ঢাকা , শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আরব আমিরাতকে ‘গুঁড়িয়ে দেওয়ার’ পরিকল্পনা সৌদিকে জানিয়েছিল ইরান জামায়াতের উদ্দেশ্য বাংলাদেশকে আবারও অস্থিতিশীল করা: মির্জা ফখরুল এবার শাপলা চত্বরে শহীদদের স্মরণে দেশব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা আল্লাহ আমাকে ভেতর থেকে বদলে দিয়েছেন: কারামুক্তির পর সিদ্দিক  পানি থেকে লাশ উদ্ধারের পর দেখা গেল ছেলেকে বুকে জড়িয়ে আছেন মা ইরানের সঙ্গে চলমান শত্রুতা শেষ: ট্রাম্প বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ৩ জেলার পাঁচ নদীর পানি বিএনপির সমাবেশে আইফোন চুরি, কুরআন তেলাওয়াত করিয়ে তওবা করালো জনতা সরকারের কাজের গতি দেখে বিরোধী দল ভয় পাচ্ছে: আবদুস সালাম রাজনৈতিক সহমর্মিতা বজায় রাখতে বিএনপি–জামায়াত বৈঠক

প্রায় ৪০ বছর পর ফের ইরানে অস্ত্র সরবরাহ শুরু করল চীন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:২৭:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫
  • ৬৬২ বার পড়া হয়েছে

অবশেষে প্রায় চার দশক পর আবারও ইরানে অস্ত্র সরবরাহ শুরু করেছে চীন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডলইস্ট আই জানিয়েছে, সম্প্রতি বেইজিং ইরানে সারফেস-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র এবং ব্যাটারি পাঠিয়েছে, যা তেহরান ইতোমধ্যে গ্রহণ করেছে। সাধারণত ইরান বাইরের দেশ থেকে খুব বেশি অস্ত্র কেনে না; বরং নিজেদের সেনাবাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় সমরাস্ত্র ও গোলাবারুদ অভ্যন্তরীণভাবে উৎপাদন করে। মাঝে মাঝে অবশ্য রাশিয়া থেকে দামি সামরিক সরঞ্জাম আমদানি করে তেহরান, যেমন বর্তমানে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ সুরক্ষা ব্যবস্থা।

এদিকে সৌদি আরবের একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা মিডলইস্ট আইকে বলেন, সম্প্রতি ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাত শেষে তেহরান উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছে যে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল। এ কারণেই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে মনোযোগ দিয়েছে তেহরান এবং তারই অংশ হিসেবে চীন থেকে সারফেস-টু-এয়ার ব্যাটারি আমদানি করেছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা নিশ্চিত নন যে চালানে ঠিক কী পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ও ব্যাটারি ছিল, তবে তারা জানিয়েছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর এই প্রথম ইরান বাইরের কোনো দেশ থেকে অস্ত্র আমদানি করল।

গত ১৩ জুন থেকে শুরু হয়ে ২৫ জুন সংঘাত থামার আগ পর্যন্ত ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে ইরানে ৯০০-র বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু ও সামরিক স্থাপনা। সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যদি ইরানের একটি শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকত, তাহলে এত ক্ষয়ক্ষতি সহ্য করতে হতো না।

ইরানের অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি জ্বালানি তেল। কিন্তু পরমাণু কর্মসূচির কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের তেল সহজে প্রবেশ করতে পারে না। বেশ কয়েক বছর ধরে চীন ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত চলার সময় নিন্দা ও সমালোচনা ব্যতীত ইরানের পক্ষে দৃশ্যত আর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি চীন। তবে অতি সাম্প্রতিক অস্ত্রের এই চালান বেইজিং এবং তেহরানের মধ্যে গভীর মিত্রতাপূর্ণ সম্পর্কেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এর আগে, গত শতকের আশির দশকের শেষ দিকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় বেইজিং থেকে তেহরানে সর্বশেষ চালানটি এসেছিল। সেবার তেহরানকে এইচওয়াই-২ সিল্কওয়ার্ম ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছিল বেইজিং।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আরব আমিরাতকে ‘গুঁড়িয়ে দেওয়ার’ পরিকল্পনা সৌদিকে জানিয়েছিল ইরান

প্রায় ৪০ বছর পর ফের ইরানে অস্ত্র সরবরাহ শুরু করল চীন

আপডেট সময় ১০:২৭:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫

অবশেষে প্রায় চার দশক পর আবারও ইরানে অস্ত্র সরবরাহ শুরু করেছে চীন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডলইস্ট আই জানিয়েছে, সম্প্রতি বেইজিং ইরানে সারফেস-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র এবং ব্যাটারি পাঠিয়েছে, যা তেহরান ইতোমধ্যে গ্রহণ করেছে। সাধারণত ইরান বাইরের দেশ থেকে খুব বেশি অস্ত্র কেনে না; বরং নিজেদের সেনাবাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় সমরাস্ত্র ও গোলাবারুদ অভ্যন্তরীণভাবে উৎপাদন করে। মাঝে মাঝে অবশ্য রাশিয়া থেকে দামি সামরিক সরঞ্জাম আমদানি করে তেহরান, যেমন বর্তমানে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ সুরক্ষা ব্যবস্থা।

এদিকে সৌদি আরবের একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা মিডলইস্ট আইকে বলেন, সম্প্রতি ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাত শেষে তেহরান উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছে যে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল। এ কারণেই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে মনোযোগ দিয়েছে তেহরান এবং তারই অংশ হিসেবে চীন থেকে সারফেস-টু-এয়ার ব্যাটারি আমদানি করেছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা নিশ্চিত নন যে চালানে ঠিক কী পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ও ব্যাটারি ছিল, তবে তারা জানিয়েছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর এই প্রথম ইরান বাইরের কোনো দেশ থেকে অস্ত্র আমদানি করল।

গত ১৩ জুন থেকে শুরু হয়ে ২৫ জুন সংঘাত থামার আগ পর্যন্ত ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে ইরানে ৯০০-র বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু ও সামরিক স্থাপনা। সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যদি ইরানের একটি শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকত, তাহলে এত ক্ষয়ক্ষতি সহ্য করতে হতো না।

ইরানের অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি জ্বালানি তেল। কিন্তু পরমাণু কর্মসূচির কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের তেল সহজে প্রবেশ করতে পারে না। বেশ কয়েক বছর ধরে চীন ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত চলার সময় নিন্দা ও সমালোচনা ব্যতীত ইরানের পক্ষে দৃশ্যত আর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি চীন। তবে অতি সাম্প্রতিক অস্ত্রের এই চালান বেইজিং এবং তেহরানের মধ্যে গভীর মিত্রতাপূর্ণ সম্পর্কেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এর আগে, গত শতকের আশির দশকের শেষ দিকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় বেইজিং থেকে তেহরানে সর্বশেষ চালানটি এসেছিল। সেবার তেহরানকে এইচওয়াই-২ সিল্কওয়ার্ম ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছিল বেইজিং।