জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার ঘোষেরপাড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (৯নং ওয়ার্ডের সদস্য) মো. আমিনুল ইসলামের স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের নামে ভিজিডি কার্ডের সন্ধান পাওয়া গেছে। ওই কার্ডে স্বামীর নাম গোপন করে পিতার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
রবিবার (২ নভেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. আলমগীর বলেন, “বিষয়টি সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
জানা যায়, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা, স্বামী অসুস্থ বা পঙ্গু এবং ২০ থেকে ৫০ বছর বয়সী এমন নারীদের জন্য, যাদের পরিবারের সদস্যরা প্রায়ই খাদ্যের অভাবে প্রতিদিন একবেলা খেতে পারেন না—তাদের সহায়তায় মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অধীনে ভিডব্লিউবি (ভিজিডি) কর্মসূচি পরিচালিত হয়।
এই কর্মসূচিতে মেলান্দহ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জান্নাতুন নাহারের সহযোগিতায় ঘোষেরপাড়া ইউনিয়নে নানা অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে ৩৫৬ জন সুবিধাভোগীর তালিকা প্রস্তুত করেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম। তালিকার ২০০ নম্বর ক্রমিকে স্বামীর নাম গোপন রেখে পিতা আব্দুল হামিদের পরিচয়ে ভিজিডি কার্ড পান চেয়ারম্যানের স্ত্রী স্বপ্না খাতুন।
এ ঘটনা প্রকাশ পেলে ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ ও ইউপি সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ইউনিয়নের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে হাট-বাজার পর্যন্ত এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা ও সমালোচনা।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ও সচেতন নাগরিকরা অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান ইউনিয়ন পরিষদ আইন লঙ্ঘন করেছেন। তারা দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানান।
ইউপি সচিব মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে কোনো জনপ্রতিনিধি নিজের পরিবারের সদস্যের নামে সুবিধা নিতে পারেন না, এমন সুযোগও নেই।”
প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে স্বীকার করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “আমার এক ফুফাত বোন প্রতিবন্ধী। তার জন্য সুবিধা দিতে স্ত্রী’র নামে কার্ড করেছি।”
মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জান্নাতুন নাহার বলেন, “আপনি অফিসে আসুন, পরে এ বিষয়ে কথা হবে।”
জামালপুর জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মঞ্জুর আলম বলেন, “এভাবে কার্ড নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানান। আমিও বিষয়টি দেখছি।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. আলমগীর বলেন, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না, এখন জানলাম। বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তার স্ত্রীর নামে ভিজিডি কার্ড নিতে পারেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “কখনোই পারে না।”
জামালপুরে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের স্ত্রীর নামে ভিজিডি কার্ড

