পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার পূর্ণ দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতে তুলে দিয়েছে বিএনপি। শনিবার রাতে গুলশানে দলের চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব চেয়ারম্যানকে দেওয়া হয়েছে। একই তথ্য নিশ্চিত করে স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দলীয় প্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন-সংক্রান্ত সব সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সূত্র জানায়, বৈঠকে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম নিয়ে আলোচনা না হলেও ৯০ দিনের সাংবিধানিক সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই নতুন রাষ্ট্রপতির নাম চূড়ান্ত করার বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্য হয়েছে।
উল্লেখ্য, স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হয়।
বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মতে, রাষ্ট্রপতির পদ শুধু আনুষ্ঠানিক নয়; সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় এ পদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই প্রার্থী নির্বাচনে দল সতর্কতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে চায়।
বৈঠকে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হয়। বিএনপি পাঁচ ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে মত দিয়েছে। একই সঙ্গে দলীয় প্রতীক ছাড়া নির্বাচন এবং তৃণমূল থেকে প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য পর্যায়ভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
এ ছাড়া দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও পর্যালোচনা করেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাঠামোগত সংস্কারের কাজ চলমান রয়েছে এবং ধীরে ধীরে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

