প্যাডেল রিকশা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে নিরাপদ ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমোদন ও নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও জাতীয় অর্থনীতি রক্ষায় প্রাইভেট কারের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের দাবিও জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) জনস্বার্থে এ নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন।
নোটিশে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিআরটিএ চেয়ারম্যান এবং এনবিআর চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে।
নোটিশে দাবি করা হয়, দেশের ১ শতাংশেরও কম মানুষ প্রাইভেট কার ব্যবহার করলেও এসব গাড়ি সড়কের বড় একটি অংশ দখল করে রাখে। আমদানি করা জ্বালানি ব্যবহারের কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সরকারি ভর্তুকির ওপরও চাপ তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি প্রাইভেট কারের ধোঁয়া বায়ুদূষণ বাড়িয়ে জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।
অন্যদিকে, দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ গণপরিবহন ও রিকশার ওপর নির্ভরশীল উল্লেখ করে নোটিশে বলা হয়, দাবদাহ, বৃষ্টি ও যানজটের মধ্যে প্যাডেল রিকশা চালানো শ্রমিকদের দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ক্ষতির কারণ হচ্ছে। এটিকে ‘আধুনিক দাসত্ব’ উল্লেখ করে সংবিধানের ৩৪ অনুচ্ছেদের আলোকে প্যাডেল রিকশা বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে।
তবে ব্যাটারিচালিত রিকশা নিষিদ্ধ না করে গতি, ব্রেক, ব্যাটারি, কাঠামোগত নিরাপত্তা ও বৈজ্ঞানিক চার্জিং ব্যবস্থার বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়ন করে নিরাপদ রিকশার অনুমোদন দেওয়ার দাবি করা হয়েছে।
একই সঙ্গে প্রাইভেট কারের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও উচ্চহারে পরিবেশ কর আরোপের পাশাপাশি রাইড শেয়ারিং, রেন্ট-এ-কার ও মিটারভিত্তিক গাড়ি সেবা উৎসাহিত করার কথা বলা হয়েছে।
নোটিশে আগামী ১০ দিনের মধ্যে এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট দায়ের করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















