ঢাকা , রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নিখোঁজের পর আট মাসে ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার, এখনো নিখোঁজ ২ হাজার ৩৮ ‘এ দেশটা ধ্বংস হয়ে যাক, এ দেশের দরকার নাই’—অপ্রতিমের মায়ের আহাজারি গাজীপুরে গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকে আগুন, ৪৫টি ঘর পুড়ে ছাই বিএনপি জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে: অলি আহমদ আইনের মারপ্যাঁচে আওয়ামী লীগকে সুবিধা দিলে গণবিস্ফোরণ হবে: মঞ্চ ২৪ দাবি না মানলে ৮ দফা এক দফায় পরিণত হবে: জামায়াতের আমির কমলাপুর রেল স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে ককটেল বিস্ফোরণ অপ্রতিমের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন, জানাজা কাল সকাল ১০টায় সারাদেশে এখন জনমনে আতঙ্ক, মানুষের নিরাপত্তা নেই: নাহিদ ইসলাম মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়ালে পাকিস্তানে মহাবিপর্যয় নেমে আসবে: রাজা নাসির আব্বাস

শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরে আ. লীগকে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান মানবাধিকারকর্মী তসলিমার

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:০৬:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ৮১ বার পড়া হয়েছে

এবার বাংলাদেশি লেখক ও মানবাধিকারকর্মী তসলিমা নাসরিন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরে নিজ দলের নেতৃত্ব দেওয়া এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণবিক্ষোভের পর আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারেরও দাবি জানান তিনি। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ব্যাপক গণবিক্ষোভের মুখে শেখ হাসিনার সরকারের পতন এবং তার দেশত্যাগের পর আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারেরও আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশি এই লেখক।

প্রায় দুই দশক পর কলকাতায় ফিরে সোমবার (৩ আগস্ট) সাংবাদিকদের তসলিমা নাসরিন বলেন, আওয়ামী লীগের নেতা শেখ হাসিনাকে যেভাবে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে, তা ভুল ছিল। এটি ছিল গণতন্ত্রবিরোধী। দলটিকে নিষিদ্ধ করাও সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক। তাদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। আমি চাই শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে আসুন। তিনি মাদ্রাসাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উগ্র ইসলামপন্থিদেরও কঠোর সমালোচনা করেন। তসলিমা বলেন, আমার মনে হয় কোনো মাদ্রাসার প্রয়োজন নেই। এগুলো শুধু জিহাদি তৈরি করে। সব মাদ্রাসাকে ধর্মনিরপেক্ষ বিদ্যালয়ে রূপান্তর করা উচিত।

দীর্ঘ ১৯ বছর পর কলকাতায় ফিরে আসার সুযোগ করে দেওয়ায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও ধন্যবাদ জানান তিনি। তসলিমা নাসরিন বলেন, ১৯ বছর পর আমাকে কলকাতায় আমন্ত্রণ জানানোর মধ্যে আমি কোনো রাজনৈতিক বিষয় দেখি না। নতুন নির্বাচিত সরকার পশ্চিমবঙ্গে অবস্থানকালে আমার নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছে। এ জন্য আমি মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। গতকাল রোববার (৩ আগস্ট) কলকাতায় তার প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে আয়োজিত একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাংলা ভাষার কবি জয় গোস্বামীর বক্তব্যের সময় দর্শকদের একাংশের বিক্ষোভের ঘটনায়ও দুঃখ প্রকাশ করেন তসলিমা নাসরিন।

ওই ঘটনার সময় স্লোগান ও উচ্চস্বরে চিৎকারে মুখর হয়ে ওঠে মিলনায়তন। এ সময় তসলিমা নাসরিন কিছুক্ষণ মঞ্চে মাইক্রোফোনের সামনে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি বলেন, আমার খারাপ লেগেছে। এটি শুধু জয় গোস্বামীর প্রতি অপমান ছিল না, আমার প্রতিও ছিল। মতবিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু সবারই কথা বলার অধিকার আছে। এমন কি কেউ ছিল, যারা জয় গোস্বামীকে কথা বলতে দিতে চায়নি? আমার খারাপ লেগেছে, তবে আশা করি এমন ঘটনা আর ঘটবে না।

এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে বাংলাদেশে সাবেক ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গেও কথা বলেন তসলিমা নাসরিন। তিনি বলেন, বিপদে থাকা হিন্দুদের পাশে দাঁড়ানোর কারণেই চিন্ময়কে মূল্য দিতে হয়েছে। আমাদের মতো অনেকেই চিন্ময়ের পক্ষে কথা বলছি। মুক্তচিন্তার মানুষদের ধারাবাহিকভাবে টার্গেট করা হচ্ছে। আমাদের অনেকেরই দেশ ছাড়ার বিকল্প ছিল না। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশের একটি অভ্যন্তরীণ যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০২৪ সালের আন্দোলন দমনের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। তবে শেখ হাসিনার আইনজীবীরা ওই বিচারপ্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে তা চ্যালেঞ্জ করেন। সূত্র: এনডিটিভি

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নিখোঁজের পর আট মাসে ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার, এখনো নিখোঁজ ২ হাজার ৩৮

শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরে আ. লীগকে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান মানবাধিকারকর্মী তসলিমার

আপডেট সময় ০৪:০৬:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

এবার বাংলাদেশি লেখক ও মানবাধিকারকর্মী তসলিমা নাসরিন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরে নিজ দলের নেতৃত্ব দেওয়া এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণবিক্ষোভের পর আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারেরও দাবি জানান তিনি। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ব্যাপক গণবিক্ষোভের মুখে শেখ হাসিনার সরকারের পতন এবং তার দেশত্যাগের পর আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারেরও আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশি এই লেখক।

প্রায় দুই দশক পর কলকাতায় ফিরে সোমবার (৩ আগস্ট) সাংবাদিকদের তসলিমা নাসরিন বলেন, আওয়ামী লীগের নেতা শেখ হাসিনাকে যেভাবে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে, তা ভুল ছিল। এটি ছিল গণতন্ত্রবিরোধী। দলটিকে নিষিদ্ধ করাও সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক। তাদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। আমি চাই শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে আসুন। তিনি মাদ্রাসাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উগ্র ইসলামপন্থিদেরও কঠোর সমালোচনা করেন। তসলিমা বলেন, আমার মনে হয় কোনো মাদ্রাসার প্রয়োজন নেই। এগুলো শুধু জিহাদি তৈরি করে। সব মাদ্রাসাকে ধর্মনিরপেক্ষ বিদ্যালয়ে রূপান্তর করা উচিত।

দীর্ঘ ১৯ বছর পর কলকাতায় ফিরে আসার সুযোগ করে দেওয়ায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও ধন্যবাদ জানান তিনি। তসলিমা নাসরিন বলেন, ১৯ বছর পর আমাকে কলকাতায় আমন্ত্রণ জানানোর মধ্যে আমি কোনো রাজনৈতিক বিষয় দেখি না। নতুন নির্বাচিত সরকার পশ্চিমবঙ্গে অবস্থানকালে আমার নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছে। এ জন্য আমি মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। গতকাল রোববার (৩ আগস্ট) কলকাতায় তার প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে আয়োজিত একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাংলা ভাষার কবি জয় গোস্বামীর বক্তব্যের সময় দর্শকদের একাংশের বিক্ষোভের ঘটনায়ও দুঃখ প্রকাশ করেন তসলিমা নাসরিন।

ওই ঘটনার সময় স্লোগান ও উচ্চস্বরে চিৎকারে মুখর হয়ে ওঠে মিলনায়তন। এ সময় তসলিমা নাসরিন কিছুক্ষণ মঞ্চে মাইক্রোফোনের সামনে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি বলেন, আমার খারাপ লেগেছে। এটি শুধু জয় গোস্বামীর প্রতি অপমান ছিল না, আমার প্রতিও ছিল। মতবিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু সবারই কথা বলার অধিকার আছে। এমন কি কেউ ছিল, যারা জয় গোস্বামীকে কথা বলতে দিতে চায়নি? আমার খারাপ লেগেছে, তবে আশা করি এমন ঘটনা আর ঘটবে না।

এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে বাংলাদেশে সাবেক ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গেও কথা বলেন তসলিমা নাসরিন। তিনি বলেন, বিপদে থাকা হিন্দুদের পাশে দাঁড়ানোর কারণেই চিন্ময়কে মূল্য দিতে হয়েছে। আমাদের মতো অনেকেই চিন্ময়ের পক্ষে কথা বলছি। মুক্তচিন্তার মানুষদের ধারাবাহিকভাবে টার্গেট করা হচ্ছে। আমাদের অনেকেরই দেশ ছাড়ার বিকল্প ছিল না। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশের একটি অভ্যন্তরীণ যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০২৪ সালের আন্দোলন দমনের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। তবে শেখ হাসিনার আইনজীবীরা ওই বিচারপ্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে তা চ্যালেঞ্জ করেন। সূত্র: এনডিটিভি