ঢাকা , মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
এবার ইরানের কাছে ‘ক্ষতিপূরণ’ দাবি করলেন ট্রাম্প ছাত্র আন্দোলনে আবারো উত্তাল ভারত প্রধানমন্ত্রীর খালাতো ভাইয়ের পেট্রলপাম্পের সহকারী ব্যবস্থাপককে কুপিয়ে ১ কোটি ২১ লাখ টাকা ছিনতাই ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের সমঝোতা শেষে হলে উঠলেন শিবিরের নেতা-কর্মীরা ‘কোটা গেছে যেই পথে, কমিটি যাবে সেই পথে’ স্লোগানে উত্তাল ঢাবি শিক্ষক নিয়োগে ম্যানেজিং কমিটির হাতে ক্ষমতা, রাবিতে শিবিরের বিক্ষোভ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের কয়েক ঘণ্টা পরেই দিল্লিতে দীনেশ ত্রিবেদী ছেলে বিসিএস কর্মকর্তা, বাবা এবার এসএসসি পাশ করলেন ঠাকুরগাঁওয়ের ৫ স্কুলে কেউই পাশ করেনি, হতাশ না হয়ে চেষ্টার পরামর্শ মির্জা ফখরুলকন্যার সন্ধানের ৩ দিন পর যেভাবে ৯৬টি ল্যান্ড মাইন নিস্ক্রিয় করলো সেনাবাহিনী

স্বৈরাচারের চিহ্নমাত্র দেখলেই যেন তাৎক্ষণিকভাবে বিনাশ করি: প্রধান উপদেষ্টা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:২৫:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫
  • ৪৭৯ বার পড়া হয়েছে

এবার অন্তর্বর্তী সরকারে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আজ ইতিহাসের এক গৌরবময় ক্ষণ। এক বছর আগে, এই জুলাই মাসে আমাদের শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলন শুরু করেছিল, তা এক অভূতপূর্ব গণ-অভ্যুত্থান রচনা করে আমাদের মুক্তির স্বাদ দিয়েছিল। জুলাই ছিল দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে এক অমোঘ ডাক, এক জনতার জাগরণ। সেই আন্দোলনের মর্মবাণী ছিল— ‘ফ‍্যাসিবাদের বিলোপ করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ, রাষ্ট্রকে জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া।’

গতকাল মঙ্গলবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। প্রধান উপদেষ্টা আরো বলেন, আজকে আমরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে স্মরণ করার অনুষ্ঠানমালা নিয়েছি। এটা শুধু ভাবাবেগের বিষয় নয়, ক্ষোভ প্রকাশের বিষয় নয়। আমরা ১৬ বছর পরে বিরাট বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলাম, যে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এবং যে কারণে অভ্যুত্থান হয়েছিল, তাৎক্ষণিক যেটা টার্গেট ছিল, সেটা আমরা পূরণ করতে পেরেছি।

কিন্তু তার পেছনে ছিল একটা বিরাট স্বপ্ন—নতুনভাবে রাষ্ট্রব্যবস্থা বিনির্মাণ, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ। ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আমরা প্রতি বছর এই সময়কালটা উদযাপন করব, যাতে পরবর্তীতে ১৬ বছর আমাদের অপেক্ষা করতে না হয়, আবার এই অভ্যুত্থান করার জন্য। আমরা প্রতি বছর এটা করব, যাতে কোনো স্বৈরাচারের কোনো চিহ্ন দেখা গেলে সেটা তাৎক্ষণিকভাবে আমরা বিনাশ করতে পারি, সেটার জন্য এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বৈরাচারের প্রথম পাতা মেলার আগেই যেন আমরা তাকে ধরে ফেলতে পারি।

তিনি বলেন, গত বছরের জুলাইয়ে এ দেশের সব শ্রেণি-পেশা ও বয়সের মানুষের মধ্যে যে ঐক্য তৈরি হয়েছিল, আমরা চাই, এই জুলাইয়ে সেই ঐক্য সুসংহত হোক। আমাদের এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য— জনগণকে গণতান্ত্রিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা। রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার দাবি জানানো এবং রক্তের বিনিময়ে পাওয়া সংস্কারের এ সুযোগকে হারিয়ে না ফেলা। আমাদের সামনের পথ অনেক কঠিন, কিন্তু মস্তবড় সম্ভাবনাও আছে।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, জনগণ যখন জেগে ওঠে, তখন কোনো শক্তিই তাকে রুখে দিতে পারে না। সেই বিশ্বাস নিয়েই আহ্বান জানাই, আসুন এই জুলাই মাসকে পরিণত করি গণজাগণের মাসে, ঐক্যের মাসে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

এবার ইরানের কাছে ‘ক্ষতিপূরণ’ দাবি করলেন ট্রাম্প

স্বৈরাচারের চিহ্নমাত্র দেখলেই যেন তাৎক্ষণিকভাবে বিনাশ করি: প্রধান উপদেষ্টা

আপডেট সময় ০৩:২৫:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫

এবার অন্তর্বর্তী সরকারে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আজ ইতিহাসের এক গৌরবময় ক্ষণ। এক বছর আগে, এই জুলাই মাসে আমাদের শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলন শুরু করেছিল, তা এক অভূতপূর্ব গণ-অভ্যুত্থান রচনা করে আমাদের মুক্তির স্বাদ দিয়েছিল। জুলাই ছিল দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে এক অমোঘ ডাক, এক জনতার জাগরণ। সেই আন্দোলনের মর্মবাণী ছিল— ‘ফ‍্যাসিবাদের বিলোপ করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ, রাষ্ট্রকে জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া।’

গতকাল মঙ্গলবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। প্রধান উপদেষ্টা আরো বলেন, আজকে আমরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে স্মরণ করার অনুষ্ঠানমালা নিয়েছি। এটা শুধু ভাবাবেগের বিষয় নয়, ক্ষোভ প্রকাশের বিষয় নয়। আমরা ১৬ বছর পরে বিরাট বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলাম, যে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এবং যে কারণে অভ্যুত্থান হয়েছিল, তাৎক্ষণিক যেটা টার্গেট ছিল, সেটা আমরা পূরণ করতে পেরেছি।

কিন্তু তার পেছনে ছিল একটা বিরাট স্বপ্ন—নতুনভাবে রাষ্ট্রব্যবস্থা বিনির্মাণ, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ। ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আমরা প্রতি বছর এই সময়কালটা উদযাপন করব, যাতে পরবর্তীতে ১৬ বছর আমাদের অপেক্ষা করতে না হয়, আবার এই অভ্যুত্থান করার জন্য। আমরা প্রতি বছর এটা করব, যাতে কোনো স্বৈরাচারের কোনো চিহ্ন দেখা গেলে সেটা তাৎক্ষণিকভাবে আমরা বিনাশ করতে পারি, সেটার জন্য এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বৈরাচারের প্রথম পাতা মেলার আগেই যেন আমরা তাকে ধরে ফেলতে পারি।

তিনি বলেন, গত বছরের জুলাইয়ে এ দেশের সব শ্রেণি-পেশা ও বয়সের মানুষের মধ্যে যে ঐক্য তৈরি হয়েছিল, আমরা চাই, এই জুলাইয়ে সেই ঐক্য সুসংহত হোক। আমাদের এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য— জনগণকে গণতান্ত্রিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা। রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার দাবি জানানো এবং রক্তের বিনিময়ে পাওয়া সংস্কারের এ সুযোগকে হারিয়ে না ফেলা। আমাদের সামনের পথ অনেক কঠিন, কিন্তু মস্তবড় সম্ভাবনাও আছে।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, জনগণ যখন জেগে ওঠে, তখন কোনো শক্তিই তাকে রুখে দিতে পারে না। সেই বিশ্বাস নিয়েই আহ্বান জানাই, আসুন এই জুলাই মাসকে পরিণত করি গণজাগণের মাসে, ঐক্যের মাসে।