ঢাকা , শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
শেষ আবদার পূরণ হলো না: পিআইসিইউতে বাবার সামনে পানির জন্য কাঁদতে কাঁদতেই নিভে গেল আকিরা বাউফলে তিনটি বসতঘর পুড়ে ছাই, প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি ইরানের হরমুজ নিয়ন্ত্রণ: ক্রিপ্টোতে টোল আদায়, ব্যারেল প্রতি গুনতে হবে ১ ডলার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীর সাক্ষাৎ, ফের খুলছে শ্রমবাজার আবু সাঈদের মরদেহে গুলির অস্তিত্ব প্রমাণ হয়নি: আসামিপক্ষের আইনজীবী হেলিকপ্টারে গিয়ে নয়, নিজ কক্ষে বসেই দেখব কোন স্কুলে কী হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী ভোট বর্জন করলেন শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করতে রাশিয়ান দূতাবাসে মাওলানা মামুনুল হক এই সরকারের অধীনে প্রথম নির্বাচনেই কারচুপি-অনিয়ম ঘটছে: পরওয়ার ‘জঙ্গি এমপি’ অপবাদে খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্যের বিশেষ অধিকারের নোটিশ

গিটার শেখানোর নামে বাসায় নিয়ে ইডেন ছাত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক, কারাগারে কণ্ঠশিল্পী জাহিদ অন্তু

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:৪৯:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

এবার ইডেন কলেজের ছাত্রী জান্নাতুল তাজরিয়া অরাকে যৌন নিপীড়নের মামলায় তরুণ গায়ক আবু জাহিদ ওরফে জাহিদ অন্তুকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে সংবাদ সম্মেলন করে যৌন হেনস্তার বর্ণনা দেন জান্নাতুল তাজরিয়া অরা। তিনি বলেন, আমার নাম জান্নাতুল তাজরিয়া অরা। আমি একজন অভিনেত্রী, পাশাপাশি স্টুডেন্ট। তার নাম আবু জাহিদ ওরফে জাহিদ অন্তু। আপনারা সবাই কমবেশি তাকে চেনেন। সে একজন গায়ক। তা ছাড়া একজন তরুণ ব্যবসায়ীও বলতে পারেন। সে বেশকিছু প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করছে। তার ড্রেসের এবং প্রোডাক্টের কিছু শুট হয়। 

জান্নাতুল তাজরিয়া অরা বলেন, সম্প্রতি প্রোডাক্ট শুটের জন্য সে আমাকে নক করেছিল। বলেছিল যে প্রোডাক্ট শুট করার জন্য আপনি আমার বাসায় আসেন। কারণ তার বাসায় তার স্টুডিও, অফিস সব একসঙ্গে। সে অ্যাগ্রো ফরেস্ট নামের নতুন একটা প্রজেক্টে কাজ করছে। সঙ্গে তার পোশাকের ব্যবসাও আছে। সেই উদ্দেশে আমি তার বাসায় গিয়েছিলাম।

প্রোডাক্ট শুট করার জন্য গিয়েছিলাম। তারপরে কাজের পরিকল্পনা নিয়ে সে আর আমি রুমে বসেছিলাম। একটা পর্যায়ে সে বলল যে প্রোডাক্ট শুট তো ঠিক আছে, এখন তো ড্রেস আসেনি। ১০১২ দিন লাগবে। এসব বলার পর সে আমার প্রতি ফিজিক্যাল হ্যারাসমেন্ট শুরু করল এবং সেটাকে বলতে পারেন যৌন নিপীড়ন বা যৌন অত্যাচার। আমি এটা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলাম। সেখান থেকে সে আমার উপরে অত্যাচার শুরু করল এবং আমাকে দেখতেই পারছেন যে কীভাবে জখম করা হয়েছে। সে বারবার আমার গলা চেপে ধরছিল বিছানার মধ্যে এবং দরজা বন্ধ করে আমাকে অনেকগুলো থাপ্পড় দিয়েছে, চুল ধরে টেনেছে। আমি বারবার ওখান থেকে পালিয়ে আসার চেষ্টা করেছি। কিন্তু সে বারবার দরজা বন্ধ করছিল এবং বারবার মারছিল বলে আমি এখান থেকে খুব সহজে বের হতে পারছিলাম না। তারপরও একটা সময় যে আমি কোনোভাবে ওখান থেকে বের হয়ে আসি।

তিনি বলেন, কয়েকদিন না, আসলে তার সঙ্গে আমার আগে থেকে সম্পর্ক ছিল। তার সঙ্গে আমার প্রেমভালোবাসার সম্পর্কই ছিল। সেটা দেখা যায় যে অনার্স ফার্স্ট ইয়ারে যখন আমি পড়ি তখন থেকেই। তখন তার কাছে আমার গিটার শেখা হতো। মূলত সেখান থেকে আমাদের পরিচয়টা হয়েছিল। তারপর একটা সময় পর তার সঙ্গে আমার একটা প্রেমের সম্পর্ক হয়। কিন্তু প্রেমের সম্পর্ক প্রথমে হয় না। সে তার বাসায় আমাকে ডেকেছিল। কারণ আমি গিটার শিখতাম এবং বাসায়ও গিটার শেখার নামে এবং গল্প আড্ডা নামে সে আমাকে বাসায় ডাকে এবং আমি যাই। যাওয়ার পরে সে আমাকে কোনোকিছু না বলেই সে আমার সঙ্গে ইন্টিমেট হয়। এটা আমার অনিচ্ছায়, এটা একটা রেপ ছিল। যার কারণে আমি সেটা নিয়ে পরে কথা বলি যে এটার পরিণতি কী? আসলে এক্ষেত্রে আমি বিয়ে করতে চাই বা একটা সম্পর্ক থাকুক। সে আমাকে একটা প্রতিশ্রুতি দেয়, একটা বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেয়, একটা সম্পর্কের নিশ্চয়তা দেয়। সেখান থেকে আমাদের মধ্যে আস্তে আস্তে একটা প্রেমভালোবাসার সম্পর্কে যায়। এটা চলতে থাকে। তারপরও একটা পর্যায়ে সে সম্পর্কটাকে অস্বীকার করা শুরু করে, সে বিয়ে করতেও চায় না এবং এই সম্পর্কটাকেও আর এভাবে গুরুত্ব দিচ্ছিল না। তারপর মিউচুয়ালি আমি এখান থেকে মুভ অন করার চেষ্টা করেছি যে ইটস ওকে। 

তিনি আরো বলেন, মিউচুয়ালি আমরা কথা বলা অফ করে দিয়েছিলাম। আমিও তার সঙ্গে রেসপন্স করতাম না। সেও নক করত না। কিন্তু সে মাঝে মাঝে তার মনে পড়লে আমাকে নক করতো বা তার বাসায় আসার প্রলোভনা দেখাতো। বিভিন্ন কারণে কখনো প্রোডাক্ট শুটের নামে বা আপনার কিছু জিনিস আমার বাসায় রয়ে গেছে, এসব বলে আমাকে আসতে বলতো। তারপর সম্প্রতি তার সঙ্গে আমার আবার যোগাযোগ হয়। প্রোডাক্ট শুটের যে বিষয়টা বললাম। আমি যেহেতু একটা গ্যাপ স্টার্ট করে ফেলেছি, যেহেতু সে বিয়ে কিংবা সম্পর্কের নিশ্চয়তা দিতে চাচ্ছে না, তাই আমিও তার সঙ্গে সেরকম কোনো সম্পর্ক রাখতে চাচ্ছিলাম না। যেহেতু এখন সে ব্যবসা শুরু করছে এবং আমি বাইরে মডেলিং এবং অভিনেত্রী হিসেবে কাজ করছি, তার কারণে প্রোডাক্ট শুটের বিষয় আমাদের একটা প্রফেশনের জায়গা থেকে কাজ করার কথা ছিল একসঙ্গে। একটা গুড রিলেশন আগে তো ছিল সেটা এবং মডেলিংয়ের খাতিরে। কিন্তু সে আসলে প্রোডাক্ট শুটের নামে, কোনো প্রোডাক্ট শুট না করে, সেই আগের যে ঘটনাগুলোরই সে পুনরাবৃত্তি করে। আমি নিজেকে রক্ষা করতে চেয়েছিলাম, যার কারণে আজকে সে আমাকে এভাবে আঘাত করে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

শেষ আবদার পূরণ হলো না: পিআইসিইউতে বাবার সামনে পানির জন্য কাঁদতে কাঁদতেই নিভে গেল আকিরা

গিটার শেখানোর নামে বাসায় নিয়ে ইডেন ছাত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক, কারাগারে কণ্ঠশিল্পী জাহিদ অন্তু

আপডেট সময় ০২:৪৯:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

এবার ইডেন কলেজের ছাত্রী জান্নাতুল তাজরিয়া অরাকে যৌন নিপীড়নের মামলায় তরুণ গায়ক আবু জাহিদ ওরফে জাহিদ অন্তুকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে সংবাদ সম্মেলন করে যৌন হেনস্তার বর্ণনা দেন জান্নাতুল তাজরিয়া অরা। তিনি বলেন, আমার নাম জান্নাতুল তাজরিয়া অরা। আমি একজন অভিনেত্রী, পাশাপাশি স্টুডেন্ট। তার নাম আবু জাহিদ ওরফে জাহিদ অন্তু। আপনারা সবাই কমবেশি তাকে চেনেন। সে একজন গায়ক। তা ছাড়া একজন তরুণ ব্যবসায়ীও বলতে পারেন। সে বেশকিছু প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করছে। তার ড্রেসের এবং প্রোডাক্টের কিছু শুট হয়। 

জান্নাতুল তাজরিয়া অরা বলেন, সম্প্রতি প্রোডাক্ট শুটের জন্য সে আমাকে নক করেছিল। বলেছিল যে প্রোডাক্ট শুট করার জন্য আপনি আমার বাসায় আসেন। কারণ তার বাসায় তার স্টুডিও, অফিস সব একসঙ্গে। সে অ্যাগ্রো ফরেস্ট নামের নতুন একটা প্রজেক্টে কাজ করছে। সঙ্গে তার পোশাকের ব্যবসাও আছে। সেই উদ্দেশে আমি তার বাসায় গিয়েছিলাম।

প্রোডাক্ট শুট করার জন্য গিয়েছিলাম। তারপরে কাজের পরিকল্পনা নিয়ে সে আর আমি রুমে বসেছিলাম। একটা পর্যায়ে সে বলল যে প্রোডাক্ট শুট তো ঠিক আছে, এখন তো ড্রেস আসেনি। ১০১২ দিন লাগবে। এসব বলার পর সে আমার প্রতি ফিজিক্যাল হ্যারাসমেন্ট শুরু করল এবং সেটাকে বলতে পারেন যৌন নিপীড়ন বা যৌন অত্যাচার। আমি এটা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলাম। সেখান থেকে সে আমার উপরে অত্যাচার শুরু করল এবং আমাকে দেখতেই পারছেন যে কীভাবে জখম করা হয়েছে। সে বারবার আমার গলা চেপে ধরছিল বিছানার মধ্যে এবং দরজা বন্ধ করে আমাকে অনেকগুলো থাপ্পড় দিয়েছে, চুল ধরে টেনেছে। আমি বারবার ওখান থেকে পালিয়ে আসার চেষ্টা করেছি। কিন্তু সে বারবার দরজা বন্ধ করছিল এবং বারবার মারছিল বলে আমি এখান থেকে খুব সহজে বের হতে পারছিলাম না। তারপরও একটা সময় যে আমি কোনোভাবে ওখান থেকে বের হয়ে আসি।

তিনি বলেন, কয়েকদিন না, আসলে তার সঙ্গে আমার আগে থেকে সম্পর্ক ছিল। তার সঙ্গে আমার প্রেমভালোবাসার সম্পর্কই ছিল। সেটা দেখা যায় যে অনার্স ফার্স্ট ইয়ারে যখন আমি পড়ি তখন থেকেই। তখন তার কাছে আমার গিটার শেখা হতো। মূলত সেখান থেকে আমাদের পরিচয়টা হয়েছিল। তারপর একটা সময় পর তার সঙ্গে আমার একটা প্রেমের সম্পর্ক হয়। কিন্তু প্রেমের সম্পর্ক প্রথমে হয় না। সে তার বাসায় আমাকে ডেকেছিল। কারণ আমি গিটার শিখতাম এবং বাসায়ও গিটার শেখার নামে এবং গল্প আড্ডা নামে সে আমাকে বাসায় ডাকে এবং আমি যাই। যাওয়ার পরে সে আমাকে কোনোকিছু না বলেই সে আমার সঙ্গে ইন্টিমেট হয়। এটা আমার অনিচ্ছায়, এটা একটা রেপ ছিল। যার কারণে আমি সেটা নিয়ে পরে কথা বলি যে এটার পরিণতি কী? আসলে এক্ষেত্রে আমি বিয়ে করতে চাই বা একটা সম্পর্ক থাকুক। সে আমাকে একটা প্রতিশ্রুতি দেয়, একটা বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেয়, একটা সম্পর্কের নিশ্চয়তা দেয়। সেখান থেকে আমাদের মধ্যে আস্তে আস্তে একটা প্রেমভালোবাসার সম্পর্কে যায়। এটা চলতে থাকে। তারপরও একটা পর্যায়ে সে সম্পর্কটাকে অস্বীকার করা শুরু করে, সে বিয়ে করতেও চায় না এবং এই সম্পর্কটাকেও আর এভাবে গুরুত্ব দিচ্ছিল না। তারপর মিউচুয়ালি আমি এখান থেকে মুভ অন করার চেষ্টা করেছি যে ইটস ওকে। 

তিনি আরো বলেন, মিউচুয়ালি আমরা কথা বলা অফ করে দিয়েছিলাম। আমিও তার সঙ্গে রেসপন্স করতাম না। সেও নক করত না। কিন্তু সে মাঝে মাঝে তার মনে পড়লে আমাকে নক করতো বা তার বাসায় আসার প্রলোভনা দেখাতো। বিভিন্ন কারণে কখনো প্রোডাক্ট শুটের নামে বা আপনার কিছু জিনিস আমার বাসায় রয়ে গেছে, এসব বলে আমাকে আসতে বলতো। তারপর সম্প্রতি তার সঙ্গে আমার আবার যোগাযোগ হয়। প্রোডাক্ট শুটের যে বিষয়টা বললাম। আমি যেহেতু একটা গ্যাপ স্টার্ট করে ফেলেছি, যেহেতু সে বিয়ে কিংবা সম্পর্কের নিশ্চয়তা দিতে চাচ্ছে না, তাই আমিও তার সঙ্গে সেরকম কোনো সম্পর্ক রাখতে চাচ্ছিলাম না। যেহেতু এখন সে ব্যবসা শুরু করছে এবং আমি বাইরে মডেলিং এবং অভিনেত্রী হিসেবে কাজ করছি, তার কারণে প্রোডাক্ট শুটের বিষয় আমাদের একটা প্রফেশনের জায়গা থেকে কাজ করার কথা ছিল একসঙ্গে। একটা গুড রিলেশন আগে তো ছিল সেটা এবং মডেলিংয়ের খাতিরে। কিন্তু সে আসলে প্রোডাক্ট শুটের নামে, কোনো প্রোডাক্ট শুট না করে, সেই আগের যে ঘটনাগুলোরই সে পুনরাবৃত্তি করে। আমি নিজেকে রক্ষা করতে চেয়েছিলাম, যার কারণে আজকে সে আমাকে এভাবে আঘাত করে।