যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শান্তি চুক্তির অংশীদার বা পক্ষ হবে না ইসরায়েল। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের অবসানে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য চুক্তি সইয়ের আগে ওই মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।
শনিবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, তেহরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান সীমিত করার আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটন। এই মার্কিন আহ্বানকে কেন্দ্র করে গত কয়েক সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর বিরোধ তৈরি হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, এই চুক্তি লেবানন যুদ্ধের অবসান ঘটাবে। চুক্তির ফলে দখলকৃত এলাকা থেকে ইসরায়েলি সৈন্য প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
তবে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, ফিলিস্তিনি ও লেবাননের ভূখণ্ড থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করা হবে না। ইসরায়েলের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা বলেছেন, ইসরায়েল যেকোনও হুমকির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে নিজের স্বাধীনতা বজায় রাখবে বলে আশা করছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈরিতার অবসান ঘটাতে সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারক রোববার সই হবে না বলে জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শনিবার দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমের খবরে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ-যুক্তরাষ্ট্র ইরানের মধ্যে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে বলে জানান। এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘাঈ বলেছেন, চুক্তি সইয়ের সুনির্দিষ্ট সময়ের জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে এবং দেখতে হবে। তবে এটি আগামীকাল (রোববার) হচ্ছে না।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চুক্তিটি চূড়ান্ত করতে পারে বলে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান জানানোর পরপরই ইসমাঈল বলেছেন, আগামী দিনগুলোতে এটি হওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দেওয়া যায় না।
একই দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেন, পাকিস্তান এখন আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সম্ভাব্য একটি ইলেকট্রনিক স্বাক্ষর (ই-স্বাক্ষর) অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর পর আগামী সপ্তাহে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
‘‘আমরা একটি শান্তি চুক্তির ইতিহাসের সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছি।’’
তিনি বলেছেন, ‘‘আলোচনা চলাকালীন ধারাবাহিক অঙ্গীকার বজায় রাখার জন্য আমরা যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। সেই সঙ্গে আমাদের পাশে থাকার জন্য এই অঞ্চলের ভাইদের প্রতি আমরা আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’’
সূত্র: রয়টার্স, এএফপি।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















