ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জামায়াতে ইসলামী এবং সংসদের বিরোধীদলীয় নেতাকে নিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের অপ্রীতিকর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সংগঠনটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোসলেম উদ্দিন এবং সেক্রেটারি জেনারেল বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. তাজিরুল ইসলাম এক যৌথ বিবৃতিতে এ নিন্দা জানান। বিবৃতিতে সই করেছেন জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের আরও ৭০ জন সদস্য।
বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধ ও জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়ে তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়েছে, এমনকি সংসদেও বক্তব্যে আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, যা আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। আমরা জেনারেল জিয়াউর রহমানের আহ্বানে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ করেছি। স্বাধীনতার পর মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশ সরকারের অধীনে ছিল এবং এখন পর্যন্ত সরকারের অধীনেই আছে, তারা সরকারের পক্ষ থেকে জনগণের টাকায় ভাতাপ্রাপ্ত হয়ে আসছেন। দেশ স্বাধীনের পর আওয়ামী লীগ সরকারে থাকায় আওয়ামী লীগ মতাদর্শের মুক্তিযোদ্ধারা দলটিতে যোগদান করেন। পরবর্তীতে কেউ জাসদে, কেউ জাতীয় পার্টিতে এবং রাজনৈতিক দল বিএনপি গঠন হলে অনেকে দলটিতে যোগ দেন। এছাড়াও কেউ কেউ আওয়ামী লীগ ত্যাগ করে বিএনপির মুক্তিযোদ্ধা দলে যোগ দেন।
বিবৃতিতে নেতারা বলেন, ১৯৭৯ সালে রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরু করার পর অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন। তেমনই ফজলুর রহমান নিজের অতীত আওয়ামী নীতি বিসর্জন দিয়ে অনেক দল বদলের পর বিএনপিতে যোগ দেন। কিশোরগঞ্জের কোম্পানী কমান্ডার আইয়ুব বিন হায়দারের ভাষ্যমতে অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান ট্রেইনিং গ্রহণের পর কোনো অস্ত্রই হাতে নেননি এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি কোনো কোম্পানী কমান্ডার ছিলেন না। যেসকল মুক্তিযোদ্ধা ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরোধিতা করেন, তারা দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে আলাদা শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং জামায়াতে ইসলামী সেই শক্তিকে সমর্থন দেয়।
মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ মনে করে, ‘মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোক কেউ জামায়াতে ইসলামী করতে পারে না, কোনো শহীদ পরিবারের লোক জামায়াত করতেই পারে না, করলে এটা ডাবল অপরাধ’ ফজলুর রহমানের এমন বক্তব্য মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়, বরং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী। তারা বলেন, স্বাধীন নাগরিক হিসেবে যেকোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষের যেকোনো রাজনৈতিক দল ও মতের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পারেন, যা নাগরিকদের রাজনৈতিক অধিকার।
তারা আরও বলেন, দেশ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য মহান জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়ন এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার কথা। ব্যক্তিগত কিংবা দলীয় আক্রমণাত্মক ভাষা প্রয়োগ করার জায়গা জাতীয় সংসদ নয়। সরকারদলীয় এমপি ফজলুর রহমান মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতাকে উদ্দেশ করে সংসদে যে সকল হিংসাত্মক এবং আক্রমণাত্মক ভাষা প্রয়োগ করেছেন, তা নিন্দনীয়। আমরা বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ তার ওই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
সবশেষে বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করেন, আমরা বিভাজনের রাজনীতির মানসিকতা পরিহার করে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে চব্বিশের জুলাই সনদের নীতির আলোকে সংবিধান সংস্কার করে সকলে মিলে দেশটাকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বিনির্মাণের চেষ্টা করি। তা নাহলে দেশটা পুনরায় ফ্যাসিস্ট এবং স্বৈরাচারী শাসনের দিকে এগিয়ে যাবে, যা কারও জন্য মঙ্গলজনক হবে না।
বিবৃতিতে মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ফজলুল হক, সহসভাপতি আবদুল ওয়ারেছ, ডা. আলতাফ হোসেন, মো. শাহাবুদ্দিন, মতিউর রহমান, সেক্রেটারি তাজিরুল ইসলাম, সদস্য শামসুদ্দিন মিয়া, বোরহান উদ্দিন, আবদুল করিম, মোকাররম হোসেন, কামালউদ্দিন, হাফিজ উদ্দিন, আহসান উল্লাহ পাটোয়ারী, আনোয়ার হোসেন, আব্দুল হামিদ, দৌলত আহমেদ, নূর মোহাম্মদসহ আরও ৫৪ জন মুক্তিযোদ্ধা সই করেছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















