ঢাকা , মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ঠাকুরগাঁও লোকায়ান জাদুঘরের গ্রামীন ঐতিহ্যে মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত, চোড়লেন গরুর গাড়িতে পুলিশের সামনে নারী উদ্যোক্তাকে মারধর, ভাইরাল সেই ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩ কাবা শরীফকে সাক্ষী রেখে দল ছাড়ার ঘোষণা বিএনপি নেতার ভক্ত সেজে মন্দিরে চুরি, পিতলের ত্রিশূলসহ নয়ন দেবনাথ গ্রেপ্তার নেপালে বোনকে পিঠে নিয়ে মা-বাবার খোঁজে বালক ফেসবুকে ‘চির বিদায় পৃথিবী’ লিখে পোস্ট, ১৯ ঘণ্টা পর সড়কে ঝরল প্রাণ কাদায় ঢাকা সুড়ঙ্গে ৬০০ শ্রমিক! জীবিত উদ্ধারে মরিয়া দমকলকর্মীরা বিদেশ ভ্রমণ, স্বর্ণ কেনা ও দেশের বাইরে বিয়ে করতে না করলেন মোদি ‘শুধু মাদক বিক্রেতা নয়, গডফাদারদেরও আইনের আওতায় আনতে চাই’ ৪৫ বছর পর মিলল মোজাফফরের ফোনে জিয়া হত্যার নতুন তথ্য

কাদায় ঢাকা সুড়ঙ্গে ৬০০ শ্রমিক! জীবিত উদ্ধারে মরিয়া দমকলকর্মীরা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:১২:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

এবার নেপালের ত্রিশূলী নদীর তীরে কাদায় ভরা বিশাল সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্কে আটকা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে ৬০০ জনের বেশি শ্রমিক। তাদের স্বজনরা এখনো আশা করছেন, প্রিয়জনদের জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হবে। সোমবারও (৩১ আগস্টত্রিশূলী৩এ প্রকল্প এলাকায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত ছিল। পাহাড়ের ঢালে বিস্ফোরক ব্যবহার করে পথ তৈরি করার পাশাপাশি সুড়ঙ্গের ভেতরে বাতাস প্রবেশ করানো হচ্ছে। উদ্ধারকারীদের আশঙ্কা, আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারের গুরুত্বপূর্ণ সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। এদিকে, নেপালতিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৩৯ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিখোঁজের সংখ্যা সংশোধন করে ৩ হাজার ৯২৫ জন করা হয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে ৫৯২ জন বিদেশি নাগরিক। ধারণা করা হচ্ছে, নিখোঁজদের প্রায় প্রতি সাতজনের একজন বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের শ্রমিক। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, এসব প্রকল্প এলাকা থেকে এ পর্যন্ত ২৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযানে চীন ও নেপালের সামরিক সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত একটি আন্তর্জাতিক দল কাজ করছে। তাদের সঙ্গে ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞরাও যুক্ত হয়েছেন।

নিখোঁজদের স্বজনদের অনেকেই এখনো আশা ছাড়েননি। নেপালের দৈনিক কান্টিপুরকে সীতা পান্ডে বলেন, বন্যার সময় তার স্বামী জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি এখনো ৫০ শতাংশ আশা করছি, সে বেঁচে আছে। কারণ সুড়ঙ্গের ভেতরে অক্সিজেনের ব্যবস্থা রয়েছে।তবে উদ্ধার অভিযান নিয়ে ক্ষোভও বাড়ছে স্বজনদের মধ্যে। সপ্তাহান্তে একটি সুড়ঙ্গে বাতাস প্রবেশ করানো শুরু হলেও তাদের অভিযোগ, কাজটি আরও আগেই শুরু করা উচিত ছিল। সোমবার একটি উদ্ধারকারী দল একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের দিকে যাওয়া সুড়ঙ্গে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়। তবে সেখানে কাউকে না পেয়ে দলটি ফিরে আসে। কান্টিপুরকে জীবন খাদকা নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘সময় যত যাচ্ছে, আমাদের আশাও তত কমে যাচ্ছে। এই অভিযান আরও দ্রুত করতে হবে। আমাদের কাছে প্রতিটি সেকেন্ড গুরুত্বপূর্ণ।তিনি আরও বলেন, ‘উদ্ধারকাজ অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে, যা হতাশাজনক।উদ্ধারকাজে দূর থেকে নেপাল কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করছেন অস্ট্রেলীয় প্রকৌশলী আর্নল্ড ডিক্স। তার মতে, বন্যার ভয়াবহতায় সুড়ঙ্গগুলোর অবস্থান শনাক্ত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিবিসি রেডিও ফোরেরওয়ার্ল্ড অ্যাট ওয়ানঅনুষ্ঠানে ডিক্স বলেন, সুড়ঙ্গগুলোর যে চিহ্ন থাকার কথা ছিল, তা আর নেই। সবকিছু যেন উধাও হয়ে গেছে। পুরো এলাকাটিকে তার কাছেচাঁদের পৃষ্ঠের মতোমনে হয়েছে।

তিনি বলেন, জলবিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর অবস্থান শনাক্ত করা গেলে সেখানে পৌঁছানোর উপায় নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সাধারণত মাটি খনন ও বিস্ফোরণের মাধ্যমে বড় বড় পাথর সরিয়ে পথ তৈরি করতে হয়। ডিক্স বলেন, ‘এখানে এমন সব পাথর রয়েছে, যেগুলো একটি বাড়ির চেয়েও বড়। জীবনে আগে কখনো এমন কিছু দেখিনি। এটি সত্যিই এক অসাধারণ উদ্ধার অভিযান।তবে ভূগর্ভস্থ পরিবেশ ওপরের ভয়াবহ পানির স্রোত থেকে শ্রমিকদের কিছুটা সুরক্ষা দিয়ে থাকতে পারে বলে এখনো আশাবাদী তিনি। বন্যায় প্রাণহানির ভয়াবহ চিত্রও সামনে আসছে। নেপালের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বিবিসি নেপালিকে জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা প্রায় ৯০০ মরদেহের মাত্র ৪ শতাংশ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। বন্যার উৎসস্থল থেকে ভাটির দিকে অবস্থিত চিতওয়ান জেলায় অস্থায়ীভাবে মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। হিমালয় থেকে নেমে আসা নদীগুলো প্রায় ৩০০ মরদেহ ভাসিয়ে নিয়ে আসার পর সেখানে পরিস্থিতি সামাল দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।

শহরের বাইরে একটি জঙ্গলের বড় অংশ খুঁড়ে অস্থায়ী দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। চিকিৎসাকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকেরা শনাক্ত না হওয়া মরদেহ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করছেন। চিতওয়ানের জেলা প্রশাসক গণেশ আরিয়াল বলেন, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর স্বজনরা মরদেহ নিয়ে যেতে পারবেন। তিনি বলেন, ‘এখানে আমাদের পর্যাপ্ত ফ্রিজার নেই। তাই শেষ পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে দাফনের এই ব্যবস্থা বেছে নিতে হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে আমরা সত্যিই বিপর্যস্ত।নেপাল বিদ্যুৎ উৎপাদনে জলবিদ্যুতের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। পাহাড়ি নদীগুলোকে ঘিরে দেশটিতে বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে উঠেছে। এবারের ভয়াবহ বন্যায় অন্তত ১১টি নির্মিত বা নির্মাণাধীন জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এবারের বন্যাসাধারণ কোনো ঘটনা নয় শাহ আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে হিমালয় অঞ্চলে দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে। এ ধরনের দুর্যোগের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জোরালোভাবে বিষয়টি তুলে ধরার এখনই সময়। নিখোঁজ প্রকৌশলী মিলানের বোন প্রিয়া খারেলও অপেক্ষায় আছেন ভাইয়ের ফেরার আশায়। বন্যার সময় মিলান আপার ত্রিশূলী১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিবিসি নিউজ নেপালিকে প্রিয়া বলেন, ‘জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে যারা ফিরে এসেছেন, তারা বলেছেন, সুড়ঙ্গের ভেতরে মানুষ ছিল। তাই আশা আছে, সেনাবাহিনী দ্রুত তাদের কাছে পৌঁছাতে পারলে তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হবে।

সেই আশাতেই এখন স্বজনদের অপেক্ষা। অন্যদিকে উদ্ধারকারীরা লড়ছেন কাদা, ধ্বংসস্তূপ ও বিশাল পাথরের সঙ্গে। প্রতিটি মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণকারণ সুড়ঙ্গের অন্ধকারে আটকে থাকা ৬০০এর বেশি শ্রমিকের ভাগ্য এখন নির্ভর করছে উদ্ধারকারীরা কত দ্রুত তাদের কাছে পৌঁছাতে পারেন তার ওপর। অন্যদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিব্বতে বন্যায় এখন পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। চীনে বন্যার ভিডিও ও তথ্য ব্যাপকভাবে নিয়ন্ত্রণ ও সেন্সর করা হয়েছে। বন্যায় হতাহতের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশিএমন দাবি করে অনলাইনে মন্তব্যকারীদের বিরুদ্ধে চীনা কর্তৃপক্ষপ্রশাসনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থানিয়েছে। এর মধ্যে সতর্ক করা, জরিমানা কিংবা স্বল্পমেয়াদি আটক থাকতে পারে। নেপালেও বন্যা নিয়ে ভুল তথ্য বা গুজব হিসেবে বিবেচিত অনলাইন কনটেন্ট সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সূত্র: বিবিসি

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ঠাকুরগাঁও লোকায়ান জাদুঘরের গ্রামীন ঐতিহ্যে মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত, চোড়লেন গরুর গাড়িতে

কাদায় ঢাকা সুড়ঙ্গে ৬০০ শ্রমিক! জীবিত উদ্ধারে মরিয়া দমকলকর্মীরা

আপডেট সময় ১২:১২:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এবার নেপালের ত্রিশূলী নদীর তীরে কাদায় ভরা বিশাল সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্কে আটকা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে ৬০০ জনের বেশি শ্রমিক। তাদের স্বজনরা এখনো আশা করছেন, প্রিয়জনদের জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হবে। সোমবারও (৩১ আগস্টত্রিশূলী৩এ প্রকল্প এলাকায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত ছিল। পাহাড়ের ঢালে বিস্ফোরক ব্যবহার করে পথ তৈরি করার পাশাপাশি সুড়ঙ্গের ভেতরে বাতাস প্রবেশ করানো হচ্ছে। উদ্ধারকারীদের আশঙ্কা, আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারের গুরুত্বপূর্ণ সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। এদিকে, নেপালতিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৩৯ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিখোঁজের সংখ্যা সংশোধন করে ৩ হাজার ৯২৫ জন করা হয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে ৫৯২ জন বিদেশি নাগরিক। ধারণা করা হচ্ছে, নিখোঁজদের প্রায় প্রতি সাতজনের একজন বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের শ্রমিক। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, এসব প্রকল্প এলাকা থেকে এ পর্যন্ত ২৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযানে চীন ও নেপালের সামরিক সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত একটি আন্তর্জাতিক দল কাজ করছে। তাদের সঙ্গে ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞরাও যুক্ত হয়েছেন।

নিখোঁজদের স্বজনদের অনেকেই এখনো আশা ছাড়েননি। নেপালের দৈনিক কান্টিপুরকে সীতা পান্ডে বলেন, বন্যার সময় তার স্বামী জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি এখনো ৫০ শতাংশ আশা করছি, সে বেঁচে আছে। কারণ সুড়ঙ্গের ভেতরে অক্সিজেনের ব্যবস্থা রয়েছে।তবে উদ্ধার অভিযান নিয়ে ক্ষোভও বাড়ছে স্বজনদের মধ্যে। সপ্তাহান্তে একটি সুড়ঙ্গে বাতাস প্রবেশ করানো শুরু হলেও তাদের অভিযোগ, কাজটি আরও আগেই শুরু করা উচিত ছিল। সোমবার একটি উদ্ধারকারী দল একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের দিকে যাওয়া সুড়ঙ্গে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়। তবে সেখানে কাউকে না পেয়ে দলটি ফিরে আসে। কান্টিপুরকে জীবন খাদকা নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘সময় যত যাচ্ছে, আমাদের আশাও তত কমে যাচ্ছে। এই অভিযান আরও দ্রুত করতে হবে। আমাদের কাছে প্রতিটি সেকেন্ড গুরুত্বপূর্ণ।তিনি আরও বলেন, ‘উদ্ধারকাজ অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে, যা হতাশাজনক।উদ্ধারকাজে দূর থেকে নেপাল কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করছেন অস্ট্রেলীয় প্রকৌশলী আর্নল্ড ডিক্স। তার মতে, বন্যার ভয়াবহতায় সুড়ঙ্গগুলোর অবস্থান শনাক্ত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিবিসি রেডিও ফোরেরওয়ার্ল্ড অ্যাট ওয়ানঅনুষ্ঠানে ডিক্স বলেন, সুড়ঙ্গগুলোর যে চিহ্ন থাকার কথা ছিল, তা আর নেই। সবকিছু যেন উধাও হয়ে গেছে। পুরো এলাকাটিকে তার কাছেচাঁদের পৃষ্ঠের মতোমনে হয়েছে।

তিনি বলেন, জলবিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর অবস্থান শনাক্ত করা গেলে সেখানে পৌঁছানোর উপায় নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সাধারণত মাটি খনন ও বিস্ফোরণের মাধ্যমে বড় বড় পাথর সরিয়ে পথ তৈরি করতে হয়। ডিক্স বলেন, ‘এখানে এমন সব পাথর রয়েছে, যেগুলো একটি বাড়ির চেয়েও বড়। জীবনে আগে কখনো এমন কিছু দেখিনি। এটি সত্যিই এক অসাধারণ উদ্ধার অভিযান।তবে ভূগর্ভস্থ পরিবেশ ওপরের ভয়াবহ পানির স্রোত থেকে শ্রমিকদের কিছুটা সুরক্ষা দিয়ে থাকতে পারে বলে এখনো আশাবাদী তিনি। বন্যায় প্রাণহানির ভয়াবহ চিত্রও সামনে আসছে। নেপালের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বিবিসি নেপালিকে জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা প্রায় ৯০০ মরদেহের মাত্র ৪ শতাংশ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। বন্যার উৎসস্থল থেকে ভাটির দিকে অবস্থিত চিতওয়ান জেলায় অস্থায়ীভাবে মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। হিমালয় থেকে নেমে আসা নদীগুলো প্রায় ৩০০ মরদেহ ভাসিয়ে নিয়ে আসার পর সেখানে পরিস্থিতি সামাল দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।

শহরের বাইরে একটি জঙ্গলের বড় অংশ খুঁড়ে অস্থায়ী দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। চিকিৎসাকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকেরা শনাক্ত না হওয়া মরদেহ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করছেন। চিতওয়ানের জেলা প্রশাসক গণেশ আরিয়াল বলেন, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর স্বজনরা মরদেহ নিয়ে যেতে পারবেন। তিনি বলেন, ‘এখানে আমাদের পর্যাপ্ত ফ্রিজার নেই। তাই শেষ পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে দাফনের এই ব্যবস্থা বেছে নিতে হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে আমরা সত্যিই বিপর্যস্ত।নেপাল বিদ্যুৎ উৎপাদনে জলবিদ্যুতের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। পাহাড়ি নদীগুলোকে ঘিরে দেশটিতে বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে উঠেছে। এবারের ভয়াবহ বন্যায় অন্তত ১১টি নির্মিত বা নির্মাণাধীন জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এবারের বন্যাসাধারণ কোনো ঘটনা নয় শাহ আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে হিমালয় অঞ্চলে দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে। এ ধরনের দুর্যোগের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জোরালোভাবে বিষয়টি তুলে ধরার এখনই সময়। নিখোঁজ প্রকৌশলী মিলানের বোন প্রিয়া খারেলও অপেক্ষায় আছেন ভাইয়ের ফেরার আশায়। বন্যার সময় মিলান আপার ত্রিশূলী১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিবিসি নিউজ নেপালিকে প্রিয়া বলেন, ‘জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে যারা ফিরে এসেছেন, তারা বলেছেন, সুড়ঙ্গের ভেতরে মানুষ ছিল। তাই আশা আছে, সেনাবাহিনী দ্রুত তাদের কাছে পৌঁছাতে পারলে তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হবে।

সেই আশাতেই এখন স্বজনদের অপেক্ষা। অন্যদিকে উদ্ধারকারীরা লড়ছেন কাদা, ধ্বংসস্তূপ ও বিশাল পাথরের সঙ্গে। প্রতিটি মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণকারণ সুড়ঙ্গের অন্ধকারে আটকে থাকা ৬০০এর বেশি শ্রমিকের ভাগ্য এখন নির্ভর করছে উদ্ধারকারীরা কত দ্রুত তাদের কাছে পৌঁছাতে পারেন তার ওপর। অন্যদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিব্বতে বন্যায় এখন পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। চীনে বন্যার ভিডিও ও তথ্য ব্যাপকভাবে নিয়ন্ত্রণ ও সেন্সর করা হয়েছে। বন্যায় হতাহতের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশিএমন দাবি করে অনলাইনে মন্তব্যকারীদের বিরুদ্ধে চীনা কর্তৃপক্ষপ্রশাসনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থানিয়েছে। এর মধ্যে সতর্ক করা, জরিমানা কিংবা স্বল্পমেয়াদি আটক থাকতে পারে। নেপালেও বন্যা নিয়ে ভুল তথ্য বা গুজব হিসেবে বিবেচিত অনলাইন কনটেন্ট সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সূত্র: বিবিসি