ঢাকা , বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
যুক্তরাষ্ট্রের সাবমারসিবল আটক করেছে ইরান: আইআরজিসি নির্বাচনের আগে অনেকেই টুপি পরেন, মসজিদে যান, সংসদে গিয়ে ইসলামবিরোধী আইন: আলী হাসান উসামা আমাকে দমানো বা ভেঙে ফেলা এত সহজ নয়: বাঁধন ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ প্রতিরোধে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশ-বিদেশে আ.লীগের ‘জঙ্গি’ আচরণের দায় সুশীলদের: সাবেক উপদেষ্টা ফারুকী ৮ কেজির এক কালো পোয়া মাছ বিক্রি হলো ৪০ হাজার টাকায় কারাগারে বাবা, তিন অবুঝ সন্তানকে রেখে উধাও মা যুক্তরাষ্ট্রের সাবমারসিবল আটক করেছে ইরান: আইআরজিসি নিষেধাজ্ঞা আরোপের জেরে জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করল ইসরায়েল স্বামী-স্ত্রীর কর্মস্থল কাছাকাছি রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে : সমাজকল্যাণমন্ত্রী

৮ কেজির এক কালো পোয়া মাছ বিক্রি হলো ৪০ হাজার টাকায়

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৩৩:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

বঙ্গোপসাগরে জেলের জালে আবারও ধরা পড়েছে ৮ কেজি ওজনের একটি কালো পোয়া মাছ। যদিও স্থানীয়ভাবে এ মাছকে দাতিনা মাছ বলা হয়। মাছটির বৈজ্ঞানিক নাম Acanthopagrus berda।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে মাছটি আলীপুর বন্দরের মেসার্স সাগর ফিসে নিয়ে আসলে খোলা বাজারে উন্মুক্ত ডাকের মাধ্যমে ৪০ হাজার টাকা বিক্রি হয়েছে।প্রতি কেজি ৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। যদিও এর দাম আরো বেশি হওয়ার কথা। এ প্রজাতির সচরাচর এ ধরনের মাছ জেলেদের জালে ধরা পড়ে না। তাই খবর ছড়িয়ে পড়লে মাছটি দেখার জন্য আড়তে ভীড় লেগে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাছটি আড়তে তোলা হলে ডাকের মাধ্যমে ‘ফ্রেশ ফিস কুয়াকাটা’র স্বত্বাধিকারী পিএম মুসা কিনে নেন। মাছটি তিনি রপ্তানির জন্য প্রস্তুত করবেন বলেও জানিয়েছেন। এর আগে গত বুধবার সাড়ে ৪ কেজি ওজনের আরও একটি কালো পোয়া ৭২ হাজার টাকায় তিনি কিনেন।

মাছটি পাওয়া এফবি মিম ট্রলারের জেলে সিদ্দিক জানান, ছোট ঝাটকা ইলিশ মাছের পাশাপাশি একটি দাতিনা মাছ পেয়েছি। খুব ভালো দামে বিক্রি করেছি। এসকল মাছ পেলে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যায়। আমরা অনেক খুশি।

সিফাত ফিসের আড়তদার মীর মিজানুর রহামান বলেন, মাছটি ব্ল্যাক ডায়মন্ড’ ও দাঁতিনা নামেও পরিচিত। আন্তর্জাতিক বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, বিশেষ করে মাছটির বায়ুথলি বা এয়ার ব্লাডার চীনা ঐতিহ্যবাহী ওষুধ ও প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহৃত হওয়ায় এর দাম অনেক বেশি। তবে আজকে মাছটি কম দামে বিক্রি হয়েছে। মাঝে মাঝে ৪ লাখ টাকাও মনে এসকল মাছ বিক্রি হয়।জেলেদের পাশাপাশি আমরা আড়তদাররাও অনেক খুশি।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিকস বিভাগের অধ্যাপক ড. রাজীব সরকার বলেন, মাছটির বৈজ্ঞানিক নাম Acanthopagrus berda। শারীরিক গঠনের দিক থেকে কালো দাতিনা মাছটি সর্বোচ্চ ৯০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হওয়ার রেকর্ড রয়েছে, তবে প্রাকৃতিকভাবে আমাদের জেলেরা সাধারণত ৩৫ সেন্টিমিটার এর কাছাকাছি আকারের মাছ বেশি পেয়ে থাকে। ছোট কাকড়া ও চিংড়ি, ছোট মাছ, শামুক ও ঝিনুক এবং পানির তলদেশের বালু বা কাদার মধ্যে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক কৃমিএদের সবচেয়ে প্রিয় খাবার। এদের চোয়াল খুব শক্তিশালী হওয়ায় এরা সহজেই শক্ত খোলসযুক্ত কাঁকড়া বা চিংড়ি চিবিয়ে খেতে পারে।

বাংলাভিশনের গুগল নিউজ ফলো করতে ক্লিক করুন
তিনি আরো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং উপকূলীয় পরিবেশ দূষণের কারণে এদের প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্রগুলো হুমকির মুখে পড়ছে। তাই ব্লু-ইকোনমি বা নীল অর্থনীতির বিকাশ এবং পুষ্টির চাহিদা পূরণে এই কালো দাতিনা মাছের কৃত্রিম প্রজনন প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়া এবং এদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি।

পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী জানান, এ মাছগুলোকে কালো পোয়া মাছ। স্থানীয় ভাষায় এগুলোকে দাতিনা মাছ বলা হয়। এসব মাছ সাধারণত ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের সাবমারসিবল আটক করেছে ইরান: আইআরজিসি

৮ কেজির এক কালো পোয়া মাছ বিক্রি হলো ৪০ হাজার টাকায়

আপডেট সময় ১১:৩৩:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বঙ্গোপসাগরে জেলের জালে আবারও ধরা পড়েছে ৮ কেজি ওজনের একটি কালো পোয়া মাছ। যদিও স্থানীয়ভাবে এ মাছকে দাতিনা মাছ বলা হয়। মাছটির বৈজ্ঞানিক নাম Acanthopagrus berda।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে মাছটি আলীপুর বন্দরের মেসার্স সাগর ফিসে নিয়ে আসলে খোলা বাজারে উন্মুক্ত ডাকের মাধ্যমে ৪০ হাজার টাকা বিক্রি হয়েছে।প্রতি কেজি ৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। যদিও এর দাম আরো বেশি হওয়ার কথা। এ প্রজাতির সচরাচর এ ধরনের মাছ জেলেদের জালে ধরা পড়ে না। তাই খবর ছড়িয়ে পড়লে মাছটি দেখার জন্য আড়তে ভীড় লেগে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাছটি আড়তে তোলা হলে ডাকের মাধ্যমে ‘ফ্রেশ ফিস কুয়াকাটা’র স্বত্বাধিকারী পিএম মুসা কিনে নেন। মাছটি তিনি রপ্তানির জন্য প্রস্তুত করবেন বলেও জানিয়েছেন। এর আগে গত বুধবার সাড়ে ৪ কেজি ওজনের আরও একটি কালো পোয়া ৭২ হাজার টাকায় তিনি কিনেন।

মাছটি পাওয়া এফবি মিম ট্রলারের জেলে সিদ্দিক জানান, ছোট ঝাটকা ইলিশ মাছের পাশাপাশি একটি দাতিনা মাছ পেয়েছি। খুব ভালো দামে বিক্রি করেছি। এসকল মাছ পেলে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যায়। আমরা অনেক খুশি।

সিফাত ফিসের আড়তদার মীর মিজানুর রহামান বলেন, মাছটি ব্ল্যাক ডায়মন্ড’ ও দাঁতিনা নামেও পরিচিত। আন্তর্জাতিক বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, বিশেষ করে মাছটির বায়ুথলি বা এয়ার ব্লাডার চীনা ঐতিহ্যবাহী ওষুধ ও প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহৃত হওয়ায় এর দাম অনেক বেশি। তবে আজকে মাছটি কম দামে বিক্রি হয়েছে। মাঝে মাঝে ৪ লাখ টাকাও মনে এসকল মাছ বিক্রি হয়।জেলেদের পাশাপাশি আমরা আড়তদাররাও অনেক খুশি।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিকস বিভাগের অধ্যাপক ড. রাজীব সরকার বলেন, মাছটির বৈজ্ঞানিক নাম Acanthopagrus berda। শারীরিক গঠনের দিক থেকে কালো দাতিনা মাছটি সর্বোচ্চ ৯০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হওয়ার রেকর্ড রয়েছে, তবে প্রাকৃতিকভাবে আমাদের জেলেরা সাধারণত ৩৫ সেন্টিমিটার এর কাছাকাছি আকারের মাছ বেশি পেয়ে থাকে। ছোট কাকড়া ও চিংড়ি, ছোট মাছ, শামুক ও ঝিনুক এবং পানির তলদেশের বালু বা কাদার মধ্যে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক কৃমিএদের সবচেয়ে প্রিয় খাবার। এদের চোয়াল খুব শক্তিশালী হওয়ায় এরা সহজেই শক্ত খোলসযুক্ত কাঁকড়া বা চিংড়ি চিবিয়ে খেতে পারে।

বাংলাভিশনের গুগল নিউজ ফলো করতে ক্লিক করুন
তিনি আরো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং উপকূলীয় পরিবেশ দূষণের কারণে এদের প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্রগুলো হুমকির মুখে পড়ছে। তাই ব্লু-ইকোনমি বা নীল অর্থনীতির বিকাশ এবং পুষ্টির চাহিদা পূরণে এই কালো দাতিনা মাছের কৃত্রিম প্রজনন প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়া এবং এদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি।

পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী জানান, এ মাছগুলোকে কালো পোয়া মাছ। স্থানীয় ভাষায় এগুলোকে দাতিনা মাছ বলা হয়। এসব মাছ সাধারণত ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়।