ঢাকা , রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দ্বিতীয় বিয়ে করতে গিয়ে আটক ছাত্রদল নেতা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:২৯:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

প্রথম স্ত্রীর তথ্য গোপন রেখে দ্বিতীয় বিয়ে করতে গিয়ে বিয়ের মঞ্চেই বিপাকে পড়েছেন সাব্বির আহমেদ সাদান (২৮) নামের এক ছাত্রদল নেতা। কনের পরিবার তার প্রথম স্ত্রীর কথা জানতে পেরে তাকে ও বরযাত্রীদের আটকে রাখেন। দীর্ঘ আলোচনা-সমঝোতার পর পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা দিয়ে মুক্তি পান তারা। তবে ঘটনার পর দিন প্রথম স্ত্রীর বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে সাদান ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে।

 

ঘটনাটি ঘটেছে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায়। সাব্বির আহমেদ সাদান মদন উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়নের বাঘমারা গ্রামের আসাদুজ্জামান আজাদের ছেলে। তিনি তিয়শ্রী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি। তার বাবা উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি।

 

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে একই গ্রামের তরুণী আইমনা আক্তারকে গোপনে বিয়ে করেন সাব্বির আহমেদ সাদান। এরপর দীর্ঘদিন তারা গোপনে সংসার করেন। কিন্তু বিষয়টি পরিবারের অনেকের কাছেই অজানা ছিল। সম্প্রতি প্রথম বিয়ের বিষয়টি গোপন রেখে পাশের কেন্দুয়া উপজেলার পাইকুরা ইউনিয়নের কৃষক দল নেতা শাহজাহান মিয়ার কলেজপড়ুয়া মেয়েকে বিয়ে করতে যান সাদান।

 

শুক্রবার (১২ জুন) বরযাত্রী নিয়ে কনের বাড়িতে পৌঁছান সাদান। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগেই প্রথম স্ত্রী আইমনা আক্তার ফোন করে কনের বাবা শাহজাহান মিয়াকে তাদের বৈবাহিক সম্পর্কের কথা জানান। খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই কনেপক্ষ ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে বর ও বরযাত্রীদের আটকে রাখে কনেপক্ষ।

 

স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা বৈঠক ও আলোচনা শেষে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা আদায়ের মাধ্যমে বরযাত্রীদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

 

এদিকে শনিবার (১৩ জুন) সকালে প্রথম স্ত্রী আইমনা আক্তারের বাড়িতে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠে সাদানের সমর্থকদের বিরুদ্ধে। হামলায় আইমনার বড় বোন সুমনা আক্তার আহত হন। পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠলে আইমনার পরিবারের সদস্যরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

 

কনের বাবা ও পাইকুরা ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি শাহজাহান মিয়া বলেন, ছেলে আগে বিয়ে করেছে, বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। সব জেনে-শুনে একজন বিবাহিত ছেলের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দিতে পারি না।

 

সাব্বির আহমেদ সাদানের বাবা ও মদন উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আসাদুজ্জামান আজাদ বলেন, আমার ছেলে আগে একটি বিয়ে করেছে, সেটি আমার জানা ছিল না। আগে জানলে তো আর কেন্দুয়া গিয়ে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা দিতে হতো না।

 

মদন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অসীম কুসার দাস বলেন, ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বিয়েসংক্রান্ত ঘটনায় এক নারীকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

দ্বিতীয় বিয়ে করতে গিয়ে আটক ছাত্রদল নেতা

আপডেট সময় ১১:২৯:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

প্রথম স্ত্রীর তথ্য গোপন রেখে দ্বিতীয় বিয়ে করতে গিয়ে বিয়ের মঞ্চেই বিপাকে পড়েছেন সাব্বির আহমেদ সাদান (২৮) নামের এক ছাত্রদল নেতা। কনের পরিবার তার প্রথম স্ত্রীর কথা জানতে পেরে তাকে ও বরযাত্রীদের আটকে রাখেন। দীর্ঘ আলোচনা-সমঝোতার পর পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা দিয়ে মুক্তি পান তারা। তবে ঘটনার পর দিন প্রথম স্ত্রীর বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে সাদান ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে।

 

ঘটনাটি ঘটেছে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায়। সাব্বির আহমেদ সাদান মদন উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়নের বাঘমারা গ্রামের আসাদুজ্জামান আজাদের ছেলে। তিনি তিয়শ্রী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি। তার বাবা উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি।

 

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে একই গ্রামের তরুণী আইমনা আক্তারকে গোপনে বিয়ে করেন সাব্বির আহমেদ সাদান। এরপর দীর্ঘদিন তারা গোপনে সংসার করেন। কিন্তু বিষয়টি পরিবারের অনেকের কাছেই অজানা ছিল। সম্প্রতি প্রথম বিয়ের বিষয়টি গোপন রেখে পাশের কেন্দুয়া উপজেলার পাইকুরা ইউনিয়নের কৃষক দল নেতা শাহজাহান মিয়ার কলেজপড়ুয়া মেয়েকে বিয়ে করতে যান সাদান।

 

শুক্রবার (১২ জুন) বরযাত্রী নিয়ে কনের বাড়িতে পৌঁছান সাদান। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগেই প্রথম স্ত্রী আইমনা আক্তার ফোন করে কনের বাবা শাহজাহান মিয়াকে তাদের বৈবাহিক সম্পর্কের কথা জানান। খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই কনেপক্ষ ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে বর ও বরযাত্রীদের আটকে রাখে কনেপক্ষ।

 

স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা বৈঠক ও আলোচনা শেষে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা আদায়ের মাধ্যমে বরযাত্রীদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

 

এদিকে শনিবার (১৩ জুন) সকালে প্রথম স্ত্রী আইমনা আক্তারের বাড়িতে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠে সাদানের সমর্থকদের বিরুদ্ধে। হামলায় আইমনার বড় বোন সুমনা আক্তার আহত হন। পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠলে আইমনার পরিবারের সদস্যরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

 

কনের বাবা ও পাইকুরা ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি শাহজাহান মিয়া বলেন, ছেলে আগে বিয়ে করেছে, বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। সব জেনে-শুনে একজন বিবাহিত ছেলের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দিতে পারি না।

 

সাব্বির আহমেদ সাদানের বাবা ও মদন উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আসাদুজ্জামান আজাদ বলেন, আমার ছেলে আগে একটি বিয়ে করেছে, সেটি আমার জানা ছিল না। আগে জানলে তো আর কেন্দুয়া গিয়ে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা দিতে হতো না।

 

মদন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অসীম কুসার দাস বলেন, ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বিয়েসংক্রান্ত ঘটনায় এক নারীকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।