পটুয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা রাঙ্গাবালী। চারদিকে নদীবেষ্টিত এই উপজেলার প্রায় দুই লাখ মানুষের জন্য এখনো নেই কোনো পূর্ণাঙ্গ সরকারি হাসপাতাল। ফলে গুরুতর অসুস্থ হলে চিকিৎসার জন্য নদীপথ পাড়ি দিয়ে যেতে হয় গলাচিপা কিংবা পটুয়াখালী জেলা সদরে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন গর্ভবতী নারী, শিশু, বয়স্ক ও সংকটাপন্ন রোগীরা।
দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ লাঘবে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে রাঙ্গাবালীতে ৫০ শয্যার একটি হাসপাতাল নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রায় পাঁচ একর জমির ওপর চারতলা ভবন নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় প্রায় ২১ কোটি টাকা। পৃথক দুটি লটে নির্মাণকাজ শুরু হলেও প্রথম লটে প্রায় ৩০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় লটে প্রায় ৫৭ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর তা বন্ধ হয়ে যায়।
২০২৪ সালের জুনে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মেয়াদ শেষ হওয়ায় প্রকল্পটির নির্মাণকাজ থেমে যায়। এরপর প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও হাসপাতালটি চালু হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, নির্মাণাধীন ভবনটি অনেকটাই পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ভবনের দেয়ালে শ্যাওলা জমেছে, চারপাশে জন্মেছে ঝোপঝাড়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর সেখানে মাদকসেবীদের আনাগোনাও দেখা যায়। চিকিৎসাসেবার আশার প্রতীক হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা ভবনটি এখন যেন অবহেলার সাক্ষী।
স্থানীয় চিকিৎসকদের ভাষ্য, সীমিত স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে জরুরি পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। হৃদরোগ, স্ট্রোক, প্রসবজনিত জটিলতা কিংবা দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত রোগীদের দ্রুত অন্যত্র পাঠাতে হয়। কিন্তু নদী উত্তাল থাকলে নৌযান সংকট দেখা দেয়। এতে চিকিৎসা পেতে বিলম্বের পাশাপাশি বাড়ে রোগীর জীবনঝুঁকি।
স্থানীয় বাসিন্দারাও দ্রুত হাসপাতালটি চালুর দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, দিনের বেলায় কোনোভাবে নৌযান পাওয়া গেলেও রাত কিংবা বৈরী আবহাওয়ায় গুরুতর রোগীকে অন্য হাসপাতালে নেওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
এদিকে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর জানিয়েছে, হাসপাতালের নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করতে পৃথক দুটি লটে নতুন করে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হলে ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।
পটুয়াখালীর সিভিল সার্জনও জানিয়েছেন, প্রকল্পটির ডিপিপি নতুন করে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে টেন্ডার প্রক্রিয়া চলমান। প্রক্রিয়া শেষ হলে হাসপাতালের নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আর বিলম্ব না করে দ্রুত ৫০ শয্যার হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শেষ করে চিকিৎসাসেবা চালু করা হবে। এতে রাঙ্গাবালীর মানুষের দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্য সংকট যেমন কমবে, তেমনি জীবন বাঁচাতে নদী পাড়ি দেওয়ার ঝুঁকিও অনেকটা দূর হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















