ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ইরানি কমান্ডারের খোঁজ দিলেই ১০ মিলিয়ন ডলার দেবে যুক্তরাষ্ট্র খুব শিগগিরই ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য হচ্ছে নীতিমালা দেশে দৈনিক গড় হত্যার শিকার ১০ জন, জনমনে শঙ্কা উত্তর কোরিয়ার বিপরীতে একজোট হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়া এনসিপি নেতারা সুযোগের অভাবে সৎ: রাশেদ খাঁন রাজনীতিতে ত্যাগীরা শ্রমিকের মতো, সুবিধা ভোগ করে এসি রুমে বসে টিভি দেখা সুবিধাবাদীরা: নয়ন সাত বছর পর ৪০০ সদস্য নিয়ে ভারতে যাচ্ছেন শি জিনপিং লোহিত সাগরে সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা স্থানীয় নির্বাচনে এনসিপি এককভাবে অংশ নেবে: সারজিস চট্টগ্রাম ডুবলে হাঁটু পানিতে নেমে মেয়র-এমপিদের নাটক আর দেখতে চাই না: সারজিস

সংবর্ধনা অনুষ্ঠান থেকে বিএনপি নেতাকর্মীরা জুলাই যোদ্ধাদের বের করে দিলেন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:১৪:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ১১৭ বার পড়া হয়েছে

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। সেখানে অতিথি হিসেবেই গিয়েছিলেন জুলাই যোদ্ধা ও ছাত্রনেতারা। কিন্তু অনুষ্ঠানস্থল থেকেই তাদের ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। কী ঘটেছিল শরীয়তপুরে? চলুন জেনে নেওয়া যাক।


বুধবার সকালে শরীয়তপুর পৌরসভা অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ টিপু মাদবরের নেতৃত্বে কয়েকজন নেতাকর্মী জুলাই যোদ্ধা জাকির হোসেন মিন্টু (আদর) এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক ইমরান আল নাজিরকে ধাক্কাধাক্কি করে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দিচ্ছেন।

হামলার শিকার জাকির হোসেন মিন্টুর দাবি, অনুষ্ঠানে প্রবেশের আগেই কিছু ব্যক্তি বলতে থাকেন, ‘শরীয়তপুরে কোনো জুলাই যোদ্ধা নেই, এখানে কোনো আন্দোলন হয়নি।’ পরে তিনি ভেতরে ঢুকতেই তাকে গালাগাল ও মারধর করা হয়। এতে তিনি মাথায় আঘাত পেয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন।

একই অভিযোগ করেন ইমরান আল নাজির। তার ভাষ্য, জেলা প্রশাসকের আমন্ত্রণে একটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়েছিলেন তারা। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী তাদের ওপর হামলা চালিয়ে অনুষ্ঠান থেকে বের করে দেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, পুরো ঘটনাটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনেই ঘটলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত বিএনপি নেতারা। সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ টিপু মাদবর বলেন, তারেক রহমান ও তার পরিবারকে নিয়ে কটূক্তি করায় উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাদের অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেওয়া হয়। তবে মারধরের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।

ঘটনার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তানভির হোসেন এ বিষয়ে ক্যামেরার সামনে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অন্যদিকে জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, অনুষ্ঠান চলাকালে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তার ভাষায়, “হয়তো অনুষ্ঠানের আগে কিছু হয়ে থাকতে পারে। আমরা পুরো অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করেছি। বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে পরে জানানো হবে।”

এ ঘটনাকে ঘিরে শরীয়তপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানি কমান্ডারের খোঁজ দিলেই ১০ মিলিয়ন ডলার দেবে যুক্তরাষ্ট্র

সংবর্ধনা অনুষ্ঠান থেকে বিএনপি নেতাকর্মীরা জুলাই যোদ্ধাদের বের করে দিলেন

আপডেট সময় ০২:১৪:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। সেখানে অতিথি হিসেবেই গিয়েছিলেন জুলাই যোদ্ধা ও ছাত্রনেতারা। কিন্তু অনুষ্ঠানস্থল থেকেই তাদের ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। কী ঘটেছিল শরীয়তপুরে? চলুন জেনে নেওয়া যাক।


বুধবার সকালে শরীয়তপুর পৌরসভা অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ টিপু মাদবরের নেতৃত্বে কয়েকজন নেতাকর্মী জুলাই যোদ্ধা জাকির হোসেন মিন্টু (আদর) এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক ইমরান আল নাজিরকে ধাক্কাধাক্কি করে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দিচ্ছেন।

হামলার শিকার জাকির হোসেন মিন্টুর দাবি, অনুষ্ঠানে প্রবেশের আগেই কিছু ব্যক্তি বলতে থাকেন, ‘শরীয়তপুরে কোনো জুলাই যোদ্ধা নেই, এখানে কোনো আন্দোলন হয়নি।’ পরে তিনি ভেতরে ঢুকতেই তাকে গালাগাল ও মারধর করা হয়। এতে তিনি মাথায় আঘাত পেয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন।

একই অভিযোগ করেন ইমরান আল নাজির। তার ভাষ্য, জেলা প্রশাসকের আমন্ত্রণে একটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়েছিলেন তারা। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী তাদের ওপর হামলা চালিয়ে অনুষ্ঠান থেকে বের করে দেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, পুরো ঘটনাটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনেই ঘটলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত বিএনপি নেতারা। সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ টিপু মাদবর বলেন, তারেক রহমান ও তার পরিবারকে নিয়ে কটূক্তি করায় উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাদের অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেওয়া হয়। তবে মারধরের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।

ঘটনার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তানভির হোসেন এ বিষয়ে ক্যামেরার সামনে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অন্যদিকে জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, অনুষ্ঠান চলাকালে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তার ভাষায়, “হয়তো অনুষ্ঠানের আগে কিছু হয়ে থাকতে পারে। আমরা পুরো অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করেছি। বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে পরে জানানো হবে।”

এ ঘটনাকে ঘিরে শরীয়তপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।