ঢাকা , রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নোয়াখালীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগ ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ চার পরিবর্তন নিয়ে রাতে মাঠে নামছে ব্রাজিল মেহেরপুর তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্তে ৬ জনকে পুশইনের চেষ্টা বিজিবি-গ্রামবাসীর প্রতিরোধে ব্যর্থ বিএসএফ, সীমান্তে সতর্ক অবস্থান এসএসসি পরীক্ষার্থীকে বলাৎকার, আ.লীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ২ মেহেরপুর প্রেসক্লাবের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন সভাপতি ফারুক সম্পাদক মুক্ত রক্তাক্ত ছবি শেয়ার করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে বিচার চাইলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বিএনপি তিন মাসেই আ.লীগের অবস্থানে পৌঁছে গেছে: আসিফ মাহমুদ ঈদের ছুটি শেষে ফেরার পর এক গ্রুপে গণছাঁটাই, চাকরি হারালেন ১৮৬৮ শ্রমিক যুদ্ধে ইরানের সামরিক শক্তি ‘সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস’, ক্ষেপণাস্ত্র মজুত মাত্র ২১% : ট্রাম্প ধর্ষিতার বাবা নয়-গর্বিত পিতা হতে চেয়েছিলাম, আমি কি তার জন্য দায়ী?: রামিসার বাবা

গরিবের ছেলে টাকার লোভ সামলাতে পারিনি, আদালতে রিয়াদ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৩২:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫
  • ৮৬২ বার পড়া হয়েছে

এবার চাঁদাবাজির অভিযোগে ঢাকার গুলশান থানায় দায়ের করা একটি মামলায় বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের বহিষ্কৃত নেতা আব্দুর রাজ্জাক রিয়াদ আদালতে দায় স্বীকার করেছেন। রোববার (৩ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালতে তিনি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। রিয়াদ জানান, চাঁদাবাজির ১০ লাখ টাকা তিনি ও তার সহকর্মী অপু সমানভাগে ভাগ করে নিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি গরিবের ছেলে, তাই টাকার লোভ সামলাতে পারিনি।ওই সময় তিনি ঘটনার দিনে সাবেক ওই এমপির বাসায় কে কে ও কোন উদ্দেশ্যে যায়, তার বর্ণনা দেন।

আদালতকে তিনি বলেন, প্রথমে শাম্মীকে ধরতে পুলিশের সঙ্গে গেলেও তাকে বাসায় পাননি। পরে পানি খাওয়ার নাম করে বাসায় ঢোকেন রিয়াদ ও আরেক আসামি জানে আলম অপু। এরপর হুমকি দিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা নেন তারা। এরপর তা দুজনে সমান ভাগে ভাগ করে নেন। গতকাল রোববার রিমান্ড শেষে রিয়াদসহ চার আসামিকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহের আদালতে হাজির করা হয়। এরপর রিয়াদ স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। তারপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোখলেছুর রহমান তার জবানবন্দি রেকর্ড করতে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত অপুর জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

জবানবন্দিতে রিয়াদ বলেন, বিভিন্ন সময় ‘ফ্যাসিবাদী লোকজন’ গ্রেপ্তার করার ক্ষেত্রে পুলিশকে সহযোগিতা করেছেন তিনি। ঘটনার দিন গত ১৭ জুলাই রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সিনিয়র সহসভাপতি জাকির হোসেন মঞ্জুর ফোনের মাধ্যমে গুলশান জোনের ডিসির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তখন রিয়াদ ডিসিকে জানান, আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক এবং সাবেক এমপি শাম্মী আহম্মেদ গুলশানের নিজ বাসায় অবস্থান করছেন। পরে ডিসি নিজে জানান যে, বিষয়টি তিনি গুলশান থানার ওসিকে অবগত করেছেন। এরপর রাত ২টার দিকে রিয়াদ, মঞ্জু, জানে আলম অপু, সাবাব হোসেন, আতিক শাহরিয়ার, সাদাকাউম সিয়াম, তানিম ওয়াহিদ ও আতিকের সঙ্গে আরও কয়েকজন থানায় যায়। তখন ওসি জানান, এত রাতে গুলশান সোসাইটিতে অভিযান চালানো যাবে না। ফজরের আজান পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

রিয়াদ জানান, পরে গুলশান থানার একটি টিম তাদের সঙ্গে দেওয়া হয়। এরপর তার (রিয়াদ) নেতৃত্বে সাবেক এমপি শাম্মী আহম্মেদের বাড়িতে যান। গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অভিযানের নেতৃত্ব দেন। তবে শাম্মীকে বাসায় না পেয়ে সকাল সাড়ে ৭টায় তারা ফিরে আসেন। পরে জানে আলম অপু রিয়াদকে বলেন, ওই বাসা থেকে তিনি শাম্মী আহম্মেদের এয়ারপড নিয়ে এসেছেন। পরে রিয়াদ ও অপু ওইদিন (১৭ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে এয়ারপড ফেরত দিতে ওই বাসায় যান। তারা এয়ারপড ফেরত দেওয়ার পর অপু পানি খাওয়ার কথা বলে ওই বাসার ভেতরে ঢোকেন। তখন অপু বাসায় থাকা শাম্মীর স্বামীকে বলেন, শাম্মী বাসায় আছেন। তারা তাকে পুলিশে দেবেন। তখন শাম্মীর স্বামী ভয় পেয়ে টাকা দিতে চান। তখন অপু ৫০ লাখ টাকা দাবি করেন। কিন্তু এত টাকা বাসায় নেই বলে জানান শাম্মীর স্বামী। পরবর্তী সময়ে ১০ লাখ টাকা নিয়ে চলে আসেন এবং সমান ভাগে ভাগ করে নেন তারা।

রিয়াদ আরও জানান, বাকি ৪০ লাখ টাকা নিতে ফের ২৫ জুলাই শাম্মী আহম্মেদের বাসায় যান রিয়াদসহ গ্রেপ্তার বাকিরা। ওইসময় পুলিশ এসে তাদের গ্রেপ্তার করে। পালিয়ে যান অপু। এ চাঁদাবাজির ঘটনায় অপু নিজের দোষ স্বীকার করেন। জবানবন্দি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। এ ছাড়া রোববার আলোচিত এই মামলার আরও তিন আসামিকে রিমান্ড শেষে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়। এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিয়াদুর রহমানের আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। কারাগারে যাওয়া অন্যরা হলেন মো. ইব্রাহিম হোসেন, সাকাদাউন সিয়াম ও সাদমান সাদাব। তারাও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের নেতা ছিলেন। চাঁদাবাজির ঘটনার পর তাদের সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নোয়াখালীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগ ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ

গরিবের ছেলে টাকার লোভ সামলাতে পারিনি, আদালতে রিয়াদ

আপডেট সময় ১০:৩২:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫

এবার চাঁদাবাজির অভিযোগে ঢাকার গুলশান থানায় দায়ের করা একটি মামলায় বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের বহিষ্কৃত নেতা আব্দুর রাজ্জাক রিয়াদ আদালতে দায় স্বীকার করেছেন। রোববার (৩ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালতে তিনি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। রিয়াদ জানান, চাঁদাবাজির ১০ লাখ টাকা তিনি ও তার সহকর্মী অপু সমানভাগে ভাগ করে নিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি গরিবের ছেলে, তাই টাকার লোভ সামলাতে পারিনি।ওই সময় তিনি ঘটনার দিনে সাবেক ওই এমপির বাসায় কে কে ও কোন উদ্দেশ্যে যায়, তার বর্ণনা দেন।

আদালতকে তিনি বলেন, প্রথমে শাম্মীকে ধরতে পুলিশের সঙ্গে গেলেও তাকে বাসায় পাননি। পরে পানি খাওয়ার নাম করে বাসায় ঢোকেন রিয়াদ ও আরেক আসামি জানে আলম অপু। এরপর হুমকি দিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা নেন তারা। এরপর তা দুজনে সমান ভাগে ভাগ করে নেন। গতকাল রোববার রিমান্ড শেষে রিয়াদসহ চার আসামিকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহের আদালতে হাজির করা হয়। এরপর রিয়াদ স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। তারপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোখলেছুর রহমান তার জবানবন্দি রেকর্ড করতে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত অপুর জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

জবানবন্দিতে রিয়াদ বলেন, বিভিন্ন সময় ‘ফ্যাসিবাদী লোকজন’ গ্রেপ্তার করার ক্ষেত্রে পুলিশকে সহযোগিতা করেছেন তিনি। ঘটনার দিন গত ১৭ জুলাই রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সিনিয়র সহসভাপতি জাকির হোসেন মঞ্জুর ফোনের মাধ্যমে গুলশান জোনের ডিসির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তখন রিয়াদ ডিসিকে জানান, আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক এবং সাবেক এমপি শাম্মী আহম্মেদ গুলশানের নিজ বাসায় অবস্থান করছেন। পরে ডিসি নিজে জানান যে, বিষয়টি তিনি গুলশান থানার ওসিকে অবগত করেছেন। এরপর রাত ২টার দিকে রিয়াদ, মঞ্জু, জানে আলম অপু, সাবাব হোসেন, আতিক শাহরিয়ার, সাদাকাউম সিয়াম, তানিম ওয়াহিদ ও আতিকের সঙ্গে আরও কয়েকজন থানায় যায়। তখন ওসি জানান, এত রাতে গুলশান সোসাইটিতে অভিযান চালানো যাবে না। ফজরের আজান পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

রিয়াদ জানান, পরে গুলশান থানার একটি টিম তাদের সঙ্গে দেওয়া হয়। এরপর তার (রিয়াদ) নেতৃত্বে সাবেক এমপি শাম্মী আহম্মেদের বাড়িতে যান। গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অভিযানের নেতৃত্ব দেন। তবে শাম্মীকে বাসায় না পেয়ে সকাল সাড়ে ৭টায় তারা ফিরে আসেন। পরে জানে আলম অপু রিয়াদকে বলেন, ওই বাসা থেকে তিনি শাম্মী আহম্মেদের এয়ারপড নিয়ে এসেছেন। পরে রিয়াদ ও অপু ওইদিন (১৭ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে এয়ারপড ফেরত দিতে ওই বাসায় যান। তারা এয়ারপড ফেরত দেওয়ার পর অপু পানি খাওয়ার কথা বলে ওই বাসার ভেতরে ঢোকেন। তখন অপু বাসায় থাকা শাম্মীর স্বামীকে বলেন, শাম্মী বাসায় আছেন। তারা তাকে পুলিশে দেবেন। তখন শাম্মীর স্বামী ভয় পেয়ে টাকা দিতে চান। তখন অপু ৫০ লাখ টাকা দাবি করেন। কিন্তু এত টাকা বাসায় নেই বলে জানান শাম্মীর স্বামী। পরবর্তী সময়ে ১০ লাখ টাকা নিয়ে চলে আসেন এবং সমান ভাগে ভাগ করে নেন তারা।

রিয়াদ আরও জানান, বাকি ৪০ লাখ টাকা নিতে ফের ২৫ জুলাই শাম্মী আহম্মেদের বাসায় যান রিয়াদসহ গ্রেপ্তার বাকিরা। ওইসময় পুলিশ এসে তাদের গ্রেপ্তার করে। পালিয়ে যান অপু। এ চাঁদাবাজির ঘটনায় অপু নিজের দোষ স্বীকার করেন। জবানবন্দি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। এ ছাড়া রোববার আলোচিত এই মামলার আরও তিন আসামিকে রিমান্ড শেষে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়। এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিয়াদুর রহমানের আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। কারাগারে যাওয়া অন্যরা হলেন মো. ইব্রাহিম হোসেন, সাকাদাউন সিয়াম ও সাদমান সাদাব। তারাও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের নেতা ছিলেন। চাঁদাবাজির ঘটনার পর তাদের সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়।