ঢাকা , রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ঘরজামাই দত্তক নিচ্ছে জাপানের ধনী পরিবারগুলো, আবেদন করতে পারবে বাংলাদেশিরাও ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত করার আহ্বান স্পিকারের যুবদল নেতা নয়নের ‘দাড়িওয়ালাদের আস্তানা’ স্লোগানের প্রতিবাদ জামায়াতের পাকিস্তানের ‘স্বৈরাচারীদের’ রুখে দেওয়ার আহ্বান ইমরান খানের ছেলের বাবার কষ্টের দিন শেষ করার স্বপ্ন, নিয়োগের আগেই থামল সোহানের পথ কেউ চাঁদা চাইলে থানায় সোপর্দ করবেন: ধর্মমন্ত্রী এবার মোহাম্মদপুরে জমি দখলের চেষ্টা, অফিসে হামলা-ভাঙচুর নিরাপত্তা জোরদারে সামরিক সরঞ্জাম নিরাপদ স্থানে সরাল ইরান একতরফা সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে চীন, ফিলিস্তিন ইস্যুতে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের জোরালো আহ্বান বর্তমান সরকার যুবকদের লুটতরাজের জন্য দলীয় ক্যাডার বানাচ্ছে: সাবেক শিবির সভাপতি

“মারো না কেন ওদের?”, ফোনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নির্দেশ দেন ওবায়দুল কাদের

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:২০:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৪১ বার পড়া হয়েছে

প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১১ জুলাই ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনানকে সরাসরি ফোন করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নির্দেশ দেন তৎকালীন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কল রেকর্ডটি উপস্থাপন করা হয়। ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত কল রেকর্ড অনুযায়ী, ১১ জুলাই ওবায়দুল কাদের ফোনে তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম হোসেনের কাছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চান। সাদ্দাম জানান, প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৮টায় সংবাদ সম্মেলন করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।

এ সময় ওবায়দুল কাদের বলেন, “মারো না কেন? মারো না কেন ওদের?” জবাবে সাদ্দাম পুলিশি অবস্থানের কথা উল্লেখ করলে কাদের আবার বলেন, “তা মারতেছ না কেন? নিচ থেকে হালকা হয়ে যাবে তো।” কল রেকর্ডে আরও শোনা যায়, সাদ্দাম জানান, তারা রাজনৈতিকভাবে আন্দোলনকারীদের মোকাবিলা করতে চেয়েছিলেন। তবে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশের কারণে তারা শাহবাগ বা আন্দোলনকারীদের অবস্থানের দিকে যেতে পারেননি। 

সাদ্দাম কাদেরকে বলেন, “মানে আমরা তো গিয়ে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে চাই, তাহলে আমরা তো সেটা করতে পারব। স্যার, যে আমাদের নিষেধ করল। শাহবাগের দিকে যেতে তো আমাদেরকে নিষেধ করল। বারবার ফোন দিয়ে বলল যে শাহবাগের দিকে বা অন্য দিকে আমরা যেন না যাই। ওদের মুখোমুখি যেন না হয়, এটাই তো বারবার বলতেছিল স্যার।” তখন ওবায়দুল কাদের জানতে চান, “কে?” জবাবে ইনান বলেন, “আমাদের পুলিশ প্লাস বিপ্লব দা ওনারা বলছিল।” এর জবাবে কাদের বলেন, “বিপ্লব তো এইটা বলার কথা না!”

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়াও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান আসামি। প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, মামলার সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন চলছে। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল–২। পরে গত ২ আগস্ট মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়। এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৮ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ঘরজামাই দত্তক নিচ্ছে জাপানের ধনী পরিবারগুলো, আবেদন করতে পারবে বাংলাদেশিরাও

“মারো না কেন ওদের?”, ফোনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নির্দেশ দেন ওবায়দুল কাদের

আপডেট সময় ১২:২০:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১১ জুলাই ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনানকে সরাসরি ফোন করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নির্দেশ দেন তৎকালীন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কল রেকর্ডটি উপস্থাপন করা হয়। ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত কল রেকর্ড অনুযায়ী, ১১ জুলাই ওবায়দুল কাদের ফোনে তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম হোসেনের কাছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চান। সাদ্দাম জানান, প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৮টায় সংবাদ সম্মেলন করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।

এ সময় ওবায়দুল কাদের বলেন, “মারো না কেন? মারো না কেন ওদের?” জবাবে সাদ্দাম পুলিশি অবস্থানের কথা উল্লেখ করলে কাদের আবার বলেন, “তা মারতেছ না কেন? নিচ থেকে হালকা হয়ে যাবে তো।” কল রেকর্ডে আরও শোনা যায়, সাদ্দাম জানান, তারা রাজনৈতিকভাবে আন্দোলনকারীদের মোকাবিলা করতে চেয়েছিলেন। তবে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশের কারণে তারা শাহবাগ বা আন্দোলনকারীদের অবস্থানের দিকে যেতে পারেননি। 

সাদ্দাম কাদেরকে বলেন, “মানে আমরা তো গিয়ে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে চাই, তাহলে আমরা তো সেটা করতে পারব। স্যার, যে আমাদের নিষেধ করল। শাহবাগের দিকে যেতে তো আমাদেরকে নিষেধ করল। বারবার ফোন দিয়ে বলল যে শাহবাগের দিকে বা অন্য দিকে আমরা যেন না যাই। ওদের মুখোমুখি যেন না হয়, এটাই তো বারবার বলতেছিল স্যার।” তখন ওবায়দুল কাদের জানতে চান, “কে?” জবাবে ইনান বলেন, “আমাদের পুলিশ প্লাস বিপ্লব দা ওনারা বলছিল।” এর জবাবে কাদের বলেন, “বিপ্লব তো এইটা বলার কথা না!”

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়াও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান আসামি। প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, মামলার সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন চলছে। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল–২। পরে গত ২ আগস্ট মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়। এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৮ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন।