ঢাকা , বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনে সুযোগ পেলে বাকি জীবন দিয়ে মানুষের ঋণ পরিশোধ করব: নাহিদ ইসলাম

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৫:২৮:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪৫ বার পড়া হয়েছে

এবার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা১১ আসনের ১১দলীয় জোটের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ঢাকা১১ আসন আমাকে নিরাপত্তা দিয়েছে। এখন আমি এই এলাকার মানুষের প্রতি সেই ঋণ শোধ করতে চাই। আসন্ন নির্বাচনে যদি সুযোগ পাই, ইনশাআল্লাহ বাকি জীবন দিয়ে দেশের এবং এই মাটির মানুষের ঋণ পরিশোধ করব।

তিনি বলেন, আমি আজকে আপনাদের সামনে কোনো তাত্ত্বিক বক্তব্য দিতে আসিনি। এই এলাকার সন্তান হিসেবে, এই এলাকার একজন প্রার্থী হিসেবে দুএকটি কথা বলতে চাই। আমার জন্ম ঢাকার বেরাইদ সংলগ্ন ফকিরখালি গ্রামে। আমি এই এলাকার সন্তান। এই বাড্ডারামপুরাতেই হেসেখেলে আমার বড় হওয়া; আমার শৈশব ও কৈশোর কেটেছে এই এলাকার মাটি ও ধুলোর সঙ্গে মিশে। এই অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বৈষম্যের শিকার।

তিনি আরও বলেন, ঢাকার এত কাছে হওয়া সত্ত্বেও এই এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নানা অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার। আপনি বাড্ডা বা সাঁতারকুলের ভেতরের দিকে গেলে কখনো কখনো মনে হবেএটা যেন ঢাকা নয়, বরং মফস্বলের কোনো এলাকা। আমরা এই অবহেলা, বঞ্চনা আর নানা অসুবিধার মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করছি। কিন্তু জুলাই গণঅভ্যুত্থানে এই বাড্ডারামপুরা হয়ে উঠেছিল আন্দোলন ও প্রতিরোধের অন্যতম হটস্পট। এই বাড্ডা রোডে, রামপুরা ব্রিজে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, মাদরাসার ছাত্র এবং এলাকাবাসীর সম্মিলিত প্রতিরোধে ফ্যাসিস্টরা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ও ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ছাত্রছাত্রীরা সম্মিলিতভাবে জনগণের পক্ষে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলে গণঅভ্যুত্থানকে ত্বরান্বিত করেছিল। এই অঞ্চলের মানুষ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে বঞ্চিত হলেও যখনই সুযোগ এসেছে, তারা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। জুলাই বিপ্লবে আমাদের বহু মানুষ জীবন দিয়েছেন, অনেকে আহত হয়েছেন। ১৯৭১ সালের ইতিহাসেও আমরা দেখবএই বাড্ডা, বেরাইদ এলাকায় মুক্তিযোদ্ধারা অবস্থান নিতেন। তারা নৌকা দিয়ে এসে অপারেশন করে আবার নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতেন।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আমিও এই এলাকার বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নিয়েছিলাম। এই ঢাকা১১ আসন আমাকে নিরাপত্তা দিয়েছে। আমার জীবনের গত ২৮টি বছর এই মাটি আমাকে আগলে রেখেছে। এখন আমি এই এলাকার মানুষের প্রতি আমার সেই ঋণ শোধ করতে চাই। আপনারা যদি আমাকে আসন্ন নির্বাচনে সেই সুযোগ দেন, ইনশাআল্লাহ আমি আমার বাকি জীবন দিয়ে দেশের এবং এই মাটির মানুষের ঋণ পরিশোধ করব। এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি আরও বলেন, এই অঞ্চলের নাগরিক সুবিধা আমরা নিশ্চিত করব। যেসব মানুষ ভূমি হারিয়েছে, তাদের ভূমি আমরা ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করব। নতুবা তাদের আমরা ন্যায্য মূল্য পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করব। এই ভূমিদস্যুদের সিন্ডিকেট ঢাকা১১ থেকে আমরা চিরতরে নির্মূল করব।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচনে সুযোগ পেলে বাকি জীবন দিয়ে মানুষের ঋণ পরিশোধ করব: নাহিদ ইসলাম

আপডেট সময় ০৫:২৮:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

এবার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা১১ আসনের ১১দলীয় জোটের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ঢাকা১১ আসন আমাকে নিরাপত্তা দিয়েছে। এখন আমি এই এলাকার মানুষের প্রতি সেই ঋণ শোধ করতে চাই। আসন্ন নির্বাচনে যদি সুযোগ পাই, ইনশাআল্লাহ বাকি জীবন দিয়ে দেশের এবং এই মাটির মানুষের ঋণ পরিশোধ করব।

তিনি বলেন, আমি আজকে আপনাদের সামনে কোনো তাত্ত্বিক বক্তব্য দিতে আসিনি। এই এলাকার সন্তান হিসেবে, এই এলাকার একজন প্রার্থী হিসেবে দুএকটি কথা বলতে চাই। আমার জন্ম ঢাকার বেরাইদ সংলগ্ন ফকিরখালি গ্রামে। আমি এই এলাকার সন্তান। এই বাড্ডারামপুরাতেই হেসেখেলে আমার বড় হওয়া; আমার শৈশব ও কৈশোর কেটেছে এই এলাকার মাটি ও ধুলোর সঙ্গে মিশে। এই অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বৈষম্যের শিকার।

তিনি আরও বলেন, ঢাকার এত কাছে হওয়া সত্ত্বেও এই এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নানা অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার। আপনি বাড্ডা বা সাঁতারকুলের ভেতরের দিকে গেলে কখনো কখনো মনে হবেএটা যেন ঢাকা নয়, বরং মফস্বলের কোনো এলাকা। আমরা এই অবহেলা, বঞ্চনা আর নানা অসুবিধার মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করছি। কিন্তু জুলাই গণঅভ্যুত্থানে এই বাড্ডারামপুরা হয়ে উঠেছিল আন্দোলন ও প্রতিরোধের অন্যতম হটস্পট। এই বাড্ডা রোডে, রামপুরা ব্রিজে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, মাদরাসার ছাত্র এবং এলাকাবাসীর সম্মিলিত প্রতিরোধে ফ্যাসিস্টরা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ও ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ছাত্রছাত্রীরা সম্মিলিতভাবে জনগণের পক্ষে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলে গণঅভ্যুত্থানকে ত্বরান্বিত করেছিল। এই অঞ্চলের মানুষ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে বঞ্চিত হলেও যখনই সুযোগ এসেছে, তারা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। জুলাই বিপ্লবে আমাদের বহু মানুষ জীবন দিয়েছেন, অনেকে আহত হয়েছেন। ১৯৭১ সালের ইতিহাসেও আমরা দেখবএই বাড্ডা, বেরাইদ এলাকায় মুক্তিযোদ্ধারা অবস্থান নিতেন। তারা নৌকা দিয়ে এসে অপারেশন করে আবার নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতেন।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আমিও এই এলাকার বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নিয়েছিলাম। এই ঢাকা১১ আসন আমাকে নিরাপত্তা দিয়েছে। আমার জীবনের গত ২৮টি বছর এই মাটি আমাকে আগলে রেখেছে। এখন আমি এই এলাকার মানুষের প্রতি আমার সেই ঋণ শোধ করতে চাই। আপনারা যদি আমাকে আসন্ন নির্বাচনে সেই সুযোগ দেন, ইনশাআল্লাহ আমি আমার বাকি জীবন দিয়ে দেশের এবং এই মাটির মানুষের ঋণ পরিশোধ করব। এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি আরও বলেন, এই অঞ্চলের নাগরিক সুবিধা আমরা নিশ্চিত করব। যেসব মানুষ ভূমি হারিয়েছে, তাদের ভূমি আমরা ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করব। নতুবা তাদের আমরা ন্যায্য মূল্য পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করব। এই ভূমিদস্যুদের সিন্ডিকেট ঢাকা১১ থেকে আমরা চিরতরে নির্মূল করব।