ঢাকা , সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাউফলে এইচএসসি পরিক্ষার্থীকে কুপিয়ে হত্যা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:৫৮:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫
  • ৫০৪ বার পড়া হয়েছে

জাহিদ শিকদার, পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর বাউফলে “গাঁজাখোর” বলে মন্তব্য করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটির জেরে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এঘটনায় ভুক্তভোগীর পিতাও গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। স্থানীয় বখাটে শাকিল এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।

মঙ্গলবার (০১জুলাই) বাউফল, দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলার বর্ডার এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় শানু নামের একজনকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা।

ভুক্তভোগী নিহত ফাহিম বয়াতী নওমালা আব্দুর রশিদ খান ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি চলমান এইসএসসি পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছেন। তার পিতা আহত মো. জাকির বয়াতী স্থানীয় বাজারে মাছের ব্যবসা করতেন। ভুক্তভোগীরা নওমালা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড ভাংড়া গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয়রা জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সাথে অভিযুক্তদের পরিবারের সম্পর্ক খারাপ ছিলো। ভুক্তভোগী ফাহিম সকালে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে বাড়িতে ফিরেন। বিকেলে ধলু ফকিরের বাজারে বাবার কাছে যাচ্ছিলেন। তখন স্থানীয় বখাটে শাকিল তাকে আক্রমণ করে। পরে তাদের অভিভাবকরা ঘটনা স্থলে আসেন। শাকিল ও তার পরিবারের সদস্যরা ফাহিম ও তার পিতাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেন।

পুলিশ জানায়, পায়ের মূল রগ কেটে যাওয়ায় ঘটনা স্থলেই নিহত হন শিক্ষার্থী ফাহিম। ফাহিমের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং জাকির বয়াতীকে পটুয়াখালী মেডিকেলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (শেবাচিম) পাঠানো হয়েছে। দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ ছিলো তবে জমি-জমা সংক্রান্ত ঝামেলা নেই। ঘটনার উৎপত্তিস্থল গলাচিপা। হত্যাকাণ্ড ঘটে আবার দশমিনায়। কিন্তু তারা উভয় প্রতিবেশী ও বাউফল উপজেলার বাসিন্দা।

বাউফল থানার ওসি আকতারুজ্জামান সরকার জানান, প্রাথমিকভাবে তদন্তে জানা গেছে অভিযুক্তকে “গাঁজাখোর” বলে মন্তব্য করেন ভুক্তভোগী ফাহিম। এনিয়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে উভয়ের পরিবারের সদস্য ঘটনাস্থলে আসে। একপর্যায়ে ফের কথা-কাটাকাটি বাধলে শাকিল ছুরি দিয়ে ভুক্তভোগী পিতা-পুত্রকে একাধিক আঘাত করেন। এতে ফাহিম নিহত হয়েছেন। তার বাবার অবস্থাও আশঙ্কাজনক। এঘটনায় দশমিনা থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে একজনকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে তুলে দিয়েছেন। জড়িত মূল আসামিসহ বাকিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বাউফলে এইচএসসি পরিক্ষার্থীকে কুপিয়ে হত্যা

আপডেট সময় ০২:৫৮:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫

জাহিদ শিকদার, পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর বাউফলে “গাঁজাখোর” বলে মন্তব্য করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটির জেরে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এঘটনায় ভুক্তভোগীর পিতাও গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। স্থানীয় বখাটে শাকিল এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।

মঙ্গলবার (০১জুলাই) বাউফল, দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলার বর্ডার এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় শানু নামের একজনকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা।

ভুক্তভোগী নিহত ফাহিম বয়াতী নওমালা আব্দুর রশিদ খান ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি চলমান এইসএসসি পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছেন। তার পিতা আহত মো. জাকির বয়াতী স্থানীয় বাজারে মাছের ব্যবসা করতেন। ভুক্তভোগীরা নওমালা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড ভাংড়া গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয়রা জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সাথে অভিযুক্তদের পরিবারের সম্পর্ক খারাপ ছিলো। ভুক্তভোগী ফাহিম সকালে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে বাড়িতে ফিরেন। বিকেলে ধলু ফকিরের বাজারে বাবার কাছে যাচ্ছিলেন। তখন স্থানীয় বখাটে শাকিল তাকে আক্রমণ করে। পরে তাদের অভিভাবকরা ঘটনা স্থলে আসেন। শাকিল ও তার পরিবারের সদস্যরা ফাহিম ও তার পিতাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেন।

পুলিশ জানায়, পায়ের মূল রগ কেটে যাওয়ায় ঘটনা স্থলেই নিহত হন শিক্ষার্থী ফাহিম। ফাহিমের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং জাকির বয়াতীকে পটুয়াখালী মেডিকেলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (শেবাচিম) পাঠানো হয়েছে। দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ ছিলো তবে জমি-জমা সংক্রান্ত ঝামেলা নেই। ঘটনার উৎপত্তিস্থল গলাচিপা। হত্যাকাণ্ড ঘটে আবার দশমিনায়। কিন্তু তারা উভয় প্রতিবেশী ও বাউফল উপজেলার বাসিন্দা।

বাউফল থানার ওসি আকতারুজ্জামান সরকার জানান, প্রাথমিকভাবে তদন্তে জানা গেছে অভিযুক্তকে “গাঁজাখোর” বলে মন্তব্য করেন ভুক্তভোগী ফাহিম। এনিয়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে উভয়ের পরিবারের সদস্য ঘটনাস্থলে আসে। একপর্যায়ে ফের কথা-কাটাকাটি বাধলে শাকিল ছুরি দিয়ে ভুক্তভোগী পিতা-পুত্রকে একাধিক আঘাত করেন। এতে ফাহিম নিহত হয়েছেন। তার বাবার অবস্থাও আশঙ্কাজনক। এঘটনায় দশমিনা থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে একজনকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে তুলে দিয়েছেন। জড়িত মূল আসামিসহ বাকিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।