কুড়িগ্রামের রাজারহাটে তিন বছর ধরে বৃদ্ধ বাবাকে ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, ওই বৃদ্ধার স্ত্রীর মৃত্যুর পর জানাজা ও দাফনেও স্বামীকে অংশ নিতে দেননি বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। পরে থানা পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে দাফনের প্রায় চার ঘণ্টা পর বাবা ও অভিযুক্ত ছেলে মিলে কবর জিয়ারত করেন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নের নাককাটি গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই গ্রামের আব্দুল জলিল ও মাহমুদা বেগম দম্পতির তিন মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে। মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে। বড় ছেলে আব্দুল মোন্নাফ কৃষিকাজ করেন এবং ছোট ছেলে মোস্তফা বরগুনায় শিক্ষকতা করেন।
অভিযোগ রয়েছে, ছোট ছেলে কর্মস্থলে থাকার সুযোগে বড় ছেলে আব্দুল মোন্নাফ প্রায় ১৪ একর জমি বাবার কাছ থেকে নিজের নামে লিখে নেন। একই সঙ্গে বৃদ্ধ বাবা আব্দুল জলিলকে দীর্ঘদিন ধরে ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখেন বলেও অভিযোগ করেছেন পরিবারের অন্য সদস্যরা।
এদিকে আব্দুল জলিলের স্ত্রী মাহমুদা বেগম অসুস্থ হয়ে পড়লে তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেন মেয়েরা। বড় মেয়ে পারভিনা বেগম গত রমজানের পর তাকে রংপুরে হাসপাতালে ভর্তি করান। পরে দ্বিতীয় মেয়ে রনজিনা বেগম মাকে একই ইউনিয়নের জয়দেব হায়াত গ্রামে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে গত ৩১ মে তাকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসকরা বাড়িতে নেওয়ার পরামর্শ দিলে তাকে মেয়ের বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে গতকাল বুধবার (৩ জুন) রাতে তিনি মারা যান।
আজ সকালে পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহ দাফনের উদ্যোগ নেওয়া হলে বড় ছেলে আব্দুল মোন্নাফ বাধা দেন বলে অভিযোগ। একই সঙ্গে তিনি বৃদ্ধ বাবা আব্দুল জলিলকে ঘরে তালাবদ্ধ করে রেখে স্ত্রীর জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে দেননি বলেও অভিযোগ স্বজনদের।
একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় মরদেহ দাফন করা হয়। খবর পেয়ে রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। এ সময় উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মো. কফিল উদ্দিন, ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রাজু মিয়া, ইউপি সদস্য মোস্তফা মিয়াসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে ওসি মামুনুর রশীদের উদ্যোগে উপস্থিত সবার সঙ্গে আলোচনা করে দীর্ঘদিন ধরে ঘরে অবরুদ্ধ থাকা আব্দুল জলিলকে বের করা হয়। দাফনের প্রায় চার ঘণ্টা পর তিনি ও তার অভিযুক্ত ছেলে মাহমুদা বেগমের কবর জিয়ারত করেন।
রাজারহাট থানার ওসি মামুনুর রশীদ বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বৃদ্ধ বাবাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। ওই বৃদ্ধের স্ত্রী মারা গেলে দাফনেও অংশ নিতে দেয়নি বড় ছেলে। বিষয়টি জানার পর তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 



















