ঢাকা , শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
জিপিএস ব্যবহার ছাড়াই মার্কিন ঘাঁটিতে নিখুঁত হামলা চালান ইরানি পাইলটরা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০০ পরিবারকে নতুন ঘর দেবেন প্রধানমন্ত্রী মেয়েদের আপত্তিকর ছবি তুলে লন্ডনে বয়ফ্রেন্ডের কাছে পাঠাতেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ড. ইউনূসের চেয়ে ‘হাজারগুণ ভালো’ দেশ চালাচ্ছেন তারেক রহমান: কাদের সিদ্দিকী সকাল না হতেই মর্মান্তিক দুই দুর্ঘটনা, ঝরে গেল ১৫ প্রাণ মৃত্যুর পর যদি সন্তানেরা না করে, তাই জীবিত অবস্থায় নিজের চল্লিশার আয়োজন করলেন বৃদ্ধ অন্ধকারে মোজতবা খামেনির সঙ্গে বৈঠক, আসল মানুষ কিনা প্রশ্ন পেজেশকিয়ানের সিঙ্গারার লোভ দেখিয়ে স্কুল শিক্ষার্থীদের মিছিলে নিলেন যুবলীগ নেতা মসজিদের ইমামকে ওমরাহ উপহার, আবেগে ভাসল বিদায়ের মুহূর্ত ইরান যুদ্ধ ‘খুব শিগগির’ শেষ হতে পারে: ট্রাম্প

মেয়েদের আপত্তিকর ছবি তুলে লন্ডনে বয়ফ্রেন্ডের কাছে পাঠাতেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:১৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

এবার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ‘জুলাই ৩৬’ হলের এক আবাসিক ছাত্রীর বিরুদ্ধে অন্তত ১০ জন সহপাঠীর গোপনে আপত্তিকর ছবি তুলে তার এক বন্ধুকে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, অভিযুক্ত ছাত্রী হলের কক্ষের ভেতরে ছাত্রীদের অসতর্ক অবস্থার ছবি তুলে লন্ডনে অবস্থানরত এক যুবককে পাঠাতেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ভুক্তভোগী ছাত্রীদের অভিযোগ, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর সঙ্গে আবিদ নামে এক লন্ডনপ্রবাসীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই যুবককে সন্তুষ্ট করতে তিনি হলের পর্দানশীল ও সাধারণ ছাত্রীদের বিভিন্ন ব্যক্তিগত ও অশালীন ছবি গোপনে সংগ্রহ করে পাঠাতেন। সম্প্রতি ওই যুবকের সঙ্গে অভিযুক্ত ছাত্রীর সম্পর্কের অবনতি হলে প্রতিশোধ নিতে আবিদ ছবিগুলো হলের অন্য ছাত্রীদের মেসেঞ্জারে পাঠিয়ে দেন। এরপরই ভুক্তভোগীরা আবিদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান যে, অভিযুক্ত ছাত্রী এসব ছবি তাকে পাঠাতেন এবং নিষেধ করলেও শুনতেন না।

হলের শিক্ষার্থীরা জানান, আবাসিক হল একটি নিরাপদ জায়গা মনে করে তারা সেখানে স্বাচ্ছন্দ্যমতো পোশাক পরে চলাফেরা করেন। কিন্তু অভিযুক্ত ছাত্রী তাদের ঘুমন্ত অবস্থার, টি-শার্ট পরা বা ওড়না ছাড়া অবস্থার ছবি তুলে বাইরে পাচার করেছেন। এমনকি বোরকা ও নিকাব পরা ছাত্রীদেরও পর্দার আড়ালের ছবি তিনি তুলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীরা তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার চরম লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে অভিযুক্ত ছাত্রী নিজের ভুল স্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, পৈশাচিক কোনো আনন্দ বা উদ্দেশ্য নিয়ে নয় বরং ‘কমনসেন্সের অভাবে’ তিনি এসব ছবি তুলেছেন। তবে আবিদ নামক ওই যুবকের সঙ্গে কথোপকথনের অডিও রেকর্ডে শোনা যায়, ওই ছাত্রী এসব ছবি তুলে বিকৃত আনন্দ পেতেন। আবিদ আরও জানিয়েছেন, এসব ছবি আরও কতজনের কাছে পৌঁছেছে সে সম্পর্কে তার কোনো ধারণা নেই।

ঘটনার বিষয়ে জানতে জুলাই-৩৬ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. শামছুল হক ছিদ্দিকীর সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে আজ শুক্রবার হল প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বিষয়টিকে অত্যন্ত নিন্দনীয় বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পেলেই দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন অনুযায়ী অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ক্যাম্পাসজুড়ে এখন ছাত্রীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সুরক্ষা ও সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার ঝড় বইছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জিপিএস ব্যবহার ছাড়াই মার্কিন ঘাঁটিতে নিখুঁত হামলা চালান ইরানি পাইলটরা

মেয়েদের আপত্তিকর ছবি তুলে লন্ডনে বয়ফ্রেন্ডের কাছে পাঠাতেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী

আপডেট সময় ১১:১৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

এবার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ‘জুলাই ৩৬’ হলের এক আবাসিক ছাত্রীর বিরুদ্ধে অন্তত ১০ জন সহপাঠীর গোপনে আপত্তিকর ছবি তুলে তার এক বন্ধুকে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, অভিযুক্ত ছাত্রী হলের কক্ষের ভেতরে ছাত্রীদের অসতর্ক অবস্থার ছবি তুলে লন্ডনে অবস্থানরত এক যুবককে পাঠাতেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ভুক্তভোগী ছাত্রীদের অভিযোগ, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর সঙ্গে আবিদ নামে এক লন্ডনপ্রবাসীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই যুবককে সন্তুষ্ট করতে তিনি হলের পর্দানশীল ও সাধারণ ছাত্রীদের বিভিন্ন ব্যক্তিগত ও অশালীন ছবি গোপনে সংগ্রহ করে পাঠাতেন। সম্প্রতি ওই যুবকের সঙ্গে অভিযুক্ত ছাত্রীর সম্পর্কের অবনতি হলে প্রতিশোধ নিতে আবিদ ছবিগুলো হলের অন্য ছাত্রীদের মেসেঞ্জারে পাঠিয়ে দেন। এরপরই ভুক্তভোগীরা আবিদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান যে, অভিযুক্ত ছাত্রী এসব ছবি তাকে পাঠাতেন এবং নিষেধ করলেও শুনতেন না।

হলের শিক্ষার্থীরা জানান, আবাসিক হল একটি নিরাপদ জায়গা মনে করে তারা সেখানে স্বাচ্ছন্দ্যমতো পোশাক পরে চলাফেরা করেন। কিন্তু অভিযুক্ত ছাত্রী তাদের ঘুমন্ত অবস্থার, টি-শার্ট পরা বা ওড়না ছাড়া অবস্থার ছবি তুলে বাইরে পাচার করেছেন। এমনকি বোরকা ও নিকাব পরা ছাত্রীদেরও পর্দার আড়ালের ছবি তিনি তুলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীরা তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার চরম লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে অভিযুক্ত ছাত্রী নিজের ভুল স্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, পৈশাচিক কোনো আনন্দ বা উদ্দেশ্য নিয়ে নয় বরং ‘কমনসেন্সের অভাবে’ তিনি এসব ছবি তুলেছেন। তবে আবিদ নামক ওই যুবকের সঙ্গে কথোপকথনের অডিও রেকর্ডে শোনা যায়, ওই ছাত্রী এসব ছবি তুলে বিকৃত আনন্দ পেতেন। আবিদ আরও জানিয়েছেন, এসব ছবি আরও কতজনের কাছে পৌঁছেছে সে সম্পর্কে তার কোনো ধারণা নেই।

ঘটনার বিষয়ে জানতে জুলাই-৩৬ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. শামছুল হক ছিদ্দিকীর সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে আজ শুক্রবার হল প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বিষয়টিকে অত্যন্ত নিন্দনীয় বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পেলেই দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন অনুযায়ী অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ক্যাম্পাসজুড়ে এখন ছাত্রীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সুরক্ষা ও সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার ঝড় বইছে।