ঢাকা , শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
গ্যাস ও বিদ্যুতের বর্তমান সংকটের জন্য বিগত সরকার দায়ী: ডিএসসিসি প্রশাসক নো গ্যাস নো বিল, নো সার্ভিস নো ট্যাক্স: রুমিন ফারহানা ছয় দফা না মানলে সরকার পতনে এক দফা: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কানাডায় ২ শিশুকে ৯ মাস যৌন নিপীড়ন, প্রবাসী আর্ট শিক্ষক গ্রেপ্তার জাতিসংঘে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে বিএনপি নায়ক হতে পারতো, কিন্তু ভিলেনে পরিণত হয়েছে: তাজুল ইসলাম জাতিসংঘে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ফিলিস্তিনে ধ্বংসস্তূপ থেকে একই পরিবারের ৫৫ লাশ উদ্ধার ‘আমি চলে গেলে কেউ আমার নাম দেবে না’, তাই সবকিছুতে নিজের নাম দিচ্ছেন ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে আকস্মিক হামলা চালাতে পারে ইরান

গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে ৮ হাজারের বেশি মরদেহ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:৪৭:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
  • ১১৫ বার পড়া হয়েছে

এবার ইসরাইলের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানে বিধ্বস্ত গাজা ভূখণ্ডে ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অন্তত আট হাজার ফিলিস্তিনির মরদেহ চাপা পড়ে আছে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর এক কর্মকর্তার বরাতে ইসরাইলি দৈনিক হারেৎজ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত গাজার মোট ধ্বংসাবশেষের ১ শতাংশেরও কম অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমান গতিতে কাজ চলতে থাকলে পুরো এলাকা পরিষ্কার করতে সাত বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, বিধ্বস্ত ভবনের নিচে অসংখ্য মরদেহ আটকে থাকায় অনেক পরিবার এখনও তাদের স্বজনদের দাফন করতে পারেনি। গাজার সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, ভারী যন্ত্রপাতি ও জনবলের ঘাটতির কারণে উদ্ধার কার্যক্রম অত্যন্ত ধীরগতিতে এগোচ্ছে।

গত অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরও গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান পুরোপুরি থামেনি। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর নতুন করে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৮২৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ২ হাজার ৩৪২ জন আহত হয়েছেন। টানা দুই বছরের সংঘাতে মোট নিহতের সংখ্যা ৭২ হাজার ছাড়িয়েছে, আহত হয়েছেন প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার মানুষ। জাতিসংঘ জানিয়েছে, ইসরাইলি হামলায় গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। পুরো উপত্যকাটি পুনর্গঠনে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে, গাজামুখী মানবিক ত্রাণবহরসুমুদ ফ্লোটিলাথেকে আটক দুই বিদেশি কর্মীকে রবিবার ইসরাইলের আশকেলন আদালতে হাজির করা হয়েছে। স্পেনের সাইফ আবু কেশেক ও ব্রাজিলের থিয়াগো আভিলাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। তাদের আইনগত সহায়তাকারী সংগঠনআদালাহজানিয়েছে, ইসরায়েল তাদের আটকাদেশ আরও চার দিন বাড়ানোর আবেদন করেছে। ভূমধ্যসাগরে গাজামুখী ৫০টির বেশি নৌযানের এই বহরটি ফ্রান্স, স্পেন ও ইতালি থেকে যাত্রা করেছিল। গত বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক জলসীমায় গ্রিস উপকূলের কাছে ইসরাইলি বাহিনী বহরটি থামিয়ে দেয়। আটক দুই কর্মী অভিযোগ করেছেন, জিজ্ঞাসাবাদের আগে তাদের মারধর, চোখ বেঁধে রাখা এবং নির্যাতন করা হয়েছে। তবে ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা হামাসসংশ্লিষ্ট একটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত।

অন্যদিকে পশ্চিম তীরেও ইসরাইলি সহিংসতা বাড়ছে। সেখানে বসতি স্থাপনকারী ও সেনাদের হামলায় স্কুল ও শিক্ষার্থীরা প্রায়ই আক্রান্ত হচ্ছে। গত ২১ এপ্রিল রামাল্লাহর কাছে মুগাইয়ির গ্রামে সশস্ত্র ইসরাইলি রিজার্ভ সেনারা একটি স্কুল লক্ষ্য করে গুলি চালালে ১৪ বছর বয়সী ছাত্র আওস আলনাসান নিহত হয়। একই ঘটনায় আরও একজন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারান। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৮ হাজার ৬৩৯ শিক্ষার্থী ও ৭৯২ জন শিক্ষক নিহত হয়েছেন। ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৯০ শতাংশ স্কুল ভবন। ইউনিসেফ জানিয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ধারাবাহিক হামলা শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক জীবনকে মারাত্মক সংকটে ফেলছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

গ্যাস ও বিদ্যুতের বর্তমান সংকটের জন্য বিগত সরকার দায়ী: ডিএসসিসি প্রশাসক

গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে ৮ হাজারের বেশি মরদেহ

আপডেট সময় ০৯:৪৭:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

এবার ইসরাইলের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানে বিধ্বস্ত গাজা ভূখণ্ডে ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অন্তত আট হাজার ফিলিস্তিনির মরদেহ চাপা পড়ে আছে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর এক কর্মকর্তার বরাতে ইসরাইলি দৈনিক হারেৎজ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত গাজার মোট ধ্বংসাবশেষের ১ শতাংশেরও কম অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমান গতিতে কাজ চলতে থাকলে পুরো এলাকা পরিষ্কার করতে সাত বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, বিধ্বস্ত ভবনের নিচে অসংখ্য মরদেহ আটকে থাকায় অনেক পরিবার এখনও তাদের স্বজনদের দাফন করতে পারেনি। গাজার সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, ভারী যন্ত্রপাতি ও জনবলের ঘাটতির কারণে উদ্ধার কার্যক্রম অত্যন্ত ধীরগতিতে এগোচ্ছে।

গত অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরও গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান পুরোপুরি থামেনি। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর নতুন করে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৮২৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ২ হাজার ৩৪২ জন আহত হয়েছেন। টানা দুই বছরের সংঘাতে মোট নিহতের সংখ্যা ৭২ হাজার ছাড়িয়েছে, আহত হয়েছেন প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার মানুষ। জাতিসংঘ জানিয়েছে, ইসরাইলি হামলায় গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। পুরো উপত্যকাটি পুনর্গঠনে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে, গাজামুখী মানবিক ত্রাণবহরসুমুদ ফ্লোটিলাথেকে আটক দুই বিদেশি কর্মীকে রবিবার ইসরাইলের আশকেলন আদালতে হাজির করা হয়েছে। স্পেনের সাইফ আবু কেশেক ও ব্রাজিলের থিয়াগো আভিলাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। তাদের আইনগত সহায়তাকারী সংগঠনআদালাহজানিয়েছে, ইসরায়েল তাদের আটকাদেশ আরও চার দিন বাড়ানোর আবেদন করেছে। ভূমধ্যসাগরে গাজামুখী ৫০টির বেশি নৌযানের এই বহরটি ফ্রান্স, স্পেন ও ইতালি থেকে যাত্রা করেছিল। গত বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক জলসীমায় গ্রিস উপকূলের কাছে ইসরাইলি বাহিনী বহরটি থামিয়ে দেয়। আটক দুই কর্মী অভিযোগ করেছেন, জিজ্ঞাসাবাদের আগে তাদের মারধর, চোখ বেঁধে রাখা এবং নির্যাতন করা হয়েছে। তবে ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা হামাসসংশ্লিষ্ট একটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত।

অন্যদিকে পশ্চিম তীরেও ইসরাইলি সহিংসতা বাড়ছে। সেখানে বসতি স্থাপনকারী ও সেনাদের হামলায় স্কুল ও শিক্ষার্থীরা প্রায়ই আক্রান্ত হচ্ছে। গত ২১ এপ্রিল রামাল্লাহর কাছে মুগাইয়ির গ্রামে সশস্ত্র ইসরাইলি রিজার্ভ সেনারা একটি স্কুল লক্ষ্য করে গুলি চালালে ১৪ বছর বয়সী ছাত্র আওস আলনাসান নিহত হয়। একই ঘটনায় আরও একজন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারান। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৮ হাজার ৬৩৯ শিক্ষার্থী ও ৭৯২ জন শিক্ষক নিহত হয়েছেন। ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৯০ শতাংশ স্কুল ভবন। ইউনিসেফ জানিয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ধারাবাহিক হামলা শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক জীবনকে মারাত্মক সংকটে ফেলছে।