ঢাকা , সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
জ্বালানি ছাড়াই বিদ্যুৎ উৎপাদন: বগুড়ায় ফ্লাইহুইল প্রযুক্তির সফল পরীক্ষা ঢাবির ফজলুল হক মুসলিম হলে সংঘর্ষ, ভিপি-জিএসসহ আহত ৬ ইরানের সামরিক নীতি আক্রমণাত্মক করার ঘোষণা আইআরজিসির জিম্বাবুয়েতে ফেরিডুবি: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮৪ জনে  কাল থেকে রাজধানীতে চলবে বিআরটিসির ‘মহিলা বাস’, চালক-কন্ডাক্টরও নারী অসুস্থ সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন, পা অবশ হওয়ায় চলাফেরা সীমিত ৯০০ কর্মী ছাঁটাই করা সিইও এবার নিজেই হারালেন চাকরি মসজিদ রক্ষায় লড়েছিলেন এক পায়ে, সেই নেপালি যুবককে পুরস্কৃত করল সৌদি প্রতিটি মার্কিন সেনাকে হত্যা বা আটক করলে ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার: ইরানের সেনাপ্রধান গাজায় প্রতি রাতে ৩০-৪০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করতে বললেন ইসরায়েলি মন্ত্রী

ভূ-রাজনীতি বদলে দিতে সীমান্তে বিশাল রেল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে ভারত

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৫:৩৪:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫৮ বার পড়া হয়েছে

সীমান্তবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে বড় ধরনের রেল অবকাঠামো প্রকল্প হাতে নিয়েছে ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকার। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় রেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে প্রায় ৪৫০ বিলিয়ন রুপি (প্রায় ৪.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বিনিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে। আগামী ১৮ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই পরিকল্পনার আওতায় পাঞ্জাব, পশ্চিমবঙ্গ, হিমাচল প্রদেশ, রাজস্থান, আসামসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি সীমান্তবর্তী রাজ্যে নতুন রেললাইন নির্মাণ, প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণ এবং বিদ্যমান রেল অবকাঠামোর আধুনিকায়ন করা হবে। আগামী দুই বছরে ভারতের রেল খাতে নির্ধারিত মোট বিনিয়োগের প্রায় ২২ শতাংশ এই সীমান্তমুখী প্রকল্পগুলোতে ব্যয় হওয়ার কথা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি ভূরাজনৈতিক ও কৌশলগত পরিকল্পনা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনা, পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাত এবং ২০২৪ সালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে গুরুত্ব দিচ্ছে নয়াদিল্লি।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই রেল নেটওয়ার্কের দ্বৈত ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। অর্থাৎ, এটি যেমন সাধারণ যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত হবে, তেমনি জরুরি পরিস্থিতিতে সেনা, সামরিক সরঞ্জাম ও রসদ দ্রুত সীমান্তে পৌঁছে দিতেও কাজে লাগানো হবে।

বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে হিমালয় অঞ্চল, পশ্চিমবঙ্গের কৌশলগত শিলিগুড়ি করিডোর এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দুর্গম এলাকাগুলোতে। এসব অঞ্চলে সারাবছর সচল ও উচ্চ সক্ষমতার যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে সীমান্তে মোতায়েন বাহিনীর চলাচল, রসদ সরবরাহ এবং সামগ্রিক প্রস্তুতি আরও কার্যকর হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জ্বালানি ছাড়াই বিদ্যুৎ উৎপাদন: বগুড়ায় ফ্লাইহুইল প্রযুক্তির সফল পরীক্ষা

ভূ-রাজনীতি বদলে দিতে সীমান্তে বিশাল রেল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে ভারত

আপডেট সময় ০৫:৩৪:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

সীমান্তবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে বড় ধরনের রেল অবকাঠামো প্রকল্প হাতে নিয়েছে ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকার। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় রেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে প্রায় ৪৫০ বিলিয়ন রুপি (প্রায় ৪.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বিনিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে। আগামী ১৮ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই পরিকল্পনার আওতায় পাঞ্জাব, পশ্চিমবঙ্গ, হিমাচল প্রদেশ, রাজস্থান, আসামসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি সীমান্তবর্তী রাজ্যে নতুন রেললাইন নির্মাণ, প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণ এবং বিদ্যমান রেল অবকাঠামোর আধুনিকায়ন করা হবে। আগামী দুই বছরে ভারতের রেল খাতে নির্ধারিত মোট বিনিয়োগের প্রায় ২২ শতাংশ এই সীমান্তমুখী প্রকল্পগুলোতে ব্যয় হওয়ার কথা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি ভূরাজনৈতিক ও কৌশলগত পরিকল্পনা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনা, পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাত এবং ২০২৪ সালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে গুরুত্ব দিচ্ছে নয়াদিল্লি।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই রেল নেটওয়ার্কের দ্বৈত ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। অর্থাৎ, এটি যেমন সাধারণ যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত হবে, তেমনি জরুরি পরিস্থিতিতে সেনা, সামরিক সরঞ্জাম ও রসদ দ্রুত সীমান্তে পৌঁছে দিতেও কাজে লাগানো হবে।

বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে হিমালয় অঞ্চল, পশ্চিমবঙ্গের কৌশলগত শিলিগুড়ি করিডোর এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দুর্গম এলাকাগুলোতে। এসব অঞ্চলে সারাবছর সচল ও উচ্চ সক্ষমতার যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে সীমান্তে মোতায়েন বাহিনীর চলাচল, রসদ সরবরাহ এবং সামগ্রিক প্রস্তুতি আরও কার্যকর হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।