ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে ব্যবহৃত ৪০ মরদেহ ধারণক্ষমতার মর্চুয়ারি কুলার হঠাৎ বিকল হয়ে পড়েছে। এতে মরদেহ পচে-গলে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। সেই সঙ্গে মরদেহ সংরক্ষণ ও ময়নাতদন্ত কার্যক্রমে জটিলতাসহ আলামত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি ভিত্তিতে কুলারটি মেরামতে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অধ্যক্ষের কাছে গত ২ জুন লিখিত আবেদন জানিয়েছে ফরেনসিক মেডিসিন ও টক্সিকোলজি বিভাগ। কিন্তু এক সপ্তাহ পার হলেও নেওয়া হয়নি বিকল্প কোনো ব্যবস্থা।
সোমবার (৮ জুন) দুপুরে মর্গে সরেজমিনে দেখা যায়, বিশেষ মর্চুয়ারি কুলার ঢামেকের ফরেনসিক বিভাগের পাশে রাখা আছে। এই কুলারে একসঙ্গে ৪০টি মরদেহ সংরক্ষণ করা যায়। বর্তমানে এটি বিকল হয়ে পড়ে আছে।
ফরেনসিক অ্যান্ড টক্সিকোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. কাজী গোলাম মোখলেছুর রহমান স্বাক্ষরিত ওই স্মারকে বলা হয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন ও টক্সিকোলজি বিভাগের মর্গে থাকা ৪০ মরদেহ ধারণক্ষমতার মর্চুয়ারি কুলারটি (২ জুন থেকে) হঠাৎ অকার্যকর হয়ে পড়ে। এর ফলে মর্গে মরদেহ সংরক্ষণ এবং নিয়মিত ময়নাতদন্ত কার্যক্রম পরিচালনায় চরম অসুবিধা সৃষ্টি হয়েছে। দৈনন্দিন কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
দীর্ঘ সময় এটি অচল থাকলে মরদেহ সংরক্ষণে সংকট তীব্র হওয়ার পাশাপাশি ময়নাতদন্ত কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে বিষয়টিকে ‘অতীব জরুরি’ হিসেবে বিবেচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে স্মারকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মর্গের একাধিক কর্মচারী জানান, গত ২ জুন থেকে মর্চুয়ারি কুলারটি পুরোপুরি বিকল অবস্থায় রয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
কর্মচারীদের দাবি, মর্গে একসঙ্গে প্রায় ৪০টি মরদেহ সংরক্ষণের সক্ষমতা থাকলেও কুলার বিকল হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে মাত্র সাতটি মরদেহ রাখা সম্ভব হচ্ছে। এতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়া এবং মরদেহ দ্রুত পচে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। একই কারণে নতুন মরদেহ গ্রহণ করতেও সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে।
তারা আরও জানান, কুলারটি অচল থাকায় বাধ্য হয়ে মর্গের বারান্দা ও কক্ষের মেঝেতে মরদেহ রাখতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত অস্বস্তিকর ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। দুর্গন্ধের কারণে দায়িত্ব পালন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি মর্গ সংলগ্ন গলিপথে চলাচলেও ভোগান্তি তৈরি হয়েছে বলে জানান তারা।
দ্রুততম সময়ের মধ্যে মর্চুয়ারি কুলারটি মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন মর্গের কর্মচারীরা।
এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মাজহারুল শাহীন বলেন, আমরা ইতোমধ্যে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সূত্র: এশিয়া পোস্ট

ডেস্ক রিপোর্ট 


















