ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেশটির কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগরবিষয়ক মন্ত্রী মনোহর লাল। তিনি দাবি করেন, মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের দৈর্ঘ্যে ভারত এখন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে মাত্র ২১৬ কিলোমিটার পিছিয়ে। ২ হাজার ৮৫০ কোটি রুপি ব্যয়ে নির্মিত ইন্দোর মেট্রোরেলের বর্ধিত রুট উদ্বোধনের পর মনোহর লাল বলেন, বর্তমানে চীনে প্রায় ৮ হাজার কিলোমিটার মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক রয়েছে। মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের উপস্থিতিতে ভারতের কেন্দ্রীয় এই মন্ত্রী বলেন, ‘আমার ধারণা, আগামী দুই বছরের মধ্যে আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যাব এবং চীনের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের দেশ হয়ে উঠব।’
মনোহর লাল আরও জানান, ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার সময় ভারতের পাঁচটি শহরে মোট ২৪৫ কিলোমিটার রুটে মেট্রোরেল চলত। বর্তমানে তা বেড়ে ২৬টি শহরে ১ হাজার ১৭০ কিলোমিটারে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, মেট্রোরেল শুধু যাতায়াতের একটি মাধ্যম নয়, এটি মানুষের জীবনযাত্রা আরও সহজ করারও একটি উপায়। ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যের সঙ্গেও মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের বিষয়টি যুক্ত।
অনুষ্ঠানে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব বলেন, ইন্দোরের উন্নয়নে নতুন অধ্যায় শুরু করছে মেট্রোরেল। ভবিষ্যতে এই সেবা উজ্জয়িনী ও আশপাশের অন্যান্য এলাকাতেও সম্প্রসারণ করা হবে। ইন্দোর–মানমাদ রেললাইন নির্মাণে ১৮ হাজার ৫০০ কোটি রুপির প্রকল্প অনুমোদন দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানান তিনি। মোহন যাদব বলেন, এই রেললাইন মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র ও গুজরাটের মধ্যে রেল যোগাযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করবে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইন্দোর মেট্রোরেল এতদিন গান্ধীনগর থেকে সুপার করিডর–৩ স্টেশন পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার পথে বাণিজ্যিকভাবে চলাচল করছিল। এখন গান্ধীনগর থেকে মালভিয়া নগর চৌরাহা পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটার পথে মেট্রোরেল চলবে। বর্ধিত রুটে প্রতিদিন সকাল ৯টায় দুই প্রান্ত থেকেই প্রথম ট্রেন ছেড়ে যাবে। আর দিনের শেষ ট্রেন চলবে সন্ধ্যা ৭টায়। প্রতি ১৫ মিনিট পরপর ট্রেন পাওয়া যাবে এবং প্রতিদিন ৮০টির বেশি ট্রিপ পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। বর্ধিত এই রুটে মোট ১৬টি স্টেশন থাকবে। এর ফলে ইন্দোরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকাগুলোর মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ হবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

ডেস্ক রিপোর্ট 




















