ঢাকা , রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বাড্ডায় বাসা থেকে ঢাবি ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার, চিরকুটে লেখা শিক্ষকের নাম গত ৩ বছরে ৪০০ পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে: বিজিএমইএ আবার আগ্রাসন হলে ‘প্রত্যাশার চেয়ে ভয়াবহ’ পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের খাগড়াছড়িতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ‘নতুন কমিটির’ সব নেতার নামে মামলা ফজরের নামাজ পড়েই কৃষকের ধান কাটতে নামেন এমপি এনামুল ‘সংবিধানের কোথায় লেখা আছে জয় বাংলা বলা যাবে না’ এবার অবিবাহিতদের প্রেমের আগ্রহ বাড়াতে টাকা দিচ্ছে জাপান সরকার! এক প্লেট চটপটি, পেটে ঢুকছে ৭ কোটি মলমূত্রের জীবাণু!: গবেষণা ‘সিলটি’ ভাষাকে দেশের দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা করার দাবি বাংলাদেশের পতাকাবাহী সব জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হতে পারবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ঢাবি ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম: “শিক্ষাব্যবস্থা এখনো ঔপনিবেশিক ছাঁচে চলছে, নৈতিক শিক্ষার অভাবেই জন্ম নিচ্ছে দুর্নীতিবাজ প্রজন্ম”

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৭:৫৯:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫
  • ২৫৭ বার পড়া হয়েছে

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) সাদিক কায়েম বলেছেন, দেশের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা এখনো ব্রিটিশ ও ভারতীয় প্রেসক্রিপশনে তৈরি শিক্ষা কমিশনের নকশা অনুসারে চলছে। এর ফলে সৎ, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক নাগরিকের পরিবর্তে সমাজে জন্ম নিচ্ছে অসৎ ও অনৈতিক মানুষ। তিনি মনে করেন, মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থাতেও মৌলিক পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটোরিয়ামে ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সাদিক কায়েম বলেন, “দেশে এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নৈতিকতা সম্পন্ন মানুষের। খুনি হাসিনার সময় আমরা দেখেছি, উচ্চ পর্যায়ের অধিকাংশ ব্যক্তিই দুর্নীতিবাজ ও অনৈতিক ছিলেন। তারা দেশপ্রেমিক হতে পারেন না। ছাত্রশিবির এমন নৈতিক ও মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরিতে কাজ করছে। শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারকে শিবির তাদের প্রধান পাঁচটি কর্মসূচির একটি হিসেবে দেখছে এবং এ বিষয়ে ইতোমধ্যে ৩০ দফা দাবি পেশ করেছে।”

নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “আমাদের দেশের উর্বর মাটি থাকা সত্ত্বেও কৃষিক্ষেত্রে উন্নতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে। কৃষি শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানে গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় জরুরি। শিক্ষার্থীরা যেন ‘কি’ নয়, ‘কেন’ প্রশ্ন করতে শেখে— সেই পদ্ধতিতে শিক্ষা সংস্কার প্রয়োজন।”

ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক সাদিক কায়েম আরও বলেন, “জুলাই আন্দোলনসহ অতীতে সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত ছাত্রসংগঠন ছিল ইসলামী ছাত্রশিবির। এখনো সাতজন সদস্য গুম অবস্থায় আছেন। খুনি হাসিনার পতনের পর শিক্ষার্থীরা সেই নির্যাতন থেকে মুক্তি পেয়েছে।”

তিনি বলেন, “জুলাই বিপ্লবের এক বছর পেরিয়ে গেলেও স্বৈরাচারের দোসররা এখনো সক্রিয়। বর্তমান সরকারের দায়িত্ব ছিল সেই স্বৈরাচারের বিচার করা, কিন্তু তারা তা করতে পারেনি। ঐকমত্য কমিশনে বিএনপির ‘নোট অব ডিসেন্ট’ জুলাই শহীদদের সঙ্গে প্রতারণা ছাড়া কিছু নয়।”

শেষে তিনি বলেন, “আমরা বিপ্লবীদের আত্মত্যাগের মাধ্যমেই নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। খুনি হাসিনার বিচার ও ফ্যাসিবাদের দোসরদের দমন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম চলবে। পাশাপাশি বিশ্বের মজলুম জনগণের মুক্তির আন্দোলনেও ঢাকা থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে।”

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বাড্ডায় বাসা থেকে ঢাবি ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার, চিরকুটে লেখা শিক্ষকের নাম

ঢাবি ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম: “শিক্ষাব্যবস্থা এখনো ঔপনিবেশিক ছাঁচে চলছে, নৈতিক শিক্ষার অভাবেই জন্ম নিচ্ছে দুর্নীতিবাজ প্রজন্ম”

আপডেট সময় ০৭:৫৯:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) সাদিক কায়েম বলেছেন, দেশের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা এখনো ব্রিটিশ ও ভারতীয় প্রেসক্রিপশনে তৈরি শিক্ষা কমিশনের নকশা অনুসারে চলছে। এর ফলে সৎ, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক নাগরিকের পরিবর্তে সমাজে জন্ম নিচ্ছে অসৎ ও অনৈতিক মানুষ। তিনি মনে করেন, মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থাতেও মৌলিক পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটোরিয়ামে ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সাদিক কায়েম বলেন, “দেশে এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নৈতিকতা সম্পন্ন মানুষের। খুনি হাসিনার সময় আমরা দেখেছি, উচ্চ পর্যায়ের অধিকাংশ ব্যক্তিই দুর্নীতিবাজ ও অনৈতিক ছিলেন। তারা দেশপ্রেমিক হতে পারেন না। ছাত্রশিবির এমন নৈতিক ও মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরিতে কাজ করছে। শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারকে শিবির তাদের প্রধান পাঁচটি কর্মসূচির একটি হিসেবে দেখছে এবং এ বিষয়ে ইতোমধ্যে ৩০ দফা দাবি পেশ করেছে।”

নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “আমাদের দেশের উর্বর মাটি থাকা সত্ত্বেও কৃষিক্ষেত্রে উন্নতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে। কৃষি শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানে গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় জরুরি। শিক্ষার্থীরা যেন ‘কি’ নয়, ‘কেন’ প্রশ্ন করতে শেখে— সেই পদ্ধতিতে শিক্ষা সংস্কার প্রয়োজন।”

ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক সাদিক কায়েম আরও বলেন, “জুলাই আন্দোলনসহ অতীতে সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত ছাত্রসংগঠন ছিল ইসলামী ছাত্রশিবির। এখনো সাতজন সদস্য গুম অবস্থায় আছেন। খুনি হাসিনার পতনের পর শিক্ষার্থীরা সেই নির্যাতন থেকে মুক্তি পেয়েছে।”

তিনি বলেন, “জুলাই বিপ্লবের এক বছর পেরিয়ে গেলেও স্বৈরাচারের দোসররা এখনো সক্রিয়। বর্তমান সরকারের দায়িত্ব ছিল সেই স্বৈরাচারের বিচার করা, কিন্তু তারা তা করতে পারেনি। ঐকমত্য কমিশনে বিএনপির ‘নোট অব ডিসেন্ট’ জুলাই শহীদদের সঙ্গে প্রতারণা ছাড়া কিছু নয়।”

শেষে তিনি বলেন, “আমরা বিপ্লবীদের আত্মত্যাগের মাধ্যমেই নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। খুনি হাসিনার বিচার ও ফ্যাসিবাদের দোসরদের দমন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম চলবে। পাশাপাশি বিশ্বের মজলুম জনগণের মুক্তির আন্দোলনেও ঢাকা থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে।”