দেশীয় কাপড়ের চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশই উৎপাদন হয় নরসিংদীর কারখানাগুলোতে। তবে তীব্র গ্যাস সংকটে জেলার তিন শতাধিক কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে বিপাকে পড়েছেন মালিক ও শ্রমিকরা।
গ্যাসের সংকট মোকাবিলায় বিকল্প জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার করে কোনোরকমে উৎপাদন সচল রাখছেন অন্তত শতাধিক ছোট-বড় টেক্সটাইল কারখানার মালিক। এতে একদিকে বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়, অন্যদিকে হুমকিতে পড়ছে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য।
শেখেরচর ও মাধবদী শিল্পাঞ্চলের ৪১টি ডাইং ও সাইজিং কারখানার নন-গ্যাস বয়লারে প্রতিদিন পোড়ানো হচ্ছে প্রায় ৮ টন কাঠ। জ্বালানি হিসেবে কাঠের এমন ব্যাপক ব্যবহারকে ঘিরে উদ্বেগ জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতা ও পরিবেশবিদরা।
জুট বয়লার হিসেবে নিবন্ধিত এসব বয়লারে কয়লা, পাটসহ বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহারের কথা থাকলেও সেখানে অবাধে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে বনজ সম্পদ উজাড়ের পাশাপাশি বায়ুদূষণ বাড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
নরসিংদীর প্রধান বয়লার পরিদর্শক সুমন কুমার পাল বলেন, কাঠ পোড়ানোর কারণে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে, এটি সত্য। তবে গ্যাস সংকটের মধ্যে শিল্পকারখানা সচল রাখতেই বাধ্য হয়ে কাঠ ব্যবহার করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে নরসিংদী পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. বদরুল হুদা বলেন, সুনির্দিষ্ট আইন না থাকায় কাঠ পোড়ানোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না।
নরসিংদী জেলায় নিবন্ধিত বয়লার কারখানা রয়েছে ৩৬৪টি। এর মধ্যে ৩২৩টি গ্যাসচালিত। দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকটে এসব শিল্পকারখানার উৎপাদন যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি বিকল্প জ্বালানি হিসেবে কাঠের ব্যবহার বাড়ায় তৈরি হচ্ছে পরিবেশগত ঝুঁকি।
জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেতে শিল্পকারখানায় নির্বিচারে কাঠ পোড়ানো বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ডেস্ক রিপোর্ট 

























