ঢাকা , রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
এবার ছয় বছরের শিশু মুসলিমার গলাকাটা বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার আজকের জননিরাপত্তাহীন বাংলাদেশ বিএনপির সংস্কার বিরোধী অবস্থানের ফলাফল: হাসনাত জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা-ভাঙচুর, আটক ৩ বিএনপি টিকেই আছে চাঁদাবাজি-দখলদারিত্বের ওপর: সারজিস যুদ্ধাপরাধীদের জায়গা আদালতে, জাতিসংঘের মঞ্চে নয়: নেতানিয়াহুকে এরদোয়ান মাঝে মাঝে মধু আহরণকারী চাঁদাবাজরা মৌচাক মনে করে ভিমরুলের চাকেও ঢিল ছুড়ে দেয়: জামায়াত আমির সরকারের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করলে ছাড় নয়: মাহদী আমিন জাতিসংঘে ভারতকে স্থায়ী সদস্যপদ দেয়ার পক্ষে অবস্থান নিলো রাশিয়া এটা তো শুধু একটা ট্রেলার, সামনে পুরো সিনেমা বাকি আছে: মীর স্নিগ্ধ ক্রিকেটারদের জন্য মিরপুরে মসজিদ নির্মাণ করছে বিসিবি

স্বৈরাচারের চিহ্নমাত্র দেখলেই যেন তাৎক্ষণিকভাবে বিনাশ করি: প্রধান উপদেষ্টা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:২৫:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫
  • ৫০২ বার পড়া হয়েছে

এবার অন্তর্বর্তী সরকারে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আজ ইতিহাসের এক গৌরবময় ক্ষণ। এক বছর আগে, এই জুলাই মাসে আমাদের শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলন শুরু করেছিল, তা এক অভূতপূর্ব গণ-অভ্যুত্থান রচনা করে আমাদের মুক্তির স্বাদ দিয়েছিল। জুলাই ছিল দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে এক অমোঘ ডাক, এক জনতার জাগরণ। সেই আন্দোলনের মর্মবাণী ছিল— ‘ফ‍্যাসিবাদের বিলোপ করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ, রাষ্ট্রকে জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া।’

গতকাল মঙ্গলবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। প্রধান উপদেষ্টা আরো বলেন, আজকে আমরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে স্মরণ করার অনুষ্ঠানমালা নিয়েছি। এটা শুধু ভাবাবেগের বিষয় নয়, ক্ষোভ প্রকাশের বিষয় নয়। আমরা ১৬ বছর পরে বিরাট বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলাম, যে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এবং যে কারণে অভ্যুত্থান হয়েছিল, তাৎক্ষণিক যেটা টার্গেট ছিল, সেটা আমরা পূরণ করতে পেরেছি।

কিন্তু তার পেছনে ছিল একটা বিরাট স্বপ্ন—নতুনভাবে রাষ্ট্রব্যবস্থা বিনির্মাণ, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ। ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আমরা প্রতি বছর এই সময়কালটা উদযাপন করব, যাতে পরবর্তীতে ১৬ বছর আমাদের অপেক্ষা করতে না হয়, আবার এই অভ্যুত্থান করার জন্য। আমরা প্রতি বছর এটা করব, যাতে কোনো স্বৈরাচারের কোনো চিহ্ন দেখা গেলে সেটা তাৎক্ষণিকভাবে আমরা বিনাশ করতে পারি, সেটার জন্য এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বৈরাচারের প্রথম পাতা মেলার আগেই যেন আমরা তাকে ধরে ফেলতে পারি।

তিনি বলেন, গত বছরের জুলাইয়ে এ দেশের সব শ্রেণি-পেশা ও বয়সের মানুষের মধ্যে যে ঐক্য তৈরি হয়েছিল, আমরা চাই, এই জুলাইয়ে সেই ঐক্য সুসংহত হোক। আমাদের এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য— জনগণকে গণতান্ত্রিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা। রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার দাবি জানানো এবং রক্তের বিনিময়ে পাওয়া সংস্কারের এ সুযোগকে হারিয়ে না ফেলা। আমাদের সামনের পথ অনেক কঠিন, কিন্তু মস্তবড় সম্ভাবনাও আছে।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, জনগণ যখন জেগে ওঠে, তখন কোনো শক্তিই তাকে রুখে দিতে পারে না। সেই বিশ্বাস নিয়েই আহ্বান জানাই, আসুন এই জুলাই মাসকে পরিণত করি গণজাগণের মাসে, ঐক্যের মাসে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

এবার ছয় বছরের শিশু মুসলিমার গলাকাটা বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার

স্বৈরাচারের চিহ্নমাত্র দেখলেই যেন তাৎক্ষণিকভাবে বিনাশ করি: প্রধান উপদেষ্টা

আপডেট সময় ০৩:২৫:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫

এবার অন্তর্বর্তী সরকারে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আজ ইতিহাসের এক গৌরবময় ক্ষণ। এক বছর আগে, এই জুলাই মাসে আমাদের শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলন শুরু করেছিল, তা এক অভূতপূর্ব গণ-অভ্যুত্থান রচনা করে আমাদের মুক্তির স্বাদ দিয়েছিল। জুলাই ছিল দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে এক অমোঘ ডাক, এক জনতার জাগরণ। সেই আন্দোলনের মর্মবাণী ছিল— ‘ফ‍্যাসিবাদের বিলোপ করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ, রাষ্ট্রকে জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া।’

গতকাল মঙ্গলবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। প্রধান উপদেষ্টা আরো বলেন, আজকে আমরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে স্মরণ করার অনুষ্ঠানমালা নিয়েছি। এটা শুধু ভাবাবেগের বিষয় নয়, ক্ষোভ প্রকাশের বিষয় নয়। আমরা ১৬ বছর পরে বিরাট বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলাম, যে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এবং যে কারণে অভ্যুত্থান হয়েছিল, তাৎক্ষণিক যেটা টার্গেট ছিল, সেটা আমরা পূরণ করতে পেরেছি।

কিন্তু তার পেছনে ছিল একটা বিরাট স্বপ্ন—নতুনভাবে রাষ্ট্রব্যবস্থা বিনির্মাণ, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ। ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আমরা প্রতি বছর এই সময়কালটা উদযাপন করব, যাতে পরবর্তীতে ১৬ বছর আমাদের অপেক্ষা করতে না হয়, আবার এই অভ্যুত্থান করার জন্য। আমরা প্রতি বছর এটা করব, যাতে কোনো স্বৈরাচারের কোনো চিহ্ন দেখা গেলে সেটা তাৎক্ষণিকভাবে আমরা বিনাশ করতে পারি, সেটার জন্য এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বৈরাচারের প্রথম পাতা মেলার আগেই যেন আমরা তাকে ধরে ফেলতে পারি।

তিনি বলেন, গত বছরের জুলাইয়ে এ দেশের সব শ্রেণি-পেশা ও বয়সের মানুষের মধ্যে যে ঐক্য তৈরি হয়েছিল, আমরা চাই, এই জুলাইয়ে সেই ঐক্য সুসংহত হোক। আমাদের এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য— জনগণকে গণতান্ত্রিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা। রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার দাবি জানানো এবং রক্তের বিনিময়ে পাওয়া সংস্কারের এ সুযোগকে হারিয়ে না ফেলা। আমাদের সামনের পথ অনেক কঠিন, কিন্তু মস্তবড় সম্ভাবনাও আছে।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, জনগণ যখন জেগে ওঠে, তখন কোনো শক্তিই তাকে রুখে দিতে পারে না। সেই বিশ্বাস নিয়েই আহ্বান জানাই, আসুন এই জুলাই মাসকে পরিণত করি গণজাগণের মাসে, ঐক্যের মাসে।