ঢাকা , বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
যুক্তরাষ্ট্রের সাবমারসিবল আটক করেছে ইরান: আইআরজিসি নির্বাচনের আগে অনেকেই টুপি পরেন, মসজিদে যান, সংসদে গিয়ে ইসলামবিরোধী আইন: আলী হাসান উসামা আমাকে দমানো বা ভেঙে ফেলা এত সহজ নয়: বাঁধন ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ প্রতিরোধে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশ-বিদেশে আ.লীগের ‘জঙ্গি’ আচরণের দায় সুশীলদের: সাবেক উপদেষ্টা ফারুকী ৮ কেজির এক কালো পোয়া মাছ বিক্রি হলো ৪০ হাজার টাকায় কারাগারে বাবা, তিন অবুঝ সন্তানকে রেখে উধাও মা যুক্তরাষ্ট্রের সাবমারসিবল আটক করেছে ইরান: আইআরজিসি নিষেধাজ্ঞা আরোপের জেরে জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করল ইসরায়েল স্বামী-স্ত্রীর কর্মস্থল কাছাকাছি রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে : সমাজকল্যাণমন্ত্রী

দেশ-বিদেশে আ.লীগের ‘জঙ্গি’ আচরণের দায় সুশীলদের: সাবেক উপদেষ্টা ফারুকী

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৫৩:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

দেশ-বিদেশে আ.লীগের ‘জঙ্গি’ আচরণের দায় সুশীলদের নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

আজ মঙ্গলবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন। একই পোস্টে ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলা ও হেনস্তার ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি।

‘আওয়ামী লীগ যে এখনও পর্যন্ত কোনো ধরনের অনুশোচনায় না ভুগে দেশে-বিদেশে জঙ্গি আচরণ করে যাচ্ছে এই দায় ঐসব সুশীলদের যারা জুলাই গণহত্যার রক্ত হাতে থাকা এই অপরাধীদের পূনর্বাসন নিয়ে মিডিয়ায় লেখা লিখছিলেন।

এই দায় ঐসব মানুষের যারা জুলাই গণহত্যার সম্মতি উৎপাদনকারীদের এবং সিমপ্যাথাইজারদের টেলিভিশন মিডিয়ায় স্পেস দিছিলেন গণহত্যাকারী দল আর অন্যদের এক পাল্লায় তুলে কথা বলার জন্য। যাদের সুযোগ দেওয়া হইছিল এই কথা বলার জন্য যে, আচ্ছা তারেক রহমান লন্ডন থেকে রাজনীতি করতে পারলে খুনি হাসিনা কেন ভারত থেকে সেটা করতে পারবে না। যেন তারেক রহমান জুলাই গণহত্যা করে, হাজার হাজার মানুষ গুম-খুন করে জনতার দৌড়ানি খেয়ে পালিয়ে লন্ডন গেছিলেন।

এই দায় আমাদের জুলাইয়ের পক্ষ শক্তির সবার যারা নিজেদের পাওয়ার স্ট্রাগলে আপার হ্যান্ড নেওয়ার জন্য যার যার মতো করে এইসব নুইসেন্সকে উসকে দিছি।

এই দায় আমাদের অন্তর্বর্তী এবং বিএনপি সরকারের। কারণ আমরা বুদ্ধিবৃত্তিক অপরাধীদের বিচার বা তিরস্কারের আওতায় আনতে পারিনি। ফ্যাসিবাদের মূল শক্তি এর কনসেন্ট উৎপাদনকারীরা। এদেরকে একটা কমিশনের সামনে নিয়ে বিচারের মুখোমুখি না করার ফলে এরাই দেশে বসে বসে কুঁই কুঁই করার মধ্য দিয়ে বিদেশে থাকা আওয়ামী জঙ্গিদের ফুয়েল জোগাচ্ছে।

এই দায় আমাদের কালচারাল অঙ্গনের তাদের যারা পুরা জুলাই মাসে চুপ থাকে, ফ্যাসিবাদী অপকর্ম নিয়ে একটা কথাও বলে না, আর আগস্টের ১৫ তারিখ আসলে বলে ‘বিনম্র শ্রদ্ধা’। এর মধ্য দিয়ে তারা বিদেশে থাকা এই জঙ্গিদের এই বার্তাই দেয় যে তোমরা কোনো অপরাধবোধে না ভুগেই তোমাদের কাজ চালাতে পারো। শুধু একটা কথা লিখে রাখেন, একাত্তরের রাজাকারকে মানুষ যেমন ঘৃণা করে, চব্বিশের এই রাজাকারদেরও মানুষ একই চোখে দেখবে।

ফাইনালি এই দায় আমাদের বিএনপি সরকারের একটা অংশেরও যারা মিডিয়া এবং কালচারকে আওয়ামী এবং সিআরআইয়ের হেফাজতে তুলে দিছে এবং দিচ্ছে। আপনি বিপ্লব পরবর্তী সরকার চালাবেন স্বাধীন পররাষ্ট্র নীতির উপর ভিত্তি করে আর আপনার মিডিয়া এবং কালচার ক্যানন হবে বাকশাল আর সিআরআই- এটা একটা অবিশ্বাস্য কম্বিনেশন।

প্রধানমন্ত্রী চাইলে একটু খোঁজ নিয়ে দেখেন আপনার সরকারের ভেতরে বসে কারা ফ্যাসিবাদের সফট পাওয়ারকে স্পেস দিচ্ছে, কারা কারা তাদের এমপাওয়ার করছে। আপনার সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্তরা কি জানে কালচারাল লীগ এবং মিডিয়া লীগের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপগুলাতে কী আলোচনা হয়? কী পরিকল্পনা হয়? এবং কিভাবে সেই পরিকল্পনা মিডিয়ায় প্রোপাগান্ডা আকারে আসে? এবং কোনো প্রোপাগান্ডা কোনো সুদুরপ্রসারী চিন্তা থেকে করা হচ্ছে? তারা কী জেনেশুনে এদের এমপাওয়ার করছে?

যারা এটা করছে তারা ভুলে যাচ্ছে, জুলাই একটা ওয়ান ইলেভেন মার্কা সরকার পরিবর্তন ছিল না যে বলবে ‘যা হয়েছে হয়েছে, এসো মিলেমিশে খেলি’। তারা এটা ভুলে যাচ্ছে জুলাইতে গণহত্যা হয়েছে, জুলাইয়ের আগে ষোলো বছর গুম-খুন ছাড়াও দেশটা লিটারালি অন্য দেশের হাতে তুলে দেওয়া হইছিল। তারা ভুলে যাচ্ছে বাকশালীরা এখনও প্রতি মুহূর্তে অপেক্ষা করছে একটা ছোবল মারার। মনে রাখবেন, ‘হৃদয়ে বাকশাল’র কাছে বিএনপিই হইলো আসল শত্রু।

আপনাকে প্রতিহিংসার আশ্রয় নিতে বলছি না। কিন্তু মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং ইন্টেলেকচুয়াল অপরাধের জন্য তিরস্কার বরাদ্দ রাখার কথা বলছি। এদের এমপাওয়ার বা সেলিব্রেট না করার কথা বলছি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের সাবমারসিবল আটক করেছে ইরান: আইআরজিসি

দেশ-বিদেশে আ.লীগের ‘জঙ্গি’ আচরণের দায় সুশীলদের: সাবেক উপদেষ্টা ফারুকী

আপডেট সময় ১১:৫৩:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশ-বিদেশে আ.লীগের ‘জঙ্গি’ আচরণের দায় সুশীলদের নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

আজ মঙ্গলবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন। একই পোস্টে ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলা ও হেনস্তার ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি।

‘আওয়ামী লীগ যে এখনও পর্যন্ত কোনো ধরনের অনুশোচনায় না ভুগে দেশে-বিদেশে জঙ্গি আচরণ করে যাচ্ছে এই দায় ঐসব সুশীলদের যারা জুলাই গণহত্যার রক্ত হাতে থাকা এই অপরাধীদের পূনর্বাসন নিয়ে মিডিয়ায় লেখা লিখছিলেন।

এই দায় ঐসব মানুষের যারা জুলাই গণহত্যার সম্মতি উৎপাদনকারীদের এবং সিমপ্যাথাইজারদের টেলিভিশন মিডিয়ায় স্পেস দিছিলেন গণহত্যাকারী দল আর অন্যদের এক পাল্লায় তুলে কথা বলার জন্য। যাদের সুযোগ দেওয়া হইছিল এই কথা বলার জন্য যে, আচ্ছা তারেক রহমান লন্ডন থেকে রাজনীতি করতে পারলে খুনি হাসিনা কেন ভারত থেকে সেটা করতে পারবে না। যেন তারেক রহমান জুলাই গণহত্যা করে, হাজার হাজার মানুষ গুম-খুন করে জনতার দৌড়ানি খেয়ে পালিয়ে লন্ডন গেছিলেন।

এই দায় আমাদের জুলাইয়ের পক্ষ শক্তির সবার যারা নিজেদের পাওয়ার স্ট্রাগলে আপার হ্যান্ড নেওয়ার জন্য যার যার মতো করে এইসব নুইসেন্সকে উসকে দিছি।

এই দায় আমাদের অন্তর্বর্তী এবং বিএনপি সরকারের। কারণ আমরা বুদ্ধিবৃত্তিক অপরাধীদের বিচার বা তিরস্কারের আওতায় আনতে পারিনি। ফ্যাসিবাদের মূল শক্তি এর কনসেন্ট উৎপাদনকারীরা। এদেরকে একটা কমিশনের সামনে নিয়ে বিচারের মুখোমুখি না করার ফলে এরাই দেশে বসে বসে কুঁই কুঁই করার মধ্য দিয়ে বিদেশে থাকা আওয়ামী জঙ্গিদের ফুয়েল জোগাচ্ছে।

এই দায় আমাদের কালচারাল অঙ্গনের তাদের যারা পুরা জুলাই মাসে চুপ থাকে, ফ্যাসিবাদী অপকর্ম নিয়ে একটা কথাও বলে না, আর আগস্টের ১৫ তারিখ আসলে বলে ‘বিনম্র শ্রদ্ধা’। এর মধ্য দিয়ে তারা বিদেশে থাকা এই জঙ্গিদের এই বার্তাই দেয় যে তোমরা কোনো অপরাধবোধে না ভুগেই তোমাদের কাজ চালাতে পারো। শুধু একটা কথা লিখে রাখেন, একাত্তরের রাজাকারকে মানুষ যেমন ঘৃণা করে, চব্বিশের এই রাজাকারদেরও মানুষ একই চোখে দেখবে।

ফাইনালি এই দায় আমাদের বিএনপি সরকারের একটা অংশেরও যারা মিডিয়া এবং কালচারকে আওয়ামী এবং সিআরআইয়ের হেফাজতে তুলে দিছে এবং দিচ্ছে। আপনি বিপ্লব পরবর্তী সরকার চালাবেন স্বাধীন পররাষ্ট্র নীতির উপর ভিত্তি করে আর আপনার মিডিয়া এবং কালচার ক্যানন হবে বাকশাল আর সিআরআই- এটা একটা অবিশ্বাস্য কম্বিনেশন।

প্রধানমন্ত্রী চাইলে একটু খোঁজ নিয়ে দেখেন আপনার সরকারের ভেতরে বসে কারা ফ্যাসিবাদের সফট পাওয়ারকে স্পেস দিচ্ছে, কারা কারা তাদের এমপাওয়ার করছে। আপনার সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্তরা কি জানে কালচারাল লীগ এবং মিডিয়া লীগের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপগুলাতে কী আলোচনা হয়? কী পরিকল্পনা হয়? এবং কিভাবে সেই পরিকল্পনা মিডিয়ায় প্রোপাগান্ডা আকারে আসে? এবং কোনো প্রোপাগান্ডা কোনো সুদুরপ্রসারী চিন্তা থেকে করা হচ্ছে? তারা কী জেনেশুনে এদের এমপাওয়ার করছে?

যারা এটা করছে তারা ভুলে যাচ্ছে, জুলাই একটা ওয়ান ইলেভেন মার্কা সরকার পরিবর্তন ছিল না যে বলবে ‘যা হয়েছে হয়েছে, এসো মিলেমিশে খেলি’। তারা এটা ভুলে যাচ্ছে জুলাইতে গণহত্যা হয়েছে, জুলাইয়ের আগে ষোলো বছর গুম-খুন ছাড়াও দেশটা লিটারালি অন্য দেশের হাতে তুলে দেওয়া হইছিল। তারা ভুলে যাচ্ছে বাকশালীরা এখনও প্রতি মুহূর্তে অপেক্ষা করছে একটা ছোবল মারার। মনে রাখবেন, ‘হৃদয়ে বাকশাল’র কাছে বিএনপিই হইলো আসল শত্রু।

আপনাকে প্রতিহিংসার আশ্রয় নিতে বলছি না। কিন্তু মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং ইন্টেলেকচুয়াল অপরাধের জন্য তিরস্কার বরাদ্দ রাখার কথা বলছি। এদের এমপাওয়ার বা সেলিব্রেট না করার কথা বলছি।