টি। প্রতি নৌকায় দুই থেকে তিনজন জেলে হিসেবে প্রায় ৯ হাজার মানুষের জীবিকা এই বনের ওপর নির্ভরশীল।

জেলেদের নিরাপত্তায় কোস্টগার্ড, বন বিভাগের ‘স্মার্ট পেট্রোলিং’ টিম ও বনকর্মীদের টহল জোরদার করা হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবে ট্যুরিস্ট পুলিশ।

বন বিভাগ জানিয়েছে, সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে অনুমতিপত্র নিয়েই জেলেদের বনে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিষ দিয়ে মাছ শিকার, হরিণ শিকারসহ যেকোনো অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।