ঢাকা , শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
জুমার নামাজের সময় পুলিশ লাইনে বিস্ফোরণ, প্রাণ গেলো ১৬ জনের গুম বন্ধে অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ ফেরানোর দাবি আখতারের শেখ হাসিনার ফেরা প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা ‘যেকোনো নাগরিক যেকোনো সময় দেশ ছাড়তে পারে আবার ঢুকতেও পারে’ ‘দেশে বেহেশত-দোজখের টিকিট বিক্রি করা হয়, না কিনতে না চাইলে তাকে খারাপ বানিয়ে দেওয়া হয় জামায়াতের লং মার্চ অযৌক্তিক হলেও সরকার সহযোগিতা করবে: রাশেদ খাঁন বিএনপি সরকার গুমের ঘটনার তদন্ত চায় না: নাহিদ ইসলাম ‘শখ জাগছে, একটা জ্যাতা পুড়মু, আপনারেই বাইছা নিছি’— ব্যবসায়ীকে বিএনপি নেতার হুমকি ‘জিন্নাহর বাবা ছিলেন হিন্দু, করতেন মাছ বিক্রি’, দাবি ফজলুর রহমানের ছাড়পোকা দমনে ডাকসুর ব্যয় ৩২ লাখ: এবি জুবায়ের ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ৭৪৭, মৃত্যু নেই

প্রায় ৪০ বছর পর ফের ইরানে অস্ত্র সরবরাহ শুরু করল চীন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:২৭:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫
  • ৭২০ বার পড়া হয়েছে

অবশেষে প্রায় চার দশক পর আবারও ইরানে অস্ত্র সরবরাহ শুরু করেছে চীন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডলইস্ট আই জানিয়েছে, সম্প্রতি বেইজিং ইরানে সারফেস-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র এবং ব্যাটারি পাঠিয়েছে, যা তেহরান ইতোমধ্যে গ্রহণ করেছে। সাধারণত ইরান বাইরের দেশ থেকে খুব বেশি অস্ত্র কেনে না; বরং নিজেদের সেনাবাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় সমরাস্ত্র ও গোলাবারুদ অভ্যন্তরীণভাবে উৎপাদন করে। মাঝে মাঝে অবশ্য রাশিয়া থেকে দামি সামরিক সরঞ্জাম আমদানি করে তেহরান, যেমন বর্তমানে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ সুরক্ষা ব্যবস্থা।

এদিকে সৌদি আরবের একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা মিডলইস্ট আইকে বলেন, সম্প্রতি ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাত শেষে তেহরান উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছে যে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল। এ কারণেই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে মনোযোগ দিয়েছে তেহরান এবং তারই অংশ হিসেবে চীন থেকে সারফেস-টু-এয়ার ব্যাটারি আমদানি করেছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা নিশ্চিত নন যে চালানে ঠিক কী পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ও ব্যাটারি ছিল, তবে তারা জানিয়েছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর এই প্রথম ইরান বাইরের কোনো দেশ থেকে অস্ত্র আমদানি করল।

গত ১৩ জুন থেকে শুরু হয়ে ২৫ জুন সংঘাত থামার আগ পর্যন্ত ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে ইরানে ৯০০-র বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু ও সামরিক স্থাপনা। সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যদি ইরানের একটি শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকত, তাহলে এত ক্ষয়ক্ষতি সহ্য করতে হতো না।

ইরানের অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি জ্বালানি তেল। কিন্তু পরমাণু কর্মসূচির কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের তেল সহজে প্রবেশ করতে পারে না। বেশ কয়েক বছর ধরে চীন ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত চলার সময় নিন্দা ও সমালোচনা ব্যতীত ইরানের পক্ষে দৃশ্যত আর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি চীন। তবে অতি সাম্প্রতিক অস্ত্রের এই চালান বেইজিং এবং তেহরানের মধ্যে গভীর মিত্রতাপূর্ণ সম্পর্কেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এর আগে, গত শতকের আশির দশকের শেষ দিকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় বেইজিং থেকে তেহরানে সর্বশেষ চালানটি এসেছিল। সেবার তেহরানকে এইচওয়াই-২ সিল্কওয়ার্ম ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছিল বেইজিং।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জুমার নামাজের সময় পুলিশ লাইনে বিস্ফোরণ, প্রাণ গেলো ১৬ জনের

প্রায় ৪০ বছর পর ফের ইরানে অস্ত্র সরবরাহ শুরু করল চীন

আপডেট সময় ১০:২৭:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫

অবশেষে প্রায় চার দশক পর আবারও ইরানে অস্ত্র সরবরাহ শুরু করেছে চীন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডলইস্ট আই জানিয়েছে, সম্প্রতি বেইজিং ইরানে সারফেস-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র এবং ব্যাটারি পাঠিয়েছে, যা তেহরান ইতোমধ্যে গ্রহণ করেছে। সাধারণত ইরান বাইরের দেশ থেকে খুব বেশি অস্ত্র কেনে না; বরং নিজেদের সেনাবাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় সমরাস্ত্র ও গোলাবারুদ অভ্যন্তরীণভাবে উৎপাদন করে। মাঝে মাঝে অবশ্য রাশিয়া থেকে দামি সামরিক সরঞ্জাম আমদানি করে তেহরান, যেমন বর্তমানে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ সুরক্ষা ব্যবস্থা।

এদিকে সৌদি আরবের একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা মিডলইস্ট আইকে বলেন, সম্প্রতি ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাত শেষে তেহরান উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছে যে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল। এ কারণেই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে মনোযোগ দিয়েছে তেহরান এবং তারই অংশ হিসেবে চীন থেকে সারফেস-টু-এয়ার ব্যাটারি আমদানি করেছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা নিশ্চিত নন যে চালানে ঠিক কী পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ও ব্যাটারি ছিল, তবে তারা জানিয়েছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর এই প্রথম ইরান বাইরের কোনো দেশ থেকে অস্ত্র আমদানি করল।

গত ১৩ জুন থেকে শুরু হয়ে ২৫ জুন সংঘাত থামার আগ পর্যন্ত ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে ইরানে ৯০০-র বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু ও সামরিক স্থাপনা। সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যদি ইরানের একটি শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকত, তাহলে এত ক্ষয়ক্ষতি সহ্য করতে হতো না।

ইরানের অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি জ্বালানি তেল। কিন্তু পরমাণু কর্মসূচির কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের তেল সহজে প্রবেশ করতে পারে না। বেশ কয়েক বছর ধরে চীন ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত চলার সময় নিন্দা ও সমালোচনা ব্যতীত ইরানের পক্ষে দৃশ্যত আর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি চীন। তবে অতি সাম্প্রতিক অস্ত্রের এই চালান বেইজিং এবং তেহরানের মধ্যে গভীর মিত্রতাপূর্ণ সম্পর্কেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এর আগে, গত শতকের আশির দশকের শেষ দিকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় বেইজিং থেকে তেহরানে সর্বশেষ চালানটি এসেছিল। সেবার তেহরানকে এইচওয়াই-২ সিল্কওয়ার্ম ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছিল বেইজিং।