বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর (বিএএফ) আধুনিকীকরণ ও জাতীয় আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারে বড় পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে চীনের তৈরি ২০টি জে-১০ সিই মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২২০ কোটি মার্কিন ডলার—বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৭ হাজার ৬০ কোটি টাকা।

সরকারি নথি অনুযায়ী, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে ২০২৭ সালের মধ্যে। বিমান কেনা, প্রশিক্ষণ, যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে পুরো অর্থ ১০ বছরের কিস্তিতে (২০৩৫-৩৬ অর্থবছর পর্যন্ত) পরিশোধ করা হবে।

জে-১০ সিই: চীনের রপ্তানি সংস্করণ

জে-১০ সিই হলো চীনা বিমানবাহিনীর ব্যবহৃত জে-১০সি মডেলের রপ্তানি সংস্করণ, যা ৪.৫ প্রজন্মের মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট। এটি আকাশে থেকে আকাশ ও আকাশ থেকে স্থল—দুই ধরনের যুদ্ধেই সমান সক্ষম।
গত মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে সংঘাত চলাকালে পাকিস্তান দাবি করেছিল, তাদের জে-১০ সিই ভারতের একটি রাফায়েল জেট ভূপাতিত করেছে। যদিও তা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, এরপর থেকেই এই যুদ্ধবিমান আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় আসে।

চুক্তির কাঠামো ও ব্যয়ের বিবরণ

প্রতিটি জে-১০ সিই জেটের আনুমানিক মূল্য: ৬ কোটি ডলার (প্রায় ৭৩০ কোটি টাকা)

২০টি জেটের মোট মূল্য: ১২০ কোটি ডলার (১৪,৬০০ কোটি টাকা)

প্রশিক্ষণ, যন্ত্রপাতি, ফ্রেইট ও আনুষঙ্গিক খরচ: ৮২ কোটি ডলার

বিমা, ভ্যাট, কমিশন ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ মোট ব্যয়: ২২০ কোটি ডলার

চুক্তি হবে সরকার-টু-সরকার (G2G) ভিত্তিতে

এই ক্রয় কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে চীনের সঙ্গে সরাসরি সরকার-টু-সরকার (G2G) চুক্তির মাধ্যমে। এজন্য গঠিত ১১ সদস্যের আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন বিমানবাহিনীর প্রধান। কমিটি খসড়া চুক্তিপত্র যাচাই, মূল্য নির্ধারণ, পরিশোধের শর্ত, প্রশিক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা চূড়ান্ত করবে।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মার্চের চীন সফরে এই যুদ্ধবিমান ক্রয় নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়। চীনা কর্তৃপক্ষ তাতে ইতিবাচক সাড়া দেয়, এবং পরবর্তীতে এপ্রিল মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে কমিটি গঠন করা হয়।