ঢাকা , রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ইরান শক্তিশালী ও অহংকারী, তাই চুক্তিতে পৌঁছানো কঠিন হচ্ছে: ট্রাম্প মদ বিক্রির টাকা থেকে পার্টি ফান্ড সংগ্রহ রুখে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় দুপুরের মধ্যে ঢাকাসহ দেশের ১৭ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা মুক্তিযুদ্ধের সময় থাকলে আমি মানুষের পক্ষে থাকতাম, জুলাইতেও মানুষের পক্ষেই ছিলাম: ফারুকী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ সীমান্ত হত্যা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ‘জাতির জন্য লজ্জার’: নাহিদ ইসলাম খেলা শুরুর আগেই বিজয়ী বেছে নিল হাতি-জিরাফ-গরিলারা রাশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আজ শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ঘোষণা হন্ডুরাসকে ২-০ গোলে হারালো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা

এপ্রিলে নির্বাচন প্রসঙ্গে রিজভীর প্রশ্ন: “কোন সুতার টানে ড. ইউনূস এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন?”

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৮:২১:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ জুন ২০২৫
  • ৩৪৩ বার পড়া হয়েছে

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষ থেকে আগামী এপ্রিল মাসে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তার মতে, “দু-একজন লোক বা রাজনৈতিক দলের কথায়” প্রধান উপদেষ্টা এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, যা জনগণ অর্বাচীনের মতো কাজ হিসেবে বিবেচনা করছে।

রবিবার (৮ জুন) রাজধানীতে জাতীয়তাবাদী ভ্যান শ্রমিক ও রিকশা শ্রমিক দলের আয়োজনে ঈদ উপলক্ষে খাবার বিতরণকালে এসব কথা বলেন রিজভী।

তিনি বলেন, “এপ্রিলে প্রচণ্ড খরতাপ, ঝড়-বৃষ্টি ও পরীক্ষার মৌসুম থাকে। তাছাড়া তখন রমজানের পরপরই ঈদ অনুষ্ঠিত হবে। এমন সময়ে নির্বাচন আয়োজন মানে রোজা রেখে জনগণকে প্রচারণায় নামতে বাধ্য করা—যা একেবারেই অযৌক্তিক।”

রিজভী আরও বলেন, “কোন সুতার টানে, কার পরামর্শে ড. ইউনূস এপ্রিলে নির্বাচন বলছেন? তিনি কেন নির্বাচন নিয়ে টানাহেঁচড়া করছেন?”

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ইঙ্গিত করে তিনি মন্তব্য করেন, “গণতন্ত্র আর সংস্কারকে মুখোমুখি করেছে এই সরকার। তারা ক্ষমতায় এলেই চিরস্থায়ী হওয়ার স্বপ্ন দেখে। অন্তর্বর্তী সরকারের শরীরেও সেই বঙ্কিম বাতাস লাগছে কি না, জনগণের মধ্যে এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।”

বিএনপির এই নেতা বলেন, “গত ১৫-১৬ বছর ধরে এদেশের মানুষ সঠিকভাবে ভোট দিতে পারেনি। আওয়ামী লীগ দিনের ভোট রাতে দিয়েছে। অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনের ইতিহাসকে পদদলিত করেছে।”

তিনি আরও বলেন, “গণতন্ত্রের প্রধান মাধ্যম হলো নির্বাচন। অধিকাংশ মানুষের সমর্থন যাকে থাকবে, সেই হবে বিজয়ী। আর সেই নির্বাচন আদায়ের জন্যই আমাদের অনেক নেতাকর্মী গুম, খুন ও কারাবরণ করেছেন।”

ড. ইউনূসের বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, “জাপানে গিয়ে তিনি বলে এসেছেন, একটি দল ছাড়া কেউ নির্বাচন চায় না। অথচ তার জানা উচিত, সেই দলের জনসমর্থন কতটুকু। অথচ অনেক রাজনৈতিক দল এখন ডিসেম্বরে নির্বাচন চাচ্ছে।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য মাহবুব ইসলাম ও ডা. জাহিদুল কবির। সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক জহির রায়হান এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন আফজাল হোসেন। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন আরিফুর রহমান তুষার।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান শক্তিশালী ও অহংকারী, তাই চুক্তিতে পৌঁছানো কঠিন হচ্ছে: ট্রাম্প

এপ্রিলে নির্বাচন প্রসঙ্গে রিজভীর প্রশ্ন: “কোন সুতার টানে ড. ইউনূস এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন?”

আপডেট সময় ০৮:২১:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ জুন ২০২৫

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষ থেকে আগামী এপ্রিল মাসে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তার মতে, “দু-একজন লোক বা রাজনৈতিক দলের কথায়” প্রধান উপদেষ্টা এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, যা জনগণ অর্বাচীনের মতো কাজ হিসেবে বিবেচনা করছে।

রবিবার (৮ জুন) রাজধানীতে জাতীয়তাবাদী ভ্যান শ্রমিক ও রিকশা শ্রমিক দলের আয়োজনে ঈদ উপলক্ষে খাবার বিতরণকালে এসব কথা বলেন রিজভী।

তিনি বলেন, “এপ্রিলে প্রচণ্ড খরতাপ, ঝড়-বৃষ্টি ও পরীক্ষার মৌসুম থাকে। তাছাড়া তখন রমজানের পরপরই ঈদ অনুষ্ঠিত হবে। এমন সময়ে নির্বাচন আয়োজন মানে রোজা রেখে জনগণকে প্রচারণায় নামতে বাধ্য করা—যা একেবারেই অযৌক্তিক।”

রিজভী আরও বলেন, “কোন সুতার টানে, কার পরামর্শে ড. ইউনূস এপ্রিলে নির্বাচন বলছেন? তিনি কেন নির্বাচন নিয়ে টানাহেঁচড়া করছেন?”

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ইঙ্গিত করে তিনি মন্তব্য করেন, “গণতন্ত্র আর সংস্কারকে মুখোমুখি করেছে এই সরকার। তারা ক্ষমতায় এলেই চিরস্থায়ী হওয়ার স্বপ্ন দেখে। অন্তর্বর্তী সরকারের শরীরেও সেই বঙ্কিম বাতাস লাগছে কি না, জনগণের মধ্যে এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।”

বিএনপির এই নেতা বলেন, “গত ১৫-১৬ বছর ধরে এদেশের মানুষ সঠিকভাবে ভোট দিতে পারেনি। আওয়ামী লীগ দিনের ভোট রাতে দিয়েছে। অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনের ইতিহাসকে পদদলিত করেছে।”

তিনি আরও বলেন, “গণতন্ত্রের প্রধান মাধ্যম হলো নির্বাচন। অধিকাংশ মানুষের সমর্থন যাকে থাকবে, সেই হবে বিজয়ী। আর সেই নির্বাচন আদায়ের জন্যই আমাদের অনেক নেতাকর্মী গুম, খুন ও কারাবরণ করেছেন।”

ড. ইউনূসের বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, “জাপানে গিয়ে তিনি বলে এসেছেন, একটি দল ছাড়া কেউ নির্বাচন চায় না। অথচ তার জানা উচিত, সেই দলের জনসমর্থন কতটুকু। অথচ অনেক রাজনৈতিক দল এখন ডিসেম্বরে নির্বাচন চাচ্ছে।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য মাহবুব ইসলাম ও ডা. জাহিদুল কবির। সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক জহির রায়হান এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন আফজাল হোসেন। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন আরিফুর রহমান তুষার।