ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::

তরমুজে ইঁদুর মারার বিষেই মৃত্যু হয় একই পরিবারের সেই ৪ জনের

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:০৫:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
  • ১৩৮ বার পড়া হয়েছে

এবার ভারতের মুম্বাইয়ের একই পরিবারের চার সদস্যের রহস্যজনক মৃত্যুর পর ধারণা করা হয়েছিল, তরমুজ খাওয়ার পর খাদ্যে বিষক্রিয়ায় তাদের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু ফরেনসিক পরীক্ষার পর জানা গেছে, খাদ্যে বিষক্রিয়া নয়, বরং তরমুজে থাকা ইঁদুর মারার বিষের কারণে প্রাণ গেছে তাদের।  নিহতদের দেহ এবং তারা যে ফল খেয়েছিলেন তার নমুনায় ইঁদুর মারার বিষ হিসেবে ব্যবহৃত একটি বিষাক্ত পদার্থের উপস্থিতি পেয়েছে কর্তৃপক্ষ। ময়নাতদন্তে তাদের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গে সবুজাভ আভা দেখা যাওয়ার কয়েকদিন পর এই মামলায় বড় ধরনের মোড় আসে, যা বিষক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

আবদুল্লাহ দোখাদিয়া, তার স্ত্রী নাসরিন এবং তাদের সন্তান ১৩ বছর বয়সী জয়নাব ও ১৬ বছর বয়সী আয়েশা মুম্বাইয়ের বাড়িতে আত্মীয়দের জন্য নৈশভোজের আয়োজন করেছিলেন। সেখানে তারা মাটন পোলাও পরিবেশন করেছিলেন। আত্মীয়রা চলে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর রাত ১টার দিকে পরিবারটি তরমুজ খায়। ভোর ৫টার মধ্যে তাদের সবার তীব্র বমি ও ডায়রিয়া শুরু হয় এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তারা মারা যান।

ফরেনসিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, চারজনই প্রাণঘাতী রোডেনটিসাইডের কারণে মারা গেছেন। চিকিৎসকরা তাদের দেহে জিঙ্ক ফসফাইটের উপস্থিতি পেয়েছেন, যা ইঁদুর মারার বিষে ব্যবহৃত একটি বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ। পরিবারটি যে তরমুজ খেয়েছিল তার নমুনাতেও জিঙ্ক ফসফাইট পাওয়া গেছে।

তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, রাসায়নিকটি দুর্ঘটনাবশত ফলে মিশে গিয়েছিল নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে এতে প্রবেশ করানো হয়েছিল। এ ঘটনায় পুলিশ একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছে। সেদিন রাতে দোখাদিয়া পরিবারের অতিথিদের বক্তব্য রেকর্ড করেছে। অতিথিরাও পোলাও খেয়েছিলেন, তবে তারা সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন। সূত্র: এনডিটিভি

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদকবিরোধী কমিটির উপদেষ্টার রক্ত দিয়ে গোসল করার হুমকি বিএনপি নেতার

তরমুজে ইঁদুর মারার বিষেই মৃত্যু হয় একই পরিবারের সেই ৪ জনের

আপডেট সময় ০৩:০৫:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

এবার ভারতের মুম্বাইয়ের একই পরিবারের চার সদস্যের রহস্যজনক মৃত্যুর পর ধারণা করা হয়েছিল, তরমুজ খাওয়ার পর খাদ্যে বিষক্রিয়ায় তাদের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু ফরেনসিক পরীক্ষার পর জানা গেছে, খাদ্যে বিষক্রিয়া নয়, বরং তরমুজে থাকা ইঁদুর মারার বিষের কারণে প্রাণ গেছে তাদের।  নিহতদের দেহ এবং তারা যে ফল খেয়েছিলেন তার নমুনায় ইঁদুর মারার বিষ হিসেবে ব্যবহৃত একটি বিষাক্ত পদার্থের উপস্থিতি পেয়েছে কর্তৃপক্ষ। ময়নাতদন্তে তাদের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গে সবুজাভ আভা দেখা যাওয়ার কয়েকদিন পর এই মামলায় বড় ধরনের মোড় আসে, যা বিষক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

আবদুল্লাহ দোখাদিয়া, তার স্ত্রী নাসরিন এবং তাদের সন্তান ১৩ বছর বয়সী জয়নাব ও ১৬ বছর বয়সী আয়েশা মুম্বাইয়ের বাড়িতে আত্মীয়দের জন্য নৈশভোজের আয়োজন করেছিলেন। সেখানে তারা মাটন পোলাও পরিবেশন করেছিলেন। আত্মীয়রা চলে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর রাত ১টার দিকে পরিবারটি তরমুজ খায়। ভোর ৫টার মধ্যে তাদের সবার তীব্র বমি ও ডায়রিয়া শুরু হয় এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তারা মারা যান।

ফরেনসিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, চারজনই প্রাণঘাতী রোডেনটিসাইডের কারণে মারা গেছেন। চিকিৎসকরা তাদের দেহে জিঙ্ক ফসফাইটের উপস্থিতি পেয়েছেন, যা ইঁদুর মারার বিষে ব্যবহৃত একটি বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ। পরিবারটি যে তরমুজ খেয়েছিল তার নমুনাতেও জিঙ্ক ফসফাইট পাওয়া গেছে।

তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, রাসায়নিকটি দুর্ঘটনাবশত ফলে মিশে গিয়েছিল নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে এতে প্রবেশ করানো হয়েছিল। এ ঘটনায় পুলিশ একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছে। সেদিন রাতে দোখাদিয়া পরিবারের অতিথিদের বক্তব্য রেকর্ড করেছে। অতিথিরাও পোলাও খেয়েছিলেন, তবে তারা সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন। সূত্র: এনডিটিভি