ঢাকা , সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আসিফ মাহমুদ অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আ.লীগ ব্যবসায়ী ও এমপিদের প্রটেকশন দিয়েছে: রাশেদ খাঁন এআই না জানলে মুসলিমরা পিছিয়ে পড়বে: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে যথাযথ মর্যাদায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি: স্পিকার নতুন পোশাক আইন করছে ভারত, বিপাকে মুসলিমরা ক্ষমতায় না যেতেই মজলুম থেকে জালিমে পরিণত হয়েছে জামায়াত: রাশেদ খাঁন জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শিবির নিয়ন্ত্রিত ডাকসু ‘পাকিস্তান প্রেম’ জাহির করছে: ছাত্রদল মসজিদের মাইকে ‘ডাকাত’ ঘোষণা দিয়ে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা ভেনেজুয়েলার মতো ইরানের তেলও দখলে নিতে চান ট্রাম্প ছোট ভাইকে ১৮৫০ শতাংশ জমি লিখে দেন ডিবি হারুন

পাওনা না মিটিয়েই বাংলাদেশে অর্ডার স্থগিত করল এলপিপি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:৪৫:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৩৮৭ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের ব্যবসায়ীদের প্রায় ৪০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় সাড়ে ৪০০ কোটি টাকা) বকেয়া পরিশোধ না করেই দেশে নতুন ক্রয়াদেশ (অর্ডার) স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে পোল্যান্ডভিত্তিক আন্তর্জাতিক পোশাক ব্র্যান্ড এলপিপি (LPP)। প্রায় ১৮ মাস ধরে বকেয়া অর্থ আটকে রাখার পর প্রতিষ্ঠানটির এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশের পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা।

দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি গণমাধ্যমের তথ্যমতে, গত ৩০ জুলাই বাংলাদেশি সরবরাহকারীদের পাঠানো এক চিঠিতে এলপিপি জানায়, ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক কৌশল পুনর্মূল্যায়নের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে নতুন সব ক্রয়াদেশ এবং নতুন পণ্য উন্নয়ন কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি বিকল্প উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে অন্য দেশের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে।

রপ্তানিকারক ও বায়িং হাউসগুলোর অভিযোগ, পাওনা আদায়ে কয়েকটি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান আদালতের দ্বারস্থ হলে এলপিপি অসন্তোষ প্রকাশ করে। এমনকি বকেয়া অর্থ নিয়ে আলোচনার শর্ত হিসেবে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহারের জন্যও সরবরাহকারীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়।

খাতসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর এলপিপির দেওয়া গ্যারান্টির ভিত্তিতে ‘এফইএস রিটেইল’ নামে একটি রুশ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অন্তত ৪০টি বাংলাদেশি কারখানা ও বায়িং হাউস পোশাক রপ্তানি করে। কিন্তু পণ্য সরবরাহের পর গত দেড় বছরেও সেই অর্থ পরিশোধ করা হয়নি। পরে এলপিপি দাবি করে, ওই রুশ প্রতিষ্ঠানের দেনা-পাওনার দায় তাদের নয়।

প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৭০ কোটি ডলারের পোশাক সংগ্রহ করা এলপিপির এই সিদ্ধান্তে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে দেশের তৈরি পোশাক খাতে। উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, পাওনা পরিশোধ না করে উল্টো অর্ডার স্থগিতের ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশি সরবরাহকারীদের চাপে ফেলার চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ) ক্ষতিগ্রস্ত কারখানা মালিকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছে।

বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, বাংলাদেশ থেকে সোর্সিং চালু রাখা বা বন্ধ করা এলপিপির ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত। তবে রপ্তানিকারকদের পাওনা পরিশোধ না করলে প্রতিষ্ঠানটিকে বাংলাদেশে কালো তালিকাভুক্ত (ব্ল্যাকলিস্ট) করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের বিভিন্ন ফোরামেও বিষয়টি উত্থাপন করা হবে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ গার্মেন্ট বায়িং হাউস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুল হামিদ বলেন, বছরে প্রায় ৭০ কোটি ডলারের বাজার হারানো দেশের পোশাক শিল্পের জন্য বড় ধাক্কা হবে। তাই আলোচনার মাধ্যমে বকেয়া আদায় এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখার পথ খুঁজে বের করা প্রয়োজন। তিনি জানান, এলপিপি আগে বকেয়ার ৫০ শতাংশ ছাড় দিয়ে নিষ্পত্তির প্রস্তাব দিলেও তা স্থানীয় কারখানাগুলোর জন্য গ্রহণযোগ্য ছিল না।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আসিফ মাহমুদ অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আ.লীগ ব্যবসায়ী ও এমপিদের প্রটেকশন দিয়েছে: রাশেদ খাঁন

পাওনা না মিটিয়েই বাংলাদেশে অর্ডার স্থগিত করল এলপিপি

আপডেট সময় ০২:৪৫:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের ব্যবসায়ীদের প্রায় ৪০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় সাড়ে ৪০০ কোটি টাকা) বকেয়া পরিশোধ না করেই দেশে নতুন ক্রয়াদেশ (অর্ডার) স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে পোল্যান্ডভিত্তিক আন্তর্জাতিক পোশাক ব্র্যান্ড এলপিপি (LPP)। প্রায় ১৮ মাস ধরে বকেয়া অর্থ আটকে রাখার পর প্রতিষ্ঠানটির এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশের পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা।

দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি গণমাধ্যমের তথ্যমতে, গত ৩০ জুলাই বাংলাদেশি সরবরাহকারীদের পাঠানো এক চিঠিতে এলপিপি জানায়, ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক কৌশল পুনর্মূল্যায়নের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে নতুন সব ক্রয়াদেশ এবং নতুন পণ্য উন্নয়ন কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি বিকল্প উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে অন্য দেশের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে।

রপ্তানিকারক ও বায়িং হাউসগুলোর অভিযোগ, পাওনা আদায়ে কয়েকটি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান আদালতের দ্বারস্থ হলে এলপিপি অসন্তোষ প্রকাশ করে। এমনকি বকেয়া অর্থ নিয়ে আলোচনার শর্ত হিসেবে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহারের জন্যও সরবরাহকারীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়।

খাতসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর এলপিপির দেওয়া গ্যারান্টির ভিত্তিতে ‘এফইএস রিটেইল’ নামে একটি রুশ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অন্তত ৪০টি বাংলাদেশি কারখানা ও বায়িং হাউস পোশাক রপ্তানি করে। কিন্তু পণ্য সরবরাহের পর গত দেড় বছরেও সেই অর্থ পরিশোধ করা হয়নি। পরে এলপিপি দাবি করে, ওই রুশ প্রতিষ্ঠানের দেনা-পাওনার দায় তাদের নয়।

প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৭০ কোটি ডলারের পোশাক সংগ্রহ করা এলপিপির এই সিদ্ধান্তে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে দেশের তৈরি পোশাক খাতে। উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, পাওনা পরিশোধ না করে উল্টো অর্ডার স্থগিতের ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশি সরবরাহকারীদের চাপে ফেলার চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ) ক্ষতিগ্রস্ত কারখানা মালিকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছে।

বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, বাংলাদেশ থেকে সোর্সিং চালু রাখা বা বন্ধ করা এলপিপির ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত। তবে রপ্তানিকারকদের পাওনা পরিশোধ না করলে প্রতিষ্ঠানটিকে বাংলাদেশে কালো তালিকাভুক্ত (ব্ল্যাকলিস্ট) করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের বিভিন্ন ফোরামেও বিষয়টি উত্থাপন করা হবে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ গার্মেন্ট বায়িং হাউস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুল হামিদ বলেন, বছরে প্রায় ৭০ কোটি ডলারের বাজার হারানো দেশের পোশাক শিল্পের জন্য বড় ধাক্কা হবে। তাই আলোচনার মাধ্যমে বকেয়া আদায় এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখার পথ খুঁজে বের করা প্রয়োজন। তিনি জানান, এলপিপি আগে বকেয়ার ৫০ শতাংশ ছাড় দিয়ে নিষ্পত্তির প্রস্তাব দিলেও তা স্থানীয় কারখানাগুলোর জন্য গ্রহণযোগ্য ছিল না।