ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রাজিলের জালে ৭ বা তার বেশি গোল দিতে পেরেছে যারা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:১৪:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

ফুটবল ইতিহাসে Brazil national football team এমন একটি দল, যাদের বিপক্ষে গোল করা যেমন কঠিন, তেমনি বড় ব্যবধানে হারানো আরও কঠিন। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের দীর্ঘ ইতিহাসে অসংখ্য শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে অবাক করার মতো বিষয় হলো, ৭ বা তার বেশি গোল হজম করার ঘটনা ঘটেছে মাত্র দুইবার। আর এই দুই ঘটনার মাঝে ব্যবধান প্রায় আট দশক।

প্রথম ঘটনাটি ঘটে ১৯৩৪ সালের ৩ জুন। ইউরোপ সফরে থাকা ব্রাজিল সেদিন বেলগ্রেডে একটি প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল Yugoslavia national football team-এর। ম্যাচের শুরুটা ভালোই করেছিল ব্রাজিল। মাত্র ৮ মিনিটের মাথায় এগিয়েও যায় তারা। কিন্তু এরপর স্বাগতিকদের দুর্দান্ত আক্রমণের সামনে একেবারেই ভেঙে পড়ে ব্রাজিলের রক্ষণভাগ। শেষ পর্যন্ত ৮-৪ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে যুগোস্লাভিয়া।

সেই ম্যাচটিই ছিল ব্রাজিলের ইতিহাসে প্রথম কোনো ম্যাচ, যেখানে তারা ৭ বা তার বেশি গোল হজম করে। এরপর কেটে যায় প্রায় ৮০ বছর। বিশ্ব ফুটবলে অসংখ্য ম্যাচ খেললেও আর কোনো দল ব্রাজিলের জালে ৭ গোল দিতে পারেনি।

কিন্তু ২০১৪ সালে ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে ভেঙে যায় সেই দীর্ঘ অপেক্ষা। নিজ দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত 2014 FIFA World Cup-এর সেমিফাইনালে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ ছিল Germany national football team

বেলো হরিজন্তের Mineirão স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচটি এখন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ও স্মরণীয় অধ্যায়। ম্যাচের মাত্র ২৯ মিনিটের মধ্যেই জার্মানি ৫-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। ব্রাজিল সমর্থকদের সামনে তখন যেন দুঃস্বপ্নের দৃশ্যপট।

শেষ পর্যন্ত জার্মানি ৭-১ গোলের বিশাল জয় তুলে নেয়। ব্রাজিলের হয়ে একমাত্র সান্ত্বনাসূচক গোলটি করেন Oscar। এই পরাজয় শুধু বিশ্বকাপের ইতিহাসে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় হারই নয়, ১৯৩৪ সালের পর প্রথমবারের মতো এক ম্যাচে ৭ বা তার বেশি গোল হজম করার ঘটনাও।

ফুটবল ইতিহাসের পরিসংখ্যান বলছে, শত বছরেরও বেশি সময়ের আন্তর্জাতিক যাত্রায় ব্রাজিলকে ৭ বা তার বেশি গোল দিতে পেরেছে মাত্র দুটি দল—যুগোস্লাভিয়া ও জার্মানি। আর সেই কারণেই এই দুটি ম্যাচ আজও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বিরল ও আলোচিত অধ্যায় হয়ে আছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রাজিলের জালে ৭ বা তার বেশি গোল দিতে পেরেছে যারা

আপডেট সময় ১১:১৪:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

ফুটবল ইতিহাসে Brazil national football team এমন একটি দল, যাদের বিপক্ষে গোল করা যেমন কঠিন, তেমনি বড় ব্যবধানে হারানো আরও কঠিন। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের দীর্ঘ ইতিহাসে অসংখ্য শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে অবাক করার মতো বিষয় হলো, ৭ বা তার বেশি গোল হজম করার ঘটনা ঘটেছে মাত্র দুইবার। আর এই দুই ঘটনার মাঝে ব্যবধান প্রায় আট দশক।

প্রথম ঘটনাটি ঘটে ১৯৩৪ সালের ৩ জুন। ইউরোপ সফরে থাকা ব্রাজিল সেদিন বেলগ্রেডে একটি প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল Yugoslavia national football team-এর। ম্যাচের শুরুটা ভালোই করেছিল ব্রাজিল। মাত্র ৮ মিনিটের মাথায় এগিয়েও যায় তারা। কিন্তু এরপর স্বাগতিকদের দুর্দান্ত আক্রমণের সামনে একেবারেই ভেঙে পড়ে ব্রাজিলের রক্ষণভাগ। শেষ পর্যন্ত ৮-৪ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে যুগোস্লাভিয়া।

সেই ম্যাচটিই ছিল ব্রাজিলের ইতিহাসে প্রথম কোনো ম্যাচ, যেখানে তারা ৭ বা তার বেশি গোল হজম করে। এরপর কেটে যায় প্রায় ৮০ বছর। বিশ্ব ফুটবলে অসংখ্য ম্যাচ খেললেও আর কোনো দল ব্রাজিলের জালে ৭ গোল দিতে পারেনি।

কিন্তু ২০১৪ সালে ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে ভেঙে যায় সেই দীর্ঘ অপেক্ষা। নিজ দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত 2014 FIFA World Cup-এর সেমিফাইনালে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ ছিল Germany national football team

বেলো হরিজন্তের Mineirão স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচটি এখন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ও স্মরণীয় অধ্যায়। ম্যাচের মাত্র ২৯ মিনিটের মধ্যেই জার্মানি ৫-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। ব্রাজিল সমর্থকদের সামনে তখন যেন দুঃস্বপ্নের দৃশ্যপট।

শেষ পর্যন্ত জার্মানি ৭-১ গোলের বিশাল জয় তুলে নেয়। ব্রাজিলের হয়ে একমাত্র সান্ত্বনাসূচক গোলটি করেন Oscar। এই পরাজয় শুধু বিশ্বকাপের ইতিহাসে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় হারই নয়, ১৯৩৪ সালের পর প্রথমবারের মতো এক ম্যাচে ৭ বা তার বেশি গোল হজম করার ঘটনাও।

ফুটবল ইতিহাসের পরিসংখ্যান বলছে, শত বছরেরও বেশি সময়ের আন্তর্জাতিক যাত্রায় ব্রাজিলকে ৭ বা তার বেশি গোল দিতে পেরেছে মাত্র দুটি দল—যুগোস্লাভিয়া ও জার্মানি। আর সেই কারণেই এই দুটি ম্যাচ আজও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বিরল ও আলোচিত অধ্যায় হয়ে আছে।