ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ব্রিজ নির্মাণ! অবরুদ্ধ হরমুজ: ট্রাম্পের অবরোধ ভাঙতে নামবে চীনের ভয়ঙ্কর নৌবহর? মার্কিন হুমকি তোয়াক্কা না করে হরমুজ পার হলো ইরানি সুপার ট্যাংকার ২৮০০ কোটি টাকার মার্কিন ড্রোন ধ্বংস করল ইরান মাদ্রাসা ছাত্ররা ভালোভাবে কোরআন শেখেনি বলে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারছি না: শিক্ষামন্ত্রী ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে: পেজেশকিয়ান তেহরানের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ যেকোনো সমাধানই মস্কো মেনে নেবে: রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরান থেকে তেল নিতে পারবে না চীন: যুক্তরাষ্ট্র আমাকে নতি স্বীকার করাতে বুশরা বিবিকে ‘অমানুষিক’ নির্যাতন করা হচ্ছে: ইমরান খান আমিও অনলাইন ক্লাস চাই না, কিন্তু পৃথিবী চায়: শিক্ষামন্ত্রী

ইবি শিক্ষক ড. আজিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ, দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:৫৯:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ জুলাই ২০২৫
  • ৪৭৩ বার পড়া হয়েছে

যৌন হয়রানিসহ একাধিক অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আজিজুল ইসলামকে বিভাগের কার্যক্রম থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত ২২ জুন বিভাগের সভাপতি বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন প্রায় ১২ জন ছাত্রী। অভিযোগপত্রে উঠে আসে, অভিযুক্ত শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরেই ছাত্রীদের প্রতি কুরুচিপূর্ণ, অশালীন এবং মানসিকভাবে হয়রানিমূলক আচরণ করে আসছেন। অভিযোগে বলা হয়, তিনি হোয়াটসঅ্যাপে আপত্তিকর মেসেজ পাঠানো, রাতের বেলা ভিডিও কল করা, ক্লাসে বডি শেমিং, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মন্তব্য, পরীক্ষায় নম্বর কমিয়ে দেওয়ার হুমকি ও পছন্দের ছাত্রীদের প্রজেক্টে যুক্ত করতে চাপ দেওয়ার মতো আচরণ করেছেন।

এক ছাত্রী জানান, “স্যার আমাকে ইমোতে ভিডিও কল দেন, উদ্দেশ্য ছিল মোটা নাকি চিকন হয়েছি তা দেখা। এরপর বলেন, ‘তোমার তো কেউ নাই, কিছুদিন পর দেখবো ক্যাম্পাসে ছেলের হাত ধরে ঘুরছো।’ এমন কথাবার্তা খুবই অপমানজনক।”
অপর অভিযোগে বলা হয়, ক্লাসে দাঁড় করিয়ে মাসিক (menstruation) নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হয়, যা শিক্ষার্থীদের জন্য অপমানজনক ও মানসিকভাবে দুঃসহ।

বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. একেএম নাজমুল হুদা বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা একাডেমিক কমিটির বৈঠকে বসি। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা মেলায় শিক্ষককে বিভাগের সকল কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

তবে অভিযুক্ত শিক্ষক আজিজুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি কাউকে হেনস্তা করিনি। আমার কথা ও কাজকে ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এটি পরিকল্পিত একটি ষড়যন্ত্র।”

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ঘটনায় অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ক্যাম্পাসে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। শিক্ষক, অভিভাবক এবং সচেতন মহল দ্রুত বিচার ও যথাযথ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

 

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ব্রিজ নির্মাণ!

ইবি শিক্ষক ড. আজিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ, দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি

আপডেট সময় ১২:৫৯:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ জুলাই ২০২৫

যৌন হয়রানিসহ একাধিক অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আজিজুল ইসলামকে বিভাগের কার্যক্রম থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত ২২ জুন বিভাগের সভাপতি বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন প্রায় ১২ জন ছাত্রী। অভিযোগপত্রে উঠে আসে, অভিযুক্ত শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরেই ছাত্রীদের প্রতি কুরুচিপূর্ণ, অশালীন এবং মানসিকভাবে হয়রানিমূলক আচরণ করে আসছেন। অভিযোগে বলা হয়, তিনি হোয়াটসঅ্যাপে আপত্তিকর মেসেজ পাঠানো, রাতের বেলা ভিডিও কল করা, ক্লাসে বডি শেমিং, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মন্তব্য, পরীক্ষায় নম্বর কমিয়ে দেওয়ার হুমকি ও পছন্দের ছাত্রীদের প্রজেক্টে যুক্ত করতে চাপ দেওয়ার মতো আচরণ করেছেন।

এক ছাত্রী জানান, “স্যার আমাকে ইমোতে ভিডিও কল দেন, উদ্দেশ্য ছিল মোটা নাকি চিকন হয়েছি তা দেখা। এরপর বলেন, ‘তোমার তো কেউ নাই, কিছুদিন পর দেখবো ক্যাম্পাসে ছেলের হাত ধরে ঘুরছো।’ এমন কথাবার্তা খুবই অপমানজনক।”
অপর অভিযোগে বলা হয়, ক্লাসে দাঁড় করিয়ে মাসিক (menstruation) নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হয়, যা শিক্ষার্থীদের জন্য অপমানজনক ও মানসিকভাবে দুঃসহ।

বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. একেএম নাজমুল হুদা বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা একাডেমিক কমিটির বৈঠকে বসি। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা মেলায় শিক্ষককে বিভাগের সকল কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

তবে অভিযুক্ত শিক্ষক আজিজুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি কাউকে হেনস্তা করিনি। আমার কথা ও কাজকে ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এটি পরিকল্পিত একটি ষড়যন্ত্র।”

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ঘটনায় অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ক্যাম্পাসে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। শিক্ষক, অভিভাবক এবং সচেতন মহল দ্রুত বিচার ও যথাযথ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।