জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ৮ম ইনডোর গেমস প্রতিযোগিতার সমাপনী দিনে ক্যারাম দ্বৈত খেলাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, তর্ক-বিতর্ক এবং শেষ পর্যন্ত শারীরিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে চরম ক্ষোভ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, ক্যারাম দ্বৈত ইভেন্টে দুটি দল ফাইনালে উত্তীর্ণ হয়। প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী, একটি দলের দুই খেলোয়াড়কে একই বিভাগের শিক্ষার্থী হওয়ার কথা থাকলেও প্রতিপক্ষ দলের খেলোয়াড়রা ভিন্ন বিভাগের হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, রেফারিদের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তারা জানান, বিষয়টি তাদের নজরে আসেনি, ফলে দলটি ফাইনাল পর্যন্ত খেলতে সক্ষম হয়।
পরবর্তীতে এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও ক্রীড়া কমিটির সঙ্গে আলোচনা হয়। এক পর্যায়ে সমঝোতার প্রস্তাব দেওয়া হলেও একটি দল তা প্রত্যাখ্যান করে। এমনকি দুই দলকে যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করার প্রস্তাবও নাকচ করা হয়। পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে ইভেন্টের ফলাফল স্থগিত রাখার বিষয়টিও আলোচনায় আসে।
ঘটনার এক পর্যায়ে জকসুর ক্রীড়া সম্পাদক জর্সিস আনোয়ার নাইমের সঙ্গে প্রতিপক্ষ দলের সদস্য নেলীর বাকবিতণ্ডা হয়।
উল্লেখ্য, নেলী জকসু নির্বাচনে ছাত্রদল সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান ঐক্য প্যানেল থেকে হল সংসদের জিএস পদপ্রার্থী ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় নেলী ক্রীড়া সম্পাদককে বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করেন।
পরে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে নেলীর দলকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হলে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠান শেষে স্থান ত্যাগ করার সময় নেলী প্রকাশ্যে ক্রীড়া সম্পাদক নাইমকে ডেকে নিয়ে সবার সামনে তাকে থাপ্পড় মারেন।
এসময় উপস্থিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে আবারও হামলার চেষ্টা এবং হুমকি প্রদান করা হয়।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই এটিকে শিক্ষাঙ্গনের শৃঙ্খলার পরিপন্থী ও নিন্দনীয় ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ভুক্তভোগী ক্রীড়া সম্পাদক তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। শিক্ষার্থীরা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

জবি প্রতিনিধিঃ রাফীদ আদ দ্বীন রাঈম 
























