ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, আওয়ামী লীগকে সরিয়ে যদি একই ধরনের অন্যায়-অবিচার করা হয়, তাহলে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অভিযোগের জায়গাটিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়।
সাংবাদিক ও উপস্থাপক খালেদ মুহিউদ্দীনের ‘ঠিকানা’ টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে রুমিন ফারহানাকে প্রশ্ন করা হয়, অনেকে অভিযোগ করেন তিনি আওয়ামী লীগের ‘ন্যারেটিভ’ টিকিয়ে রাখছেন কিংবা পরোক্ষভাবে আওয়ামী লীগকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। জবাবে তিনি বলেন, এই অভিযোগ সত্য ধরে নিলেও বিষয়টিকে তিনি নিজেকে একটি ‘লাইফ সেভিং মেশিন’-এর সঙ্গে তুলনা করতে পারেন। তার ভাষায়, বিএনপি যখন সংকটে পড়ে তখন তিনি বিএনপির পক্ষে কথা বলেন, আবার আওয়ামী লীগ সংকটে পড়লে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেন।
রুমিন বলেন, তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন না। তবে প্রতিপক্ষ দুর্বল অবস্থায় থাকলে তাকে আঘাত করাকে তিনি কাপুরুষোচিত মনে করেন। তার মতে, প্রতিপক্ষ যখন শক্তিশালী অবস্থানে থাকে, তখনই রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করাই সাহসিকতা।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যখন সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে ছিল, তখন তাদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা ও প্রতিবাদ করা হয়েছে। এখন কোনো ব্যক্তির প্রতি অন্যায় হলে তার বিরুদ্ধে কথা বলাকে আওয়ামী লীগের পক্ষে অবস্থান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
অন্যায়কে অন্যায় দিয়ে মোকাবিলা করা উচিত—উপস্থাপকের এমন প্রশ্নের জবাবে রুমিন ফারহানা বলেন, ঘৃণার পাল্টা ঘৃণা শুরু করলে সমাজে শুধু ঘৃণারই চর্চা বাড়বে। তিনি ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতির সমালোচনা করে বলেন, এতে শেষ পর্যন্ত সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
রুমিন বলেন, আওয়ামী লীগকে সরানোর কারণ ছিল তারা খারাপ কাজ করেছে। এখন কেউ যদি একই ধরনের অন্যায় করে, তাহলে আওয়ামী লীগের দোষের জায়গাটি আর থাকে কোথায়?
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে মিথ্যা মামলা, গায়েবি মামলা কিংবা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানির ঘটনায় তারা প্রতিবাদ করেছেন। এখন রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে অন্য কারও সঙ্গে একই ধরনের আচরণ হলে তারও প্রতিবাদ করতে হবে।
তার মতে, ব্যক্তি দেখে প্রতিবাদের সিদ্ধান্ত নিলে সেটি ন্যায়বিচারের অবস্থান থাকে না। অন্যায় যার সঙ্গেই হোক, তার বিরুদ্ধে কথা বলাই ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেওয়া।

ডেস্ক রিপোর্ট 
























