ফুটবল বিশ্বকাপে আজ রাত ২টায় শেষ ষোলোর সবচেয়ে আকর্ষণীয় লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ও নরওয়ে। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মাঠে নামার আগে আত্মবিশ্বাসী দুই দলই।
ব্রাজিল শিবিরে সবচেয়ে বড় সুখবর নেইমারকে ঘিরে। চলতি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো শুরুর একাদশে দেখা যেতে পারে এই তারকাকে। শুধু তাই নয়, কোচ কার্লো আনচেলত্তির ইঙ্গিতে মিলেছে—নেইমার খেলতে পারেন পুরো ৯০ মিনিটই। অনুশীলনেও তাকে দেখা গেছে বেশ ফুরফুরে মেজাজে।
তবে দুশ্চিন্তাও আছে সেলেসাও শিবিরে। জাপানের বিপক্ষে চোট পাওয়া লুকাস পাকেতা নিশ্চিতভাবেই এই ম্যাচে খেলতে পারছেন না। যদিও ক্যাসেমিরোর মাঠে নামার সম্ভাবনা রয়েছে। পাকেতার জায়গায় একাদশে সুযোগ পেতে পারেন দানিলো সান্তোস। অন্যদিকে রাফিনিয়া পুরোপুরি ফিট থাকায় স্বস্তিতে ব্রাজিল।
ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি বলেন,
“পাকেতা খেলতে পারবে না, এটা নিশ্চিত। তবে রাফিনিয়াকে আমরা পাচ্ছি। হালান্ডকে নিয়ে আলাদা কোনো পরিকল্পনা নেই। মার্কিনিয়োস ও গ্যাব্রিয়েল অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার, হালান্ডের বিপক্ষে তারা আগেও অনেকবার খেলেছে।”
পরিসংখ্যান অবশ্য ব্রাজিলের পক্ষে নয়। ইতিহাসে নরওয়ের বিপক্ষে চারবার মুখোমুখি হলেও একবারও জিততে পারেনি সেলেসাওরা। দুই ম্যাচে হেরেছে, বাকি দুটি ড্র। তবে এবার নরওয়ের রক্ষণভাগের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে সেই আক্ষেপ ঘোচাতে চায় ব্রাজিল।
আক্রমণে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় ভরসা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। এবারের বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে চার গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করে দলের পাঁচটি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন এই উইঙ্গার। নেইমারের প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে ভিনিসিয়ুসের ফর্মও ব্রাজিলকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে।
অন্যদিকে দুর্দান্ত ছন্দে আছে নরওয়ে। আক্রমণের নেতৃত্বে থাকবেন আর্লিং হালান্ড। ইতোমধ্যে পাঁচ গোল করে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা গোলদাতা তিনি। মাঝমাঠে মার্টিন ওডেগার্ডের তিনটি এবং প্যাট্রিক বার্গের দুটি অ্যাসিস্ট নরওয়ের আক্রমণকে আরও ধারালো করেছে।
নরওয়ের কোচ স্তালে সোলবাকেন বলেন,
“ব্রাজিল অবশ্যই ফেভারিট, তবে কয়েক বছর আগের মতো অপ্রতিরোধ্য নয়। আমরা ভালো ছন্দে আছি। নিজেদের সেরাটা খেলতে পারলে ব্রাজিলকে হারানোর সুযোগ আমাদের আছে।”
১৯৯০ বিশ্বকাপে শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিয়েছিল ব্রাজিল। এরপর আর কোনো বিশ্বকাপে এত তাড়াতাড়ি ছিটকে যেতে হয়নি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে চায় সেলেসাওরা। অন্যদিকে ইতিহাসের ইতিবাচক রেকর্ড ধরে রেখে নতুন আরেকটি চমক দেখানোর স্বপ্ন দেখছে হালান্ডের নরওয়ে।

ডেস্ক রিপোর্ট 

























